Dhaka , Sunday, 13 September 2026
ব্রেকিং নিউজ :
fa fa-square সোনাইমুড়ীতে মাদকের তথ্য পেতে থানায় অভিযোগ বক্স স্থাপন fa fa-square তারেক রহমানের উদ্বোধনে দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ অভিযান, কোম্পানীগঞ্জেও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম fa fa-square জিপিএ-৫ পাওয়া ১২০ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিল কোম্পানীগঞ্জ ফ্রেন্ডস সোসাইটি fa fa-square নোয়াখালীতে দুই আবাসিক হোটেলে ডিবির অভিযান, আটক ১৮ fa fa-square কবিরহাটে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, পরিবারের দাবি হত্যা fa fa-square সেনবাগে চোরাই পিকআপ ও ডিমের চালান জব্দ, ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার fa fa-square নোয়াখালীর চাটখিলে ৬৯০ ইয়াবা ও ৩০০ গ্রাম গাঁজাসহ নারী আটক fa fa-square কোম্পানীগঞ্জে ১ কেজি ২৫০ গ্রাম গাঁজাসহ ৩ জন আটক fa fa-square প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে উদ্বোধন করলেন নোয়াখালীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান fa fa-square কোম্পানীগঞ্জে চালককে গলায় ছুরিকাঘাত করে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনায় গ্রেফতার ২,

হাতিয়ায় অস্বাভাবিক জোয়ারে ৮০০ মিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত, চরম ঝুঁকিতে লক্ষাধিক মানুষ

বৈরী আবহাওয়া ও মেঘনা নদী এবং বঙ্গোপসাগরের অস্বাভাবিক জোয়ারের তোড়ে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার চারটি ইউনিয়নে প্রায় ৮০০ মিটার বেড়িবাঁধ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েকটি স্থানে বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে একাধিক গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় লক্ষাধিক মানুষ চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিয়নগুলো হলো চরঈশ্বর, নলচিরা, চরকিং ও সোনাদিয়া। স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্ষার শুরু থেকেই ভারী বৃষ্টিপাত ও উত্তাল সাগরের ঢেউয়ে সুরক্ষা বাঁধগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে। সাম্প্রতিক অস্বাভাবিক জোয়ার পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।

নলচিরা ইউনিয়নের তুফানিয়া গ্রামের বাসিন্দা রোকেয়া বেগম বলেন,
“জোয়ারের ঢেউয়ের তোড়ে আমাদের এলাকার বেড়িবাঁধ একদম ছোট হয়ে গেছে। যেকোনো সময় এটি ভেঙে নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে। বাঁধ ভেঙে গেলে ঘরবাড়ি হারিয়ে পানিতে ভাসা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না। আমরা ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করেছি, কিন্তু এখন আমাদের দেখার কেউ নেই।”

একই এলাকার আব্দুল খালেক জানান, আসন্ন পূর্ণিমার জোয়ারে দুর্বল অংশগুলো সম্পূর্ণ ধসে পড়ার আশঙ্কায় অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বাড়িঘর ছেড়ে যেতে শুরু করেছে।
তিনি বলেন,

“রাতে জোয়ারের পানির প্রচণ্ড গর্জনে ঘুম আসে না। মনে হয়, এই বুঝি সব ভাসিয়ে নিয়ে গেল। নলচিরা ইউনিয়নের উত্তর পাশের ক্ষতিগ্রস্ত চারটি স্থানে দ্রুত টেকসই সংস্কার প্রয়োজন।”
চরঈশ্বর ইউনিয়নের আফাজিয়া এলাকার ইউপি সদস্য আসাদ উদ্দিন বলেন, কয়েকদিন আগে প্রায় ৩০ মিটার বাঁধ ভেঙে তিনটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছিল। পানি উন্নয়ন বোর্ড সাময়িকভাবে জিও ব্যাগ ফেললেও আশপাশের ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো এখনও সংস্কার করা হয়নি। অনেক জায়গায় বাঁধের উচ্চতা মাত্র এক ফুটের মতো রয়েছে, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক।

সোনাদিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম সোনাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মন্নান জানান, সরকারি উদ্যোগের অপেক্ষায় না থেকে স্থানীয়রা নিজেরাই গাছের ডাল, গুঁড়ি ও মাটিভর্তি বস্তা দিয়ে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করছেন। তবে বড় জোয়ার এলে এসব টিকবে না বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
এ বিষয়ে নোয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপবিভাগীয় প্রকৌশলী জামিল উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, ইতোমধ্যে পাউবোর একটি দল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে জেলা কার্যালয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

তিনি বলেন,
“এ বছর অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত এবং সাগরে অস্বাভাবিক জোয়ারের কারণে হাতিয়ার চারটি ইউনিয়নে প্রায় ৮০০ মিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বড় ধরনের ক্ষতি এড়াতে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ শুরু করার চেষ্টা চলছে।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয়

সোনাইমুড়ীতে মাদকের তথ্য পেতে থানায় অভিযোগ বক্স স্থাপন

হাতিয়ায় অস্বাভাবিক জোয়ারে ৮০০ মিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত, চরম ঝুঁকিতে লক্ষাধিক মানুষ

প্রকাশিত: 01:44:57 pm, Wednesday, 22 July 2026

বৈরী আবহাওয়া ও মেঘনা নদী এবং বঙ্গোপসাগরের অস্বাভাবিক জোয়ারের তোড়ে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার চারটি ইউনিয়নে প্রায় ৮০০ মিটার বেড়িবাঁধ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েকটি স্থানে বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে একাধিক গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় লক্ষাধিক মানুষ চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিয়নগুলো হলো চরঈশ্বর, নলচিরা, চরকিং ও সোনাদিয়া। স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্ষার শুরু থেকেই ভারী বৃষ্টিপাত ও উত্তাল সাগরের ঢেউয়ে সুরক্ষা বাঁধগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে। সাম্প্রতিক অস্বাভাবিক জোয়ার পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।

নলচিরা ইউনিয়নের তুফানিয়া গ্রামের বাসিন্দা রোকেয়া বেগম বলেন,
“জোয়ারের ঢেউয়ের তোড়ে আমাদের এলাকার বেড়িবাঁধ একদম ছোট হয়ে গেছে। যেকোনো সময় এটি ভেঙে নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে। বাঁধ ভেঙে গেলে ঘরবাড়ি হারিয়ে পানিতে ভাসা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না। আমরা ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করেছি, কিন্তু এখন আমাদের দেখার কেউ নেই।”

একই এলাকার আব্দুল খালেক জানান, আসন্ন পূর্ণিমার জোয়ারে দুর্বল অংশগুলো সম্পূর্ণ ধসে পড়ার আশঙ্কায় অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বাড়িঘর ছেড়ে যেতে শুরু করেছে।
তিনি বলেন,

“রাতে জোয়ারের পানির প্রচণ্ড গর্জনে ঘুম আসে না। মনে হয়, এই বুঝি সব ভাসিয়ে নিয়ে গেল। নলচিরা ইউনিয়নের উত্তর পাশের ক্ষতিগ্রস্ত চারটি স্থানে দ্রুত টেকসই সংস্কার প্রয়োজন।”
চরঈশ্বর ইউনিয়নের আফাজিয়া এলাকার ইউপি সদস্য আসাদ উদ্দিন বলেন, কয়েকদিন আগে প্রায় ৩০ মিটার বাঁধ ভেঙে তিনটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছিল। পানি উন্নয়ন বোর্ড সাময়িকভাবে জিও ব্যাগ ফেললেও আশপাশের ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো এখনও সংস্কার করা হয়নি। অনেক জায়গায় বাঁধের উচ্চতা মাত্র এক ফুটের মতো রয়েছে, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক।

সোনাদিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম সোনাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মন্নান জানান, সরকারি উদ্যোগের অপেক্ষায় না থেকে স্থানীয়রা নিজেরাই গাছের ডাল, গুঁড়ি ও মাটিভর্তি বস্তা দিয়ে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করছেন। তবে বড় জোয়ার এলে এসব টিকবে না বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
এ বিষয়ে নোয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপবিভাগীয় প্রকৌশলী জামিল উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, ইতোমধ্যে পাউবোর একটি দল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে জেলা কার্যালয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

তিনি বলেন,
“এ বছর অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত এবং সাগরে অস্বাভাবিক জোয়ারের কারণে হাতিয়ার চারটি ইউনিয়নে প্রায় ৮০০ মিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বড় ধরনের ক্ষতি এড়াতে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ শুরু করার চেষ্টা চলছে।”