আলেকজান্ডার-সোনাপুর-মান্নান নগর সড়কের প্রশস্তকরণ কাজকে কেন্দ্র করে খাল ও ফসলি জমি থেকে মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে—সড়ক ধস, বসতভিটার ক্ষতি এবং কৃষিজমির উর্বরতা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায়।
সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা যায়, নোয়াখালী অংশের প্রায় ১৮ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার ও প্রশস্তকরণের জন্য প্রায় ৬৬ কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। কাজটি বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রিয়াভেল বিল্ডার্স।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মান্নান নগর, হানিফ চেয়ারম্যান বাজার, নুরুপাটোয়ারীর হাট, সুবর্ণচরের চেওয়াখালী বাজার ও আজাদ নগর এলাকায় ভেকু দিয়ে খাল, ফসলি জমি, বাড়ির বাগান এমনকি মসজিদের জমি থেকেও মাটি কেটে সড়কের পাশে ফেলা হচ্ছে।
এতে খালের গভীরতা বেড়ে গিয়ে আশপাশের সড়ক ও বসতঘর ধসে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের খাল থেকে মাটি কাটার ফলে অর্ধশতাধিক পোল ও কালভার্ট ঝুঁকির মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে ফসলি জমির উর্বর মাটি নষ্ট হওয়ায় কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তারা জানান, একাধিকবার বাধা দিলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন তা উপেক্ষা করছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দরপত্র অনুযায়ী নির্ধারিত স্থান থেকে মাটি আনার কথা থাকলেও প্রভাব খাটিয়ে পাশের খাল ও ফসলি জমি থেকে মাটি কাটা হচ্ছে, যা স্পষ্ট অনিয়ম।
এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, ঠিকাদারকে ইতোমধ্যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—খাল ও ফসলি জমি থেকে কোনোভাবেই মাটি কাটা যাবে না।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানান, সরকারি খাল বা ফসলি জমি থেকে মাটি কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ম্যাজিস্ট্রেট পাঠিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী দ্রুত এই অনিয়ম বন্ধ এবং ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।

