কারও সঙ্গে অকারণে তর্কে জড়িয়ে পড়া নিছক বোকামি। কেউ যদি বলে, “পৃথিবী গোল নয়, লম্বা”, তাতেই হেসে সম্মতি জানিয়ে চলে আসাটাই অনেক বেশি বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ একটা সময় পর আপনি বুঝবেন, তর্ক করে মানুষের চিন্তা-ভাবনা বা বিশ্বাস বদলানো যায় না। তাই নিজের শান্তি নষ্ট না করে হাসিমুখে নিজের কাজ করে যাওয়াই শ্রেয়।
একটা সময়ের পর আরও বুঝতে পারবেন, বাইরের মানুষ তো দূরের কথা, খুব কাছের মানুষগুলোকেও কখনো পুরোপুরি নিজের মনের মতো করে পাওয়া যায় না। আপনি যেমনভাবে তাদের ভালোবাসা, গুরুত্ব কিংবা মূল্যায়ন আশা করেন, তারা ঠিক সেভাবে আপনাকে ভালোবাসবে না। কারণ প্রত্যেক মানুষ তার নিজের ইচ্ছা, বিবেচনা, অভিজ্ঞতা এবং দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী চলে। এটাই বাস্তবতা।
আপনার অনুভূতি, আপনার জীবনবোধ, আপনার চিন্তা-চেতনা একান্তই আপনার নিজস্ব। সেগুলো বুঝে নেওয়া বা মূল্য দেওয়া অন্য কারও দায়িত্ব নয়। এই সত্য যত দ্রুত মেনে নিতে পারবেন, তত কম আঘাত পাবেন।
একটা সময়ের পর উপলব্ধি হবে, অতিরিক্ত ভালো মানুষ হওয়ার চেষ্টা করে, বেশি আপনতা দেখিয়ে, বেশি দায়িত্ব নিয়ে কিংবা কাউকে অতিরিক্ত ভালোবেসে সবসময় কারও প্রিয় বা নির্ভরতার মানুষ হওয়া যায় না। মানুষ আপনাকে ঠিক ততটুকুই ভালোবাসবে, ততটুকুই গুরুত্ব দেবে, যতটুকু তার জীবনে আপনার প্রয়োজন, মূল্য বা স্বার্থ রয়েছে। তার বেশি নয়।
তখন আপনি শিখে যাবেন, প্রয়োজনের অতিরিক্ত কিছু করে যাওয়ার মধ্যে খুব বেশি লাভ নেই। যতটুকু দরকার, ততটুকুই যথেষ্ট।
একটা সময়ের পর আর কাউকে কিছু বোঝাতে বা নিজের মত চাপিয়ে দিতে ইচ্ছে করবে না। নিজেকেও সব রকম চাপ, প্রত্যাশা ও অপ্রয়োজনীয় বোঝা থেকে মুক্ত রাখতে মন চাইবে। কারণ তখন আপনি বুঝে যাবেন, কারও কাছ থেকে কিছু আশা করে রাখার মধ্যে সবচেয়ে বড় হতাশা লুকিয়ে থাকে।
তখন নিজের সামর্থ্যের মধ্যে যা করা সম্ভব, শুধু সেটুকুই করবেন। আর বাকিটা সৃষ্টিকর্তার ওপর ছেড়ে দেবেন।
সেই সময় আর খুব একটা গুরুত্ব পাবে না কে আপনাকে নিয়ে কী ভাবল, কে কী বলল বা বলল না। কারণ আপনি বুঝে যাবেন, প্রত্যেক মানুষ তার নিজস্ব মানসিকতা, অভিজ্ঞতা, স্বার্থ এবং দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে পৃথিবীকে দেখে।
তখন অন্যের মতামত অনেকটাই অর্থহীন হয়ে যায়। অজান্তেই মানুষের সঙ্গে এক ধরনের দূরত্ব তৈরি হয়। অনেক মানুষের ভিড়েও নিজের ভেতরে এক গভীর নিঃসঙ্গতা অনুভব করেন। চারপাশের মানুষের প্রতি দীর্ঘদিনের হতাশা, অভিমান আর অপূর্ণ প্রত্যাশা মিলেই তৈরি করে এক বিশাল শূন্যতা, যা সহজে পূরণ হয় না।
পুড়তে পুড়তে একদিন বুঝে যাবেন, পৃথিবীর কারও কাছে আপনার আর কোনো চাওয়া-পাওয়া বাকি নেই। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাগ, ক্ষোভ, অভিমান, বিরক্তি সবই ফিকে হয়ে যাবে।
অসংখ্য আঘাত আপনাকে ধীরে ধীরে নির্বিকার, শান্ত এবং নিরুত্তাপ করে তুলবে।
আর তখন আপনার সবচেয়ে কাছের মানুষ, সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বন্ধু এবং সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় হবে আপনি নিজেই।
এটাই জীবন। এটাই বাস্তবতা।
✍️ হিমেল আহাম্মেদ
