ইতালির রাজধানী রোমে নোয়াখালীর একই পরিবারের তিন সদস্যকে হত্যার ঘটনায় একমাত্র জীবিত সাক্ষী আহত আমির উদ্দিন অয়ন ইতালিয়ান পুলিশের কাছে গুরুত্বপূর্ণ জবানবন্দি দিয়েছেন। তার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তদন্তে নতুন মোড় এসেছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থল থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার হওয়ার পর ভিয়া মন্টিগ্লিওর ৩৫ নম্বর ভবনের সামনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে অয়ন উদ্ধারকারীদের বলেন, “সে আমার পুরো পরিবারকে হত্যা করেছে। আমি বাসায় ফিরে এই দৃশ্য দেখেছি। সে সবাইকে মেরে ফেলেছে।”
সে সময় চিকিৎসাকর্মীরা তার মাথা ও পায়ের গুরুতর ক্ষতের প্রাথমিক চিকিৎসা দিচ্ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, পরিবারের পরিচিত বাংলাদেশি নাগরিক শাহাদাত পরিবারের সদস্যদের হত্যার পর অয়নকেও হত্যার চেষ্টা করেন।
২০ বছর বয়সী অয়ন তদন্তকারীদের জানান, “সে আমাকে হত্যার জন্য অপেক্ষা করছিল। গত সপ্তাহে আমাদের মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল।” তিনি আরও বলেন, কাজ শেষে বাসায় ফিরে দেখেন শাহাদাত আগে থেকেই সেখানে অবস্থান করছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, “আমার পরিবারের সঙ্গেও তার ঝামেলা হয়েছিল।”
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অয়নের বক্তব্যকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করছেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে ব্যক্তিগত বা পারিবারিক বিরোধের বিষয়টি থাকতে পারে।
স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটিতে অয়নের মা ও অভিযুক্ত শাহাদাতকে ঘিরে ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন গুঞ্জন থাকলেও, এসব দাবির সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে এবং এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
অয়ন আরও জানান, তার বাবা কামাল উদ্দিন শাহাদাতকে কমিউনিটি থেকে দূরে রাখতে চেয়েছিলেন। তিনি একাধিকবার শাহাদাতের নাম উল্লেখ করে তাকে হামলাকারী হিসেবে শনাক্ত করেছেন।
ঘটনার বর্ণনায় অয়ন বলেন, “আমি কাজ শেষে বাড়ি ফিরি। প্রথম কয়েক সেকেন্ডে কিছুই বুঝতে পারিনি।”
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের ধারণা, হামলার পর শাহাদাত কয়েক ঘণ্টা ধরে বাসা পরিষ্কার করে হত্যার আলামত গোপনের চেষ্টা করেন। নিহত কামাল উদ্দিনের মরদেহ সোফা ও দেয়ালের মাঝখানে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। আর অয়নের মা জাহান ও ছোট বোন আরাওয়ার মরদেহ রাখা হয়েছিল বিছানার নিচে।
এ কারণে বাসায় প্রবেশের পর প্রথমে অয়ন কিছুই বুঝতে পারেননি। তবে বাবা-মায়ের কক্ষের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি বিছানার নিচ থেকে ছোট বোনের একটি পা বেরিয়ে থাকতে দেখেন। তখনই তিনি পরিবারের ওপর সংঘটিত ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি বুঝতে পারেন।
বর্তমানে ইতালিয়ান পুলিশ অভিযুক্ত শাহাদাতকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, নিহত পরিবারের বাড়ি নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চর কাঁকড়া ইউনিয়নে। অভিযুক্ত শাহাদাতের বাড়িও একই এলাকার পাশের বাড়িতে বলে জানা গেছে।
