নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় স্বামীর অনলাইন জুয়ায় আসক্তি ও পরকীয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়ে লিমা আক্তার শশী (২৬) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মোস্তফা কামাল বাদী হয়ে জামাতা আশিক হোসেন (৩২) এর বিরুদ্ধে চাটখিল থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) উপজেলার নোয়াখলা ইউনিয়নের সাধরখিল গ্রামের আহাম্মদ বেপারি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
মামলার অভিযোগ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাত বছর আগে উপজেলার সাধরখিল গ্রামের মো. আক্তার হোসেনের ছেলে আশিক হোসেনের সঙ্গে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার ধর্মপুর গ্রামের মোস্তফা কামালের মেয়ে লিমা আক্তার শশীর বিয়ে হয়। তাদের সংসারে আড়াই বছর বয়সী জমজ এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
নিহতের পরিবারের দাবি, বিয়ের পর থেকেই আশিক হোসেন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। কয়েক মাস ধরে তিনি মোবাইলভিত্তিক অনলাইন ক্যাসিনো জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়েন এবং অন্য এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এসব বিষয়ে লিমা প্রতিবাদ করলে দাম্পত্য কলহ বাড়তে থাকে এবং তার ওপর নির্যাতনের মাত্রাও বৃদ্ধি পায়।
অভিযোগ অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুরে স্বামীর বসতঘরের শয়নকক্ষে নির্যাতনের একপর্যায়ে লিমা আক্তার শশী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। খবর পেয়ে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে চাটখিল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিহতের বাবা মোস্তফা কামাল বলেন, “বিয়ের পর থেকেই আমার মেয়ের ওপর নানা অজুহাতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। আমার জামাতা মোবাইলে ক্যাসিনো জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়ে এবং অন্য এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে যায়। আমার মেয়ে এসবের প্রতিবাদ করায় তার ওপর অত্যাচার আরও বেড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে সে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে। আমি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল মোন্নাফ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। নিহতের বাবার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনার ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
