নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় একটি সড়ক সংস্কারকাজে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, কাজ শেষ হওয়ার একদিনের মধ্যেই হাত দিয়ে টানলেই উঠে যাচ্ছে রাস্তার কার্পেটিং।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ঘটনাটি উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের নলুয়া গ্রামের ‘কালাম হুজুরের দোকান থেকে ইতালি মার্কেট’ সড়কে।
প্রায় আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কের সংস্কারকাজে প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে যাওয়ায় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কাজটি পান ঠিকাদার মো. চাষী। তবে শুরু থেকেই নিম্নমানের খোয়া, পাথর ও বিটুমিন ব্যবহার এবং শিডিউল অনুযায়ী কাজ না করার অভিযোগ ওঠে।
স্থানীয় ছাত্রদল নেতা আব্দুল হান্নান হৃদয় জানান, সংস্কারকাজ শুরুর পর থেকেই এলাকাবাসী একাধিকবার উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় ও ঠিকাদারপক্ষকে অনিয়মের বিষয়টি জানালেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সড়কের প্রায় ৯৮ শতাংশ কার্পেটিংয়ের কাজ শেষ হয়। পরদিন শুক্রবার সকালে এলাকাবাসী হাত দিয়ে টানতেই বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে আসে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
পরে ঠিকাদারপক্ষ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ায় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট এলজিইডির কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে নিম্নমানের কাজ করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, শিডিউল অনুযায়ী কাজ না করেই বিল উত্তোলনের চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. সাজু বলেন, “এই সড়কের কাজে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। নিম্নমানের বিটুমিন ব্যবহার করা হয়েছে এবং কার্পেটিংয়ের নির্ধারিত পুরুত্বও মানা হয়নি। ফলে হাত দিলেই কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। সরকারের কোটি টাকা ব্যয় হলেও দুর্নীতির কারণে সেই অর্থের সঠিক ব্যবহার হয়নি।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ঠিকাদার মো. চাষীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে কবিরহাট উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইসলাম হোসেন বলেন, “স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে আমি কয়েকবার কাজ পরিদর্শন করেছি। যে অভিযোগ উঠেছে, সেটিকে অভিযোগের পর্যায়ে দেখি না। কিছু উৎসুক মানুষ নিজেরাই কার্পেটিং তুলে ফেলেছে।
কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে কোনো তথ্য জানতে চাইলে তথ্য অধিকার আইনের আওতায় আবেদন করতে হবে।”
অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে নোয়াখালী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মাহফুজুল হোসাইন বলেন, “এখানে কোনো সিন্ডিকেটের বিষয় নেই। কোথাও কাজের গাফিলতি হয়ে থাকলে আমরা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।”
