Dhaka , Wednesday, 28 October 2026
ব্রেকিং নিউজ :
fa fa-square হাতিয়ায় শিক্ষার্থীদের পাশে উপজেলা প্রশাসন, বিতরণ করল ৩০০ স্কুল ব্যাগ fa fa-square দাম্পত্য কলহের জেরে কোম্পানীগঞ্জ থানার গেটের সামনে দুই পক্ষের মারামারি, আটক ৫ fa fa-square নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৪০ fa fa-square সেনবাগে সবজি তুলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নারীর মৃত্যু, মেয়ে গুরুতর আহত fa fa-square হাতিয়ায় ১৫ লাখ টাকার অবৈধ পামওয়েল জব্দ fa fa-square সুবর্ণচরে পুকুরে গোসলে নেমে দুই বোনের মৃত্যু fa fa-square নোয়াখালীতে সেনাবাহিনীর পোশাকে প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি, স্বর্ণ-টাকা লুট fa fa-square নোয়াখালীতে সেনাবাহিনীর পোশাকে প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি, স্বর্ণ-টাকা লুট fa fa-square নোয়াখালীর কবিরহাটে দুই শতাধিক পাখিসহ আটক ২, অবমুক্ত শতাধিক fa fa-square সেনবাগে নিজ ঘর থেকে মুদি দোকানির অর্ধগলিত ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

বিরানি-কাচ্চি থেকে ফাস্টফুড, গ্রামগঞ্জের হোটেলেও বাড়ছে এমএসজির ব্যবহার
খাবারের স্বাদ বাড়াতে রেস্টুরেন্ট, ফাস্টফুড দোকান এমনকি গ্রামগঞ্জের ছোট হোটেলেও এখন ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে ‘টেস্টিং সল্ট’ বা মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট (এমএসজি)। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত এই রাসায়নিক মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। দীর্ঘদিন ব্যবহারে কিডনি বিকল, স্নায়বিক সমস্যা, স্থূলতা, স্মৃতিশক্তি হ্রাসসহ নানা জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ছে।

বিশেষ করে বিরানি, কাচ্চি, তেহারি, রোস্ট, রেজালা, চায়নিজ খাবার, ফাস্টফুড ও মুখরোচক রান্নায় স্বাদ বাড়াতে অধিক পরিমাণে টেস্টিং সল্ট ব্যবহার করা হচ্ছে।

শহরের পাশাপাশি এখন গ্রামগঞ্জের বাজারের হোটেল, ভ্রাম্যমাণ খাবারের দোকান ও রাস্তার পাশের রেস্টুরেন্টেও এর ব্যবহার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টেস্টিং সল্ট খাবারকে কৃত্রিমভাবে সুস্বাদু করে তোলে এবং মানুষের মস্তিষ্কে এমন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে যাতে খাবারের প্রতি আসক্তি তৈরি হয়।

শিশু-কিশোররাও এ ধরনের খাবারের প্রতি দ্রুত আকৃষ্ট হয়ে পড়ে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক আ ব ম ফারুক বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘চাইনিজ রেস্টুরেন্ট সিনড্রোম’ নামে একটি সমস্যার কথা উল্লেখ করেছে, যা অতিরিক্ত এমএসজি গ্রহণের সঙ্গে সম্পর্কিত। এর ফলে মাথাব্যথা, খিঁচুনি, অনিদ্রা, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া, মনোযোগ কমে যাওয়া, এমনকি আচরণগত পরিবর্তনও দেখা দিতে পারে।

তিনি আরও বলেন, শিশুদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত টেস্টিং সল্ট স্মৃতিশক্তি দুর্বল করে এবং লেখাপড়ায় অমনোযোগ সৃষ্টি করতে পারে। এজন্য বিজ্ঞানীরা একে “স্নায়ুবিষ” হিসেবেও আখ্যায়িত করছেন।
পুষ্টিবিদ ও বিএসটিআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. গোলাম মাওলা বলেন, টেস্টিং সল্টে কোনো পুষ্টিগুণ নেই। শুধুমাত্র মুখের স্বাদ বাড়ানোর জন্য এটি ব্যবহার করা হয়। অথচ এটি ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে কিডনি অকেজো হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।

যেসব খাবারে বেশি ব্যবহার হচ্ছে টেস্টিং সল্ট-

বিশেষজ্ঞ ও বাজার সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী নিম্নোক্ত খাবারগুলোতে সবচেয়ে বেশি টেস্টিং সল্ট ব্যবহার করা হচ্ছে—
*কাচ্চি বিরানি
*বিরানি
*তেহারি
*মোরগ পোলাও
*চিকেন ফ্রাই
*রোস্ট
*রেজালা
*গরুর কালাভুনা
*কাবাব
*চায়নিজ ভেজিটেবল
*ফ্রাইড রাইস
*নুডলস
*চাউমিন
*চিকেন বল
*প্রন বল
*সুইট অ্যান্ড সাওয়ার
*পিৎজা
*বার্গার
*স্যান্ডউইচ
*স্যুপ
*ফাস্টফুডের সস
*আলুর চিপস
*চানাচুর
*ক্র্যাকার বিস্কুট
*ভেজিটেবল বিস্কুট
*শিশুদের বিভিন্ন সিরিয়াল
*বেবি ফুড
*চকলেট
*রাস্তার ফুচকা ও চটপটির মসলা
*হোটেলের তরকারি ও ঝাল ভুনা খাবার সহ আরও অনেক।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনেক ব্যবসায়ী কম মসলায় বেশি স্বাদ আনতে এবং ক্রেতাকে খাবারের প্রতি আকৃষ্ট করতে অতিরিক্ত টেস্টিং সল্ট ব্যবহার করছেন। এতে সাধারণ মানুষ অজান্তেই প্রতিদিন ঝুঁকিপূর্ণ মাত্রায় এমএসজি গ্রহণ করছেন।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, টেস্টিং সল্টের পাশাপাশি বিভিন্ন খাবারে ক্ষতিকর টেক্সটাইল রংও ব্যবহার করা হচ্ছে। শরবত, কেক, কাবাব, চকলেটসহ নানা খাবারে এসব রং ব্যবহার করায় বদহজম, গ্যাস্ট্রিক, আলসার এমনকি ক্যান্সারের ঝুঁকিও বাড়ছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, খাবারে অতিরিক্ত ঝাল-মসলা ও কৃত্রিম স্বাদবর্ধক এড়িয়ে ঘরে তৈরি স্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে বাজার মনিটরিং জোরদার ও ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয়

হাতিয়ায় শিক্ষার্থীদের পাশে উপজেলা প্রশাসন, বিতরণ করল ৩০০ স্কুল ব্যাগ

প্রকাশিত: 09:43:39 pm, Sunday, 10 May 2026

বিরানি-কাচ্চি থেকে ফাস্টফুড, গ্রামগঞ্জের হোটেলেও বাড়ছে এমএসজির ব্যবহার
খাবারের স্বাদ বাড়াতে রেস্টুরেন্ট, ফাস্টফুড দোকান এমনকি গ্রামগঞ্জের ছোট হোটেলেও এখন ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে ‘টেস্টিং সল্ট’ বা মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট (এমএসজি)। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত এই রাসায়নিক মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। দীর্ঘদিন ব্যবহারে কিডনি বিকল, স্নায়বিক সমস্যা, স্থূলতা, স্মৃতিশক্তি হ্রাসসহ নানা জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ছে।

বিশেষ করে বিরানি, কাচ্চি, তেহারি, রোস্ট, রেজালা, চায়নিজ খাবার, ফাস্টফুড ও মুখরোচক রান্নায় স্বাদ বাড়াতে অধিক পরিমাণে টেস্টিং সল্ট ব্যবহার করা হচ্ছে।

শহরের পাশাপাশি এখন গ্রামগঞ্জের বাজারের হোটেল, ভ্রাম্যমাণ খাবারের দোকান ও রাস্তার পাশের রেস্টুরেন্টেও এর ব্যবহার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টেস্টিং সল্ট খাবারকে কৃত্রিমভাবে সুস্বাদু করে তোলে এবং মানুষের মস্তিষ্কে এমন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে যাতে খাবারের প্রতি আসক্তি তৈরি হয়।

শিশু-কিশোররাও এ ধরনের খাবারের প্রতি দ্রুত আকৃষ্ট হয়ে পড়ে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক আ ব ম ফারুক বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘চাইনিজ রেস্টুরেন্ট সিনড্রোম’ নামে একটি সমস্যার কথা উল্লেখ করেছে, যা অতিরিক্ত এমএসজি গ্রহণের সঙ্গে সম্পর্কিত। এর ফলে মাথাব্যথা, খিঁচুনি, অনিদ্রা, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া, মনোযোগ কমে যাওয়া, এমনকি আচরণগত পরিবর্তনও দেখা দিতে পারে।

তিনি আরও বলেন, শিশুদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত টেস্টিং সল্ট স্মৃতিশক্তি দুর্বল করে এবং লেখাপড়ায় অমনোযোগ সৃষ্টি করতে পারে। এজন্য বিজ্ঞানীরা একে “স্নায়ুবিষ” হিসেবেও আখ্যায়িত করছেন।
পুষ্টিবিদ ও বিএসটিআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. গোলাম মাওলা বলেন, টেস্টিং সল্টে কোনো পুষ্টিগুণ নেই। শুধুমাত্র মুখের স্বাদ বাড়ানোর জন্য এটি ব্যবহার করা হয়। অথচ এটি ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে কিডনি অকেজো হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।

যেসব খাবারে বেশি ব্যবহার হচ্ছে টেস্টিং সল্ট-

বিশেষজ্ঞ ও বাজার সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী নিম্নোক্ত খাবারগুলোতে সবচেয়ে বেশি টেস্টিং সল্ট ব্যবহার করা হচ্ছে—
*কাচ্চি বিরানি
*বিরানি
*তেহারি
*মোরগ পোলাও
*চিকেন ফ্রাই
*রোস্ট
*রেজালা
*গরুর কালাভুনা
*কাবাব
*চায়নিজ ভেজিটেবল
*ফ্রাইড রাইস
*নুডলস
*চাউমিন
*চিকেন বল
*প্রন বল
*সুইট অ্যান্ড সাওয়ার
*পিৎজা
*বার্গার
*স্যান্ডউইচ
*স্যুপ
*ফাস্টফুডের সস
*আলুর চিপস
*চানাচুর
*ক্র্যাকার বিস্কুট
*ভেজিটেবল বিস্কুট
*শিশুদের বিভিন্ন সিরিয়াল
*বেবি ফুড
*চকলেট
*রাস্তার ফুচকা ও চটপটির মসলা
*হোটেলের তরকারি ও ঝাল ভুনা খাবার সহ আরও অনেক।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনেক ব্যবসায়ী কম মসলায় বেশি স্বাদ আনতে এবং ক্রেতাকে খাবারের প্রতি আকৃষ্ট করতে অতিরিক্ত টেস্টিং সল্ট ব্যবহার করছেন। এতে সাধারণ মানুষ অজান্তেই প্রতিদিন ঝুঁকিপূর্ণ মাত্রায় এমএসজি গ্রহণ করছেন।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, টেস্টিং সল্টের পাশাপাশি বিভিন্ন খাবারে ক্ষতিকর টেক্সটাইল রংও ব্যবহার করা হচ্ছে। শরবত, কেক, কাবাব, চকলেটসহ নানা খাবারে এসব রং ব্যবহার করায় বদহজম, গ্যাস্ট্রিক, আলসার এমনকি ক্যান্সারের ঝুঁকিও বাড়ছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, খাবারে অতিরিক্ত ঝাল-মসলা ও কৃত্রিম স্বাদবর্ধক এড়িয়ে ঘরে তৈরি স্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে বাজার মনিটরিং জোরদার ও ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।