নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাট উপজেলার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসন এবং কৃষিজমিকে লবণাক্ততার হাত থেকে রক্ষার লক্ষ্যে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরফকিরা ইউনিয়নের বামনী নদীতে ক্লোজার বাঁধ নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্প সম্পন্ন হলে দুই উপজেলার প্রায় ৯ লাখ মানুষ উপকৃত হবেন এবং হাজার হাজার একর কৃষিজমি সুরক্ষিত হবে।
পাউবো বাস্তবায়িত ‘নোয়াখালী জেলার বামনী নদী অববাহিকার বন্যা ব্যবস্থাপনা ও নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় নির্মিত হচ্ছে এ ক্লোজার বাঁধ। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ করার লক্ষ্যে দিন-রাত কাজ চলছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে নোয়াখালীর বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। বিশেষ করে ২০২৪ ও ২০২৫ সালের বন্যার পর কয়েক মাস ধরে বিস্তীর্ণ এলাকা পানিবন্দি ছিল।
বামনী নদীতে ১৯-ভেন্ট রেগুলেটর নির্মাণ সম্পন্ন হলেও ক্লোজার বাঁধ না থাকায় জোয়ার-ভাটার প্রভাব অব্যাহত ছিল। ফলে লবণাক্ত পানি প্রবেশ, কৃষিজমির ক্ষতি এবং বসতবাড়ি ও সড়ক প্লাবিত হওয়ার মতো সমস্যা নিয়মিত দেখা দিত।
এসব সমস্যা সমাধানে গ্রহণ করা হয় বামনী নদী অববাহিকার বন্যা ব্যবস্থাপনা ও নিষ্কাশন উন্নয়ন প্রকল্প। প্রকল্পের আওতায় বামনী নদীতে ক্লোজার বাঁধ নির্মাণ, নদী খনন, বাঁধ অপসারণ এবং সুইসগেট নির্মাণের কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
প্রকল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো প্রায় ৪১৫ মিটার দীর্ঘ এবং প্রায় ১০ মিটার গভীর বামনী ক্লোজার বাঁধ। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ বাঁধ নির্মিত হলে কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাট উপজেলার প্রায় ১৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকার ৯ লাখ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। একই সঙ্গে প্রায় ২৮০ কোটি টাকার সম্পদ সুরক্ষিত হবে।
পাউবো সূত্র জানায়, প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে জোয়ার-ভাটার প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ, নদীভাঙন প্রতিরোধ, লবণাক্ততা হ্রাস, মিঠাপানি সংরক্ষণ, কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষিত হবে।
চলতি বছরের ১০ মার্চ পানিসম্পদমন্ত্রী শহিদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু যৌথভাবে প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
এরপর থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড (পিডিএল) এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড যৌথভাবে কাজ পরিচালনা করছে।
প্রকল্পে প্রয়োজনীয় জিওটিউব, জিওব্যাগ ও জিওটেক্সটাইল শিট সরবরাহের মাধ্যমে আরএফএল জিওটেক্সটাইলও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
প্রতিকূল আবহাওয়া, ভারী বর্ষণ এবং তীব্র জোয়ার-ভাটার মধ্যেও প্রকৌশলী, কর্মকর্তা, প্রযুক্তিবিদ ও শ্রমিকরা সমন্বিতভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, “প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও মাত্র তিন মাসে ক্লোজার বাঁধের মূল নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়ে নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পুরো প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করছি।”
নোয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রিফাত জামিল বলেন, “টেন্ডার প্রক্রিয়া ও অন্যান্য কারণে কিছু বিলম্ব হলেও জনস্বার্থে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। জনগণের দুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে চ্যালেঞ্জিং সময়ে কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
আশা করা যাচ্চে চলতি মাসের মধ্যেই ক্লোজার নির্মাণকাজ সম্পন্ন হবে।”
