একটি খুব সাধারণ প্রশ্ন হতে পারে, আপনি সবচেয়ে বেশি কাকে বা কীকে ভয় পান? সাপ, কুকুর, পুলিশ, ভূত, উত্তাল সাগর, অন্ধকার কিংবা উচ্চতা?
উত্তর ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু গভীরভাবে ভাবলে দেখা যায়, এসব ভয় আসলে এক জায়গায় গিয়ে মিলে। আর সেই জায়গাটির নাম মৃত্যু।
মানুষ সাপকে ভয় পায়, কারণ সাপের কামড়ে মৃত্যু হতে পারে।
উঁচু স্থানে দাঁড়াতে ভয় পায়, কারণ পড়ে গেলে মৃত্যু হতে পারে।
উত্তাল সাগর, ভয়ংকর রোগ, দুর্ঘটনা কিংবা অজানা বিপদ, সবকিছুর পেছনেই লুকিয়ে থাকে মৃত্যুভয়।
এক অর্থে, মানুষ বস্তু বা পরিস্থিতিকে নয়, ভয় পায় তার সম্ভাব্য পরিণতিকে। আর সেই পরিণতি হলো মৃত্যু।
কিন্তু একটি প্রশ্ন থেকেই যায়, মৃত্যু যখন অনিবার্য, তখন তাকে এত ভয় কেন?
হয়তো মানুষ মৃত্যুকে নয়, ভয় পায় মৃত্যুর পরের অজানা জগতকে।
ভয় পায় প্রিয়জনদের ছেড়ে যেতে। ভয় পায় অসমাপ্ত স্বপ্ন, অপূর্ণ ভালোবাসা আর না বলা কথাগুলোকে। মানুষ আসলে বাঁচতে চায়, তাই মৃত্যুকে ভয় পায়।
তবুও মৃত্যুই পৃথিবীর একমাত্র সত্য, যা ধনী-গরিব, রাজা-প্রজা, জ্ঞানী-মূর্খ, বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী সবার জন্য সমান।
ইসলামে বলা হয়েছে:
“কুল্লু নাফসিন যাইকাতুল মাউত” অর্থাৎ, “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।”
সুরা আলে ইমরান, আয়াত ১৮৫
হিন্দু ধর্মগ্রন্থ গীতায় বলা হয়েছে:
“জাতস্য হি ধ্রুবো মৃত্যুধ্রুবং জন্ম মৃতস্য চ। তস্মাদপরিহার্যেহর্থে ন ত্বং শোচিতুমর্হসি।”অধ্যায় ২, শ্লোক ২৭
অর্থাৎ, যে জন্মগ্রহণ করেছে তার মৃত্যু নিশ্চিত, আর যে মৃত্যুবরণ করেছে তার পুনর্জন্মও নিশ্চিত। তাই অনিবার্য বিষয় নিয়ে অতিরিক্ত শোক করা উচিত নয়।
বাইবেলে বলা হয়েছে:
“মানুষের জন্য একবার মৃত্যু নির্ধারিত, তারপর বিচার।”
Hebrews 9:27
তিনটি ধর্মের বাণীতেই একটি বিষয় স্পষ্ট, জন্মের সঙ্গে মৃত্যুর সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। পৃথিবীতে অনেক কিছুই অনিশ্চিত, কিন্তু মৃত্যু নিশ্চিত।
তাই মৃত্যুকে ভয় করে নয়, মৃত্যুর আগে কেমন জীবন কাটালাম, সেটিই হওয়া উচিত আমাদের সবচেয়ে বড় চিন্তা। কারণ জীবনের দৈর্ঘ্য নয়, মানুষের কর্ম, চরিত্র ও ভালোবাসাই তাকে মৃত্যুর পরও মানুষের হৃদয়ে বাঁচিয়ে রাখে।
