নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার প্রাণকেন্দ্র বসুরহাট বাজারে অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। প্রায় ৫০ হাজারের বেশি মানুষের বসবাস থাকা এই ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকায় গড়ে উঠেছে অসংখ্য বহুতল আবাসিক ভবন, হাসপাতাল, রেস্তোরাঁ ও শপিংমল।
তবে ৯০ভাগ ভবনেই নেই ন্যূনতম অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা।
সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, এলাকায় প্রায় শতাধিক ৬ থেকে ৭ তলা ভবন রয়েছে, যেগুলোর বেশিরভাগেই অগ্নি নির্বাপণ যন্ত্র (ফায়ার এক্সটিংগুইশার) নেই।
এমনকি অনেক ভবনে জরুরি নির্গমন পথ (ইমার্জেন্সি এক্সিট) বা ফায়ার সেফটি প্ল্যানও অনুপস্থিত।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, অনেক ভবনের চার পাশ এতটাই সরু ও জটিল যে সেখানে ফায়ার সার্ভিসের দমকল কর্মীদের প্রবেশ করা তো দূরের কথা, খালি হাতে একজন মানুষের প্রবেশ করাও কঠিন। ফলে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিক উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আইন কী বলছে-
বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (BNBC) এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের বিধিমালা অনুযায়ী, বহুতল ভবনে অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা, জরুরি নির্গমন পথ, ফায়ার অ্যালার্ম, পানির রিজার্ভার এবং প্রশস্ত প্রবেশপথ রাখা বাধ্যতামূলক। এছাড়া ভবন নির্মাণের আগে ও পরে ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র নেওয়ারও বিধান রয়েছে।
আইনের প্রয়োগে গাফিলতির অভিযোগ-
স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাব এবং কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে এসব ভবন নিয়ম না মেনেই গড়ে উঠেছে। ফলে আইন থাকলেও তার বাস্তব প্রয়োগ নেই বললেই চলে।
সম্ভাব্য ঝুঁকি ও জনদুর্ভোগ-
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকলে যেকোনো সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। অগ্নিকাণ্ডের ক্ষেত্রে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না হলে ব্যাপক প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তারা প্রতিনিয়ত আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছেন। অগ্নিকাণ্ডের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে নিরাপদে বের হওয়ার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় তাদের উদ্বেগ আরও বাড়ছে।
দ্রুত পদক্ষেপের দাবি
এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
তারা বসুরহাট বাজারের সব বহুতল ভবন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় অগ্নি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সচেতন মহল বলছে, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে বসুরহাটে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

