নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচি কার্যত সীমাবদ্ধ থেকেছে চার দেয়ালের মধ্যেই। জনসম্পৃক্ততা ও সচেতনতা বৃদ্ধির পরিবর্তে আয়োজনটি অনেকটাই আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (২৬ এপ্রিল) সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্যোগে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও পুষ্টিবিষয়ক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। তবে এ আয়োজন সম্পর্কে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি কিংবা সাধারণ জনগণ—কারও কাছেই পূর্বে কোনো তথ্য পৌঁছায়নি।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সীমিত পরিসরে কিছু শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে এ আয়োজন সম্পন্ন করা হয়। অনুষ্ঠানে পুষ্টির গুরুত্ব নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা হলেও, তা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে দৃশ্যমান কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি।
এ বিষয়ে স্থানীয় শিক্ষক ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা গেছে। তাদের মতে, জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের মূল লক্ষ্যই হলো জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা। কিন্তু এমন গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি যদি নীরবে ও সীমিত পরিসরে আয়োজন করা হয়, তাহলে এর কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।
গণমাধ্যমকর্মীরাও একই ধরনের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তারা বলেন, সরকারি এ ধরনের উদ্যোগে সংবাদমাধ্যমকে সম্পৃক্ত করা হলে তা দ্রুত বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে কোনো আমন্ত্রণ বা তথ্য সরবরাহ করা হয়নি, যা দুঃখজনক।
এ বিষয়ে জানতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা মো. সেলিমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সচেতন মহলের দাবি, জাতীয় দিবস ও সপ্তাহভিত্তিক কর্মসূচিগুলোকে কার্যকর ও অর্থবহ করতে হলে শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম এবং সাধারণ জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। তবেই এসব উদ্যোগের প্রকৃত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে।

