নোয়াখালীর কোম্পানিগঞ্জ উপজেলা বর্তমানে মাদকের বিস্তারকে কেন্দ্র করে এক গভীর সামাজিক সংকটের মুখোমুখি।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে মাদকের সহজলভ্যতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু, কিশোর ও তরুণদের মধ্যে মাদকাসক্তির ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা ও বিকাশ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সচেতন মহলের মতে, যে বয়সে একজন শিক্ষার্থীর বই-খাতা নিয়ে ব্যস্ত থাকার কথা, সেই বয়সেই অনেক তরুণ মাদকের সংস্পর্শে আসছে।
এর ফলে শুধু একজন ব্যক্তি নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পুরো পরিবার এবং সমাজ। মাদকাসক্তির কারণে চুরি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাং, মারামারি ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির অভিযোগও রয়েছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, এত বিস্তৃত মাদক বাণিজ্য কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং কারা এর নেপথ্যে রয়েছে? সাধারণ মানুষের দাবি, মাদক ব্যবসা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এসব চক্রের সদস্য, গডফাদার এবং তাদের সহযোগীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু খুচরা পর্যায়ের বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে মাদকের ভয়াবহতা রোধ করা সম্ভব নয়। মাদকের উৎস, সরবরাহ চেইন এবং আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধে সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, একটি জাতির ভবিষ্যৎ ধ্বংস করার অন্যতম উপায় হলো তরুণ প্রজন্মকে মাদকের দিকে ঠেলে দেওয়া। তাই কোম্পানিগঞ্জে মাদকের বিস্তার রোধে এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
সচেতন নাগরিকদের মতে, মাদক নির্মূলে প্রশাসনের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, অভিভাবক এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত ভূমিকা অপরিহার্য।
পাশাপাশি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও তাদের আশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
কোম্পানিগঞ্জবাসীর প্রত্যাশা, মাদকের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান গ্রহণ করে একটি নিরাপদ, সুস্থ ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বিকল্প নেই।
