ঢাকারবিবার , ২৬ জুলাই ২০২৬
  1. Uncategorized
  2. অনুসন্ধানী প্রতিবেদন
  3. আইন বিচার
  4. আজ দেশজুড়ে
  5. আজকের সর্বশেষ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. কৃষি সংবাদ
  8. খাদ্য ও পুষ্টি
  9. খুলনা
  10. খেলাধুলা
  11. চট্টগ্রাম
  12. চাকরি-বাকরি
  13. ছড়া
  14. জাতীয়
  15. জাতীয়
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শিক্ষাছুটিতে নোবিপ্রবির ১২২ শিক্ষক, বিদেশে গিয়ে আর ফেরেননি ১৫ জন

নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাই ২৬, ২০২৬ ৭:২৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জন্য নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) শিক্ষকদের বিদেশমুখী হওয়ার প্রবণতা ক্রমেই বাড়ছে।

বিদেশে পিএইচডি করতে গিয়ে নির্ধারিত সময় শেষে দেশে না ফিরে অন্তত ১৫ জন শিক্ষক চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ৪২১ জন শিক্ষকের মধ্যে ১২২ জনই শিক্ষাছুটিতে রয়েছেন, যা মোট শিক্ষকের প্রায় ২৯ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতি তিনজন শিক্ষকের মধ্যে প্রায় একজনই বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে অবস্থান করছেন। এতে বিভিন্ন বিভাগে শিক্ষক সংকট দেখা দেওয়ার পাশাপাশি কর্মরত শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তর সূত্রে জানা যায়, শিক্ষাছুটিতে থাকা অধিকাংশ শিক্ষক বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পিএইচডি ও উচ্চতর গবেষণায় নিয়োজিত রয়েছেন।

৩১টি বিভাগ ও দুটি ইনস্টিটিউটের মধ্যে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে সর্বোচ্চ ১৩ জন শিক্ষক শিক্ষাছুটিতে আছেন। এরপর অর্থনীতি বিভাগে ৯ জন শিক্ষক রয়েছেন।

এছাড়া ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স (ফিমস), অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (এসিসিই), বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ডিবিএ) এবং বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং (বিজিই) বিভাগে ৭ জন করে শিক্ষক শিক্ষাছুটিতে রয়েছেন। কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসটিই), অ্যাপ্লাইড ম্যাথমেটিক্স এবং বাংলা বিভাগে ৬ জন করে, ফার্মেসি বিভাগ ও ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি (আইআইটি)তে ৫ জন করে এবং ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস (এমআইএস), ইংরেজি, এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট (ইএসডিএম), ফুড টেকনোলজি অ্যান্ড নিউট্রিশন সায়েন্স (এফটিএনএস), ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) ও বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি (বিএমবি) বিভাগে ৪ জন করে শিক্ষক বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন।

এছাড়া পরিসংখ্যান বিভাগ ও ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন সায়েন্সে (আইআইএস) ৩ জন করে, সমাজবিজ্ঞান, প্রাণীবিদ্যা, ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইসিই), শিক্ষা প্রশাসন এবং কৃষি বিভাগে ২ জন করে এবং ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট (টিএইচএম), শিক্ষা, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগে একজন করে শিক্ষক শিক্ষাছুটিতে রয়েছেন।

রেজিস্ট্রার দপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ছুটিতে থাকা ১২২ জন শিক্ষকের মধ্যে ২১ জন বিনাবেতনে রয়েছেন। অন্যদিকে, পিএইচডির নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও ৮ জন শিক্ষক এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেননি। তাঁদের মধ্যে একজনের বেতন বন্ধ থাকলেও বাকি সাতজন নিয়মিত বেতন-ভাতা পাচ্ছেন।

তথ্যমতে, বিদেশে পিএইচডি করতে গিয়ে নির্ধারিত সময় শেষে দেশে না ফিরে চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন অন্তত ১৫ জন শিক্ষক। সংশ্লিষ্টদের মতে, উন্নত গবেষণার পরিবেশ, উচ্চ বেতন-ভাতা, আন্তর্জাতিক কর্মক্ষেত্র এবং উন্নত জীবনযাত্রার সুযোগ-সুবিধা অনেক শিক্ষককে বিদেশেই স্থায়ী হতে উৎসাহিত করছে। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে কেউ দেশে ফেরেননি, এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

পিএইচডি শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে না এসে চাকরি ছেড়ে দেওয়া শিক্ষকদের মধ্যে সাতজনের কাছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মোট পাওনা রয়েছে ২ কোটি ১ লাখ ১৩ হাজার ৮২১ টাকা। পাওনাদার শিক্ষকেরা হলেন ফিমস বিভাগের সাবেক শিক্ষক ড. আহসান হাবিব, কৃষি বিভাগের সাবেক শিক্ষক আবু বক্কর ছিদ্দিক, ফার্মেসি বিভাগের সাবেক শিক্ষক হাসানুজ্জামান, এসিসিই বিভাগের সাবেক শিক্ষক শহিদুল ইসলাম, বিজিই বিভাগের সাবেক শিক্ষক খাদিজাতুল কুবরা, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক শিক্ষক জিনাত হোসেন এবং মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সাবেক শিক্ষক মেহেদী হাসান চৌধুরী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক জানান, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নের জন্য শিক্ষাছুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে দীর্ঘ সময় ধরে বিপুলসংখ্যক শিক্ষক অনুপস্থিত থাকা এবং অনেকের আর ফিরে না আসার প্রবণতা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। তাই উচ্চশিক্ষার সুযোগ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থ সংরক্ষণে কার্যকর নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানান তাঁরা।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার তামজিদ হোসাইন চৌধুরী বলেন, “যেসব শিক্ষকের কাছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পাওনা রয়েছে, তাঁদের বারবার চিঠি দেওয়া হচ্ছে। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। অনেক শিক্ষক চিঠি পাওয়ার পর পাওনা অর্থ পরিশোধও করছেন।”

উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, “৪২১ জন শিক্ষকের মধ্যে যদি ১২২ জন শিক্ষাছুটিতে থাকেন, তাহলে অনেক বিভাগে শিক্ষক সংকট দেখা দেয় এবং কর্মরত শিক্ষকদের ওপর কাজের চাপ বেড়ে যায়। আমরা এ বিষয়ে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের কথা ভাবছি এবং নতুন শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগও নিচ্ছি। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের স্বার্থে শিক্ষকদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ অব্যাহত রাখতে হবে।”

আমাদের সাইটে আমরা নিজস্ব সংবাদ তৈরির পাশাপাশি দেশের এবং বিশ্বের বিভিন্ন স্বনামধন্য সংবাদমাধ্যম থেকে গুরুত্বপূর্ণ খবর সংগ্রহ করে নির্ভুল সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। আমরা সবসময় তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা এবং সঠিকতা নিশ্চিত করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। তবে, যদি কোনো সংবাদ নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকে, তাহলে আমরা আপনাকে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি সংশ্লিষ্ট সংবাদ মাধ্যম বা নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করার জন্য। এই সাইটের সব ধরণের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও এবং ভিডিও কন্টেন্ট কপিরাইট আইন দ্বারা সুরক্ষিত। বিনা অনুমতিতে এই কন্টেন্ট ব্যবহারের প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং আইনত শাস্তিযোগ্য। আমরা আমাদের ব্যবহারকারীদের একটি সুরক্ষিত ও তথ্যবহুল অভিজ্ঞতা প্রদানের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের নিউজ সাইটের মাধ্যমে পাওয়া যেকোনো তথ্য ব্যবহারের আগে দয়া করে সেই তথ্যের উৎস যাচাই করতে ভুলবেন না। আপনাদের সমর্থন এবং সহযোগিতা আমাদের এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা। আমাদের সাথেই থাকুন, সর্বশেষ খবর এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য পেতে।
%d bloggers like this: