নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার জাহাজমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (আইসি) খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে এক কিশোরীকে (১২) একাধিকবার ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ধর্ষণের ঘটনায় এখনো কোনো বিচার পায়নি ভুক্তভোগী পরিবার। গত ২২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ভুক্তভোগী কিশোরী মোসাম্মৎ আফরিনা আক্তার টুনি সম্পূর্ণ সজ্ঞানে লিখিতভাবে এই জঘন্য অপরাধের জবানবন্দি দিলেও, আজ ১৩ জুন ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে বিচারের আশায় প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে অসহায় পরিবারটি।
জবানবন্দি থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরীর মা ও ভাই জাহাজমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের মেসে রান্নাবান্নার কাজ করার সুবাদে কিশোরীও সেখানে মাঝেমধ্যে যাতায়াত করত। তবে তদন্ত কেন্দ্রে নতুন আইসি খোরশেদ আলম যোগদানের পর থেকেই কিশোরীর ওপর তার কুদৃষ্টি পড়ে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, কিশোরী যখন স্কুলে বা বিকেলে দোকানে যেত, তখন আইসি খোরশেদ আলম তদন্ত কেন্দ্রের পাশের রাস্তার ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে প্রায়ই বাসার ৩য় তলার ব্যালকনি থেকে ইশারায় ডাকতেন।
প্রথম দিকে ভুক্তভোগী ভয়ে যেতে না চাইলে, পরবর্তীতে বাসার ঘর ঝাড়ু দেওয়া, কাপড় ধোয়া এবং বিছানা ঠিক করার অজুহাতে জোরপূর্বক ডেকে নেওয়া হতো।কিশোরীর দাবি, বাসায় ডেকে নিয়ে আইসি খোরশেদ আলম তাকে জোরপূর্বক জড়িয়ে ধরতেন এবং বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ (শারীরিক মেলামেশা) করেন।
কিশোরী এতে বাধা দিলে তাকে ও তার মাকে একেবারে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হতো। ধর্ষণের পর তাকে মুখ বন্ধ রাখার জন্য ৫০০ বা ১০০০ টাকা দিয়ে বিদায় করা হতো এবং “টাচ মোবাইল” কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হতো।
লোকলজ্জা ও সামাজিক মানসম্মানের ভয়ে ভুক্তভোগী কিশোরী প্রথমে বিষয়টি কাউকে জানায়নি।সর্বশেষ গত ০৫/০১/২০২৬ ইং তারিখে বিকেলে কিশোরীর মা আইসির বাসার দরজার সামনে গিয়ে ভুক্তভোগীকে ডাকলে, অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা তাকে ধমক দিয়ে বাথরুমে লুকিয়ে থাকতে বাধ্য করেন এবং তার মাকে মিথ্যা কথা বলে বিদায় করে দেন। পরবর্তীতে রাতে মা তাকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করলে কিশোরী সব সত্য ঘটনা খুলে বলে।
ভুক্তভোগী কিশোরী সম্পূর্ণ সজ্ঞানে ও স্বেচ্ছায় এই অপরাধের বিবরণ দিয়ে জবানবন্দিতে স্বাক্ষর করার পর দীর্ঘ দুই মাস পার হলেও অপরাধী পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক কোনো আইনগত ব্যবস্থা বা শাস্তি নিশ্চিত করা যায়নি। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একজন দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার এমন জঘন্য কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।
