নোয়াখালী সদর উপজেলার মাইজদী শহরের ফকিরপুর এলাকায় পাশাপাশি দুটি ভবনের ছয়টি ফ্ল্যাটে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোরচক্রের সদস্যরা ফ্ল্যাটগুলোর তালা ভেঙে প্রবেশ করে আনুমানিক ২৫ ভরি স্বর্ণালংকার, ১০ লাখ টাকা নগদ অর্থ, ল্যাপটপসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সোমবার (২ জুন) বিকেল থেকে রাতের কোনো এক সময়ে ফকিরপুর এলাকার আলম মঞ্জিল ও পার্শ্ববর্তী আলামিন মঞ্জিল ভবনে এ ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে আলম মঞ্জিলের চারটি এবং আলামিন মঞ্জিলের দুটি ফ্ল্যাটে চুরির ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ঈদ উপলক্ষে কেউ গ্রামের বাড়িতে এবং কেউ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বাসার বাইরে অবস্থান করছিলেন। এই সুযোগে সংঘবদ্ধ চোরচক্র ফ্ল্যাটগুলোর দরজার তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে।
পরে তারা আলমারি, ওয়্যারড্রোব ও অন্যান্য আসবাবপত্র ভেঙে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা, ল্যাপটপ ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যায়।
চুরির ঘটনায় ভবনের সিসিটিভি ফুটেজে এক অজ্ঞাত যুবককে কাঁধে ব্যাগ নিয়ে এলাকা ত্যাগ করতে দেখা গেছে। তবে এখনো তার পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
আলামিন মঞ্জিলের একটি ফ্ল্যাটে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ছাত্রীদের আবাসিক মেস থাকলেও ঈদের ছুটিতে তারা সবাই বাড়িতে থাকায় ওই ফ্ল্যাট থেকে কী পরিমাণ মালামাল খোয়া গেছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ফ্ল্যাটের ভেতরে আসবাবপত্র তছনছ অবস্থায় পাওয়া গেছে।
আলম মঞ্জিলের নিচতলার ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ী আব্দুল আউয়াল মানিক বলেন, “দুপুরে দাওয়াতে গিয়েছিলাম। ফিরে এসে দেখি বাসার তালা ভাঙা।
আমার পরিবারের প্রায় সাত ভরি স্বর্ণালংকার ও পাঁচ লাখ টাকা নগদ অর্থ নিয়ে গেছে চোরেরা। আমি প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।”
বাড়ির মালিক মাহমুদ হোসেন বলেন, “আমরাও বাসায় ছিলাম না। আমার নিজের ফ্ল্যাটেও চুরি হয়েছে। এতগুলো ফ্ল্যাটে একসঙ্গে চুরির ঘটনা কোনো একক ব্যক্তির পক্ষে ঘটানো সম্ভব নয়।
স্থানীয় কারও সহযোগিতায় সংঘবদ্ধ চক্র এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে ধারণা করছি।”
এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে।
নোয়াখালী সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

