Dhaka , Wednesday, 28 October 2026
ব্রেকিং নিউজ :
fa fa-square হাতিয়ায় শিক্ষার্থীদের পাশে উপজেলা প্রশাসন, বিতরণ করল ৩০০ স্কুল ব্যাগ fa fa-square দাম্পত্য কলহের জেরে কোম্পানীগঞ্জ থানার গেটের সামনে দুই পক্ষের মারামারি, আটক ৫ fa fa-square নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৪০ fa fa-square সেনবাগে সবজি তুলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নারীর মৃত্যু, মেয়ে গুরুতর আহত fa fa-square হাতিয়ায় ১৫ লাখ টাকার অবৈধ পামওয়েল জব্দ fa fa-square সুবর্ণচরে পুকুরে গোসলে নেমে দুই বোনের মৃত্যু fa fa-square নোয়াখালীতে সেনাবাহিনীর পোশাকে প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি, স্বর্ণ-টাকা লুট fa fa-square নোয়াখালীতে সেনাবাহিনীর পোশাকে প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি, স্বর্ণ-টাকা লুট fa fa-square নোয়াখালীর কবিরহাটে দুই শতাধিক পাখিসহ আটক ২, অবমুক্ত শতাধিক fa fa-square সেনবাগে নিজ ঘর থেকে মুদি দোকানির অর্ধগলিত ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

স্ত্রী-সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে নিউইয়র্কে প্রাণ হারালেন নোয়াখালীর সোহাগ,

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে উদ্ধার করতে গিয়ে গুরুতর দগ্ধ হওয়া নোয়াখালীর রফিকুল ইসলাম সোহাগ (৪৭) মারা গেছেন। দীর্ঘ ২১ দিন হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)-তে চিকিৎসাধীন থাকার পর স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাত ৮টা ৫৫ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

স্থানীয় সময় শনিবার জোহরের নামাজের পর ব্রুকলিনের বাইতুল মামুন মসজিদে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পরে নিউ জার্সিতে তাঁকে দাফন করা হবে।

জানা যায়, গত ২৬ জুন ভোর ৪টা ১৫ মিনিটের দিকে নিউইয়র্ক সিটির জ্যামাইকার ১৭২-১২, ৯১ অ্যাভিনিউয়ের একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন দুইতলা ভবনের বেজমেন্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত সোহাগের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায়।

নিহতের মামাতো ভাই মোহাম্মদ ফয়েজ জানান, সোহাগ পরিবারের সঙ্গে ওই বেজমেন্টে বসবাস করতেন। পুরো বেজমেন্ট থেকে বের হওয়ার জন্য মাত্র একটি পথ ছিল এবং সেখানে কোনো ফায়ার অ্যালার্মও ছিল না। তাঁর ভাষায়, “ফায়ার অ্যালার্ম থাকলে হয়তো আজ আমার ভাইকে হারাতে হতো না।”

তিনি আরও জানান, আগুন লাগার পর সোহাগ প্রথমে নিজে আগুনের মধ্য দিয়ে বেরিয়ে আসেন। পরে বাইরে থেকে একমাত্র জানালার কাঁচ ভেঙে ভেতরে আটকে থাকা স্ত্রী ঝরনা আক্তার এবং দুই ছেলে জিহাদ ও জুবায়েরকে একে একে নিরাপদে উদ্ধার করেন। তবে উদ্ধার অভিযানের সময় তিনি নিজে মারাত্মকভাবে দগ্ধ হন।

সোহাগের পারিবারিক বন্ধু জাহাঙ্গীর জানান, সোহাগের পরিবার মাত্র সাত থেকে আট মাস আগে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিল।

তিনি পেশায় একজন সাইকেল ডেলিভারিম্যান ছিলেন এবং প্রতিদিনের মতো ঘটনার রাতেও সাইকেলের বড় লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারিটি চার্জে দিয়ে ঘুমিয়েছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ওই ব্যাটারির বিস্ফোরণ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।

নিউইয়র্ক সিটি ফায়ার ডিপার্টমেন্ট জানায়, ৯১১ নম্বরে খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের ২১টি ইউনিটের ৭৯ জন ফায়ারফাইটার ও জরুরি চিকিৎসাসেবা (ইএমএস) কর্মী উদ্ধার ও আগুন নিয়ন্ত্রণে অংশ নেন। ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে উদ্ধার করে দ্রুত নাসাউ কাউন্টি মেডিক্যাল সেন্টারে নেওয়া হয়।

ফায়ার সার্ভিসের তথ্যমতে, অগ্নিকাণ্ডস্থলে একটি পোড়া লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি উদ্ধার করা হয়েছে। প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় ভোর ৪টা ৪৩ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে তদন্ত চলছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয়

হাতিয়ায় শিক্ষার্থীদের পাশে উপজেলা প্রশাসন, বিতরণ করল ৩০০ স্কুল ব্যাগ

স্ত্রী-সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে নিউইয়র্কে প্রাণ হারালেন নোয়াখালীর সোহাগ,

প্রকাশিত: 09:29:03 pm, Saturday, 18 July 2026

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে উদ্ধার করতে গিয়ে গুরুতর দগ্ধ হওয়া নোয়াখালীর রফিকুল ইসলাম সোহাগ (৪৭) মারা গেছেন। দীর্ঘ ২১ দিন হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)-তে চিকিৎসাধীন থাকার পর স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাত ৮টা ৫৫ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

স্থানীয় সময় শনিবার জোহরের নামাজের পর ব্রুকলিনের বাইতুল মামুন মসজিদে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পরে নিউ জার্সিতে তাঁকে দাফন করা হবে।

জানা যায়, গত ২৬ জুন ভোর ৪টা ১৫ মিনিটের দিকে নিউইয়র্ক সিটির জ্যামাইকার ১৭২-১২, ৯১ অ্যাভিনিউয়ের একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন দুইতলা ভবনের বেজমেন্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত সোহাগের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায়।

নিহতের মামাতো ভাই মোহাম্মদ ফয়েজ জানান, সোহাগ পরিবারের সঙ্গে ওই বেজমেন্টে বসবাস করতেন। পুরো বেজমেন্ট থেকে বের হওয়ার জন্য মাত্র একটি পথ ছিল এবং সেখানে কোনো ফায়ার অ্যালার্মও ছিল না। তাঁর ভাষায়, “ফায়ার অ্যালার্ম থাকলে হয়তো আজ আমার ভাইকে হারাতে হতো না।”

তিনি আরও জানান, আগুন লাগার পর সোহাগ প্রথমে নিজে আগুনের মধ্য দিয়ে বেরিয়ে আসেন। পরে বাইরে থেকে একমাত্র জানালার কাঁচ ভেঙে ভেতরে আটকে থাকা স্ত্রী ঝরনা আক্তার এবং দুই ছেলে জিহাদ ও জুবায়েরকে একে একে নিরাপদে উদ্ধার করেন। তবে উদ্ধার অভিযানের সময় তিনি নিজে মারাত্মকভাবে দগ্ধ হন।

সোহাগের পারিবারিক বন্ধু জাহাঙ্গীর জানান, সোহাগের পরিবার মাত্র সাত থেকে আট মাস আগে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিল।

তিনি পেশায় একজন সাইকেল ডেলিভারিম্যান ছিলেন এবং প্রতিদিনের মতো ঘটনার রাতেও সাইকেলের বড় লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারিটি চার্জে দিয়ে ঘুমিয়েছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ওই ব্যাটারির বিস্ফোরণ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।

নিউইয়র্ক সিটি ফায়ার ডিপার্টমেন্ট জানায়, ৯১১ নম্বরে খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের ২১টি ইউনিটের ৭৯ জন ফায়ারফাইটার ও জরুরি চিকিৎসাসেবা (ইএমএস) কর্মী উদ্ধার ও আগুন নিয়ন্ত্রণে অংশ নেন। ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে উদ্ধার করে দ্রুত নাসাউ কাউন্টি মেডিক্যাল সেন্টারে নেওয়া হয়।

ফায়ার সার্ভিসের তথ্যমতে, অগ্নিকাণ্ডস্থলে একটি পোড়া লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি উদ্ধার করা হয়েছে। প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় ভোর ৪টা ৪৩ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে তদন্ত চলছে।