নোয়াখালী জেলার সেনবাগ উপজেলায় মাদক সেবনের প্রতিবাদ করায় ৪ কিশোরের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়েছে। এতে আরাফাত হোসেন ফাহিম (১৬) নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থী নৃশংসভাবে খুন হয়েছে। গুরুতর আহত আরও তিন কিশোর বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
গতকাল বুধবার (১০ জুন) রাত ৮টার দিকে উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নে দেবীসিংপুর গ্রামে সোমবাইয়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর পরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে মূল আসামি মাদক কারবারি ও বিএনপি কর্মী হারুন অর রশিদকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে নবীপুর ইউনিয়নের দেবীসিংপুর গ্রামে সোমবাইয়া বাজারে গাঁজা সেবন করছিলেন হারুন মিয়া ও তার অনুসারীরা। এ সময় স্থানীয় ৪ কিশোর তাকে মাদক সেবনে বাঁধা দেয় এবং প্রতিবাদ জানায়। এতে চরম ক্ষিপ্ত হয়ে হারুন দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে ওই কিশোরদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
হারুনের এলোপাতাড়ি কোপে চার কিশোরই রক্তাক্ত জখম হয়। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত নোয়াখালী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ১৬ বছর বয়সী পরীক্ষার্থী আরাফাত হোসেন ফাহিমকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত বাকি তিনজনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন,
”মাদক সেবনের মতো একটি অপরাধের প্রতিবাদ করতে গিয়ে একটা তাজা প্রাণ ঝরে গেল। আমরা এই খুনি হারুনের দৃষ্টান্তমূলক ফাঁসি চাই।”
খুনি হারুনের রাজনৈতিক পরিচয় অনুসন্ধানে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত ৩৫ বছর বয়সী হারুন মিয়া শান্তিরহাট জিয়া স্মৃতি সংসদের সাবেক সভাপতি এবং স্থানীয় বিএনপির একজন সক্রিয় কর্মী।
এছাড়া সে বর্তমান ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবুল কাশেমের আপন ভাতিজা।
তার এই রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে এলাকায় সে দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবার ও সেবনের সাথে জড়িত ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর পরই সেনবাগ থানা পুলিশ এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পুলিশ জানায়, মূল হোতা ও মাদক ব্যবসায়ী হারুন মিয়াকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এই নৃশংস ঘটনার পর থেকে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং এই ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
