Dhaka , Thursday, 5 November 2026
ব্রেকিং নিউজ :
fa fa-square বিআরটিএর অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর নোয়াখালীজুড়ে আলোচনা, তদন্তের আশ্বাস দুদকের fa fa-square নোয়াখালীতে নতুন ট্রাফিক কার্যালয়ের উদ্বোধন, স্বেচ্ছাসেবকদের সম্মাননা প্রদান, fa fa-square কোম্পানীগঞ্জের শেষ সীমানায় বৃদ্ধকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ, ঘটনাস্থল সোনাগাজী থানার আওতায় fa fa-square নোয়াখালীতে ৩ কেজি গাঁজাসহ নারী ও সহযোগী গ্রেপ্তার, সিএনজি জব্দ fa fa-square সামাজিক সংগঠন নোয়াখালী এর পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন ২০২৬ সম্পন্ন, নতুন নেতৃত্বে ৭ সংগঠন, fa fa-square সেনবাগে হিন্দু পরিবারের বসতঘরে অগ্নিকাণ্ড, ক্ষতি প্রায় ৫ লাখ টাকা fa fa-square সুবর্ণচরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে ড্রেজার আত্মসাতের অভিযোগ fa fa-square কোম্পানীগঞ্জ বসুরহাটে এক মাসে ৩ মোটরসাইকেল চুরি, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন আতঙ্কে ওষুধ কোম্পানির মার্কেটিং কর্মকর্তারা fa fa-square কোরআন প্রতিযোগিতায় কোম্পানীগঞ্জে চতুর্থ স্থান অর্জন করে-দারুল উলুম একাডেমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আদনান। fa fa-square কবিরহাটে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পোস্টার, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন!

বিআরটিএর অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর নোয়াখালীজুড়ে আলোচনা, তদন্তের আশ্বাস দুদকের

  • সংগৃহিত-
  • প্রকাশিত: 06:10:49 am, Thursday, 5 November 2026
  • 9 বার পড়া হয়েছে

নোয়াখালীতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কার্যালয়ে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য, সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি এবং সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর জেলাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযোগ খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

গত ৩ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে দৈনিক অগ্রযাত্রা পত্রিকায় ‘নোয়াখালীর বিআরটিএ ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষায় ঘুষ দিলেই পাস’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর একাধিক ভুক্তভোগী প্রতিবেদকের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁদের হয়রানি ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

লাইসেন্স পরীক্ষায় চুক্তি না করলে অকৃতকার্য হওয়ার অভিযোগ-

সোনাইমুড়ী উপজেলার কৌশল্যারবাগ গ্রামের শামসুল আলম অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ২৫ মার্চ তিনি নোয়াখালী বিআরটিএ কার্যালয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষায় অংশ নিতে যান। এ সময় কার্যালয়ের প্রথম ফটকে দায়িত্বরত এক ব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন, তিনি কারও সঙ্গে চুক্তি করে এসেছেন কি না।

শামসুল আলম জানান, তিনি চুক্তি করেননি বলে জানালে তাঁকে বলা হয়, নির্দিষ্ট দালালের সঙ্গে চুক্তি না করলে পরীক্ষায় পাস করা সম্ভব হবে না। তাঁর লার্নার রোল নম্বর ১২৭। পরে তিনি চুক্তি না করায় পরীক্ষায় অকৃতকার্য হন বলে অভিযোগ করেন।

একই উপজেলার ছনগাঁও গ্রামের তানজিদ হাসান অভিযোগ করেন, নোয়াখালী বিআরটিএ কার্যালয়ে ঘুষ ছাড়া কোনো কাজ হয় না। পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে সরকারি ফির অতিরিক্ত ১৩ থেকে ১৫ হাজার টাকা দিতে হয়।

তাঁর অভিযোগ, পরীক্ষা কেন্দ্রে মোটরসাইকেল চালানোর প্রশিক্ষণের জন্য প্রশিক্ষককে ১০০ টাকা এবং প্রাইভেট কারের জন্য ৩০০ টাকা দিতে হয়। এ ছাড়া পরীক্ষায় পাস করতে নির্দিষ্ট দালালদের সঙ্গে চুক্তি করতে হয়। চুক্তি না করলে পরীক্ষায় অকৃতকার্য করা হয়।

ফিটনেস সনদেও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ-

সোনাইমুড়ী উপজেলার শিমুলিয়া গ্রামের মাহফুজুর রহমান ভূঁইয়া জানান, তাঁর দুটি ট্রাক রয়েছে। ট্রাক দুটির ফিটনেস সনদ নিতে সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত তিন হাজার টাকা করে দিতে হয়। বাড়তি টাকা না দিলে বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নোয়াখালী বিআরটিএ কার্যালয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স, যানবাহনের ফিটনেস সনদ, লাইসেন্স নবায়ন, নতুন লাইসেন্স পরীক্ষা ও যানবাহনের মালিকানা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়। এমনকি পরীক্ষায় অকৃতকার্য ব্যক্তিদের টাকার বিনিময়ে পাস করিয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

দুদকের অভিযানেও অনিয়মের তথ্য পাওয়ার দাবি

অভিযোগ রয়েছে, নোয়াখালী বিআরটিএ কার্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে দালালচক্রের মাধ্যমে এসব অনিয়ম চলে আসছে। ২০২৫ সালের ৭ মে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এনফোর্সমেন্ট টিম নোয়াখালী বিআরটিএ কার্যালয়ে অভিযান চালায়। ওই অভিযানে অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, দূরদূরান্ত থেকে আসা ড্রাইভিং লাইসেন্সপ্রত্যাশীরা দালালদের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। কার্যালয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে দালালদের যোগসাজশ রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন সেবাপ্রার্থীরা।

অভিযোগ অনুযায়ী, সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মাহবুব রাব্বানী, মোটরযান পরিদর্শক মোশারফ হোসেন ও জিয়াউর রহমানের সঙ্গে দালালদের সখ্য রয়েছে। তাঁদের মাধ্যমে অবৈধ অর্থ লেনদেন হয়ে থাকে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়াই গাড়ির রেজিস্ট্রেশন দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ির রেজিস্ট্রেশন দেওয়ার বিধান না থাকলেও উৎকোচের বিনিময়ে লার্নার কার্ডধারীদের নিয়মিত রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

কার্যালয়ের আশপাশে দালালদের তৎপরতা

সরেজমিনে দেখা যায়, বিআরটিএ কার্যালয়ের হেল্প ডেস্কের আশপাশে ২০ থেকে ২৫ জন দালাল অবস্থান করছেন। এ ছাড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের ফটোকপির দোকানগুলোর আশপাশেও বেশ কয়েকজনকে দেখা যায়।

সেবাপ্রার্থীরা ফাইল নিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে দালালচক্রের সদস্যরা তাঁদের ফাইল হাতে নিয়ে নেন। নতুন কেউ এলে তাঁকে ডেকে বিআরটিএ কার্যালয়ের গলির মধ্যে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রথম দিনেই শিক্ষানবিশ (লার্নার) করার জন্য ফটোকপির দোকানে নিয়ে যান দালালরা।

একজন সেবাপ্রার্থীর সঙ্গে তিন থেকে চারজন দালাল দরদাম করেন। চুক্তি হলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের কয়েকটি ফটোকপির দোকানে নিয়ে আবেদন করানো হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগ খতিয়ে দেখার আশ্বাস দুদকের-

নোয়াখালী দুর্নীতি দমন কমিশনের উপপরিচালক ফারুক আহমেদ বলেন, বিআরটিএর অনিয়ম নিয়ে প্রকাশিত সংবাদটি তিনি দেখেছেন। এ বিষয়ে কয়েকবার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে নোয়াখালী বিআরটিএ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মাহবুব রাব্বানীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান বলে জানা গেছে। একপর্যায়ে গড়িমসি করেন। কার্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দালালদের তথ্য ও পরীক্ষার্থীদের ঠিকানা জানতে চাইলে তিনি তা দেননি।

অন্যদিকে বিআরটিএ সদর দপ্তরের চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমানের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

নোয়াখালী বিআরটিএ কার্যালয়ে সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

সুত্র-https://www.agrajatrapratidin.com/country/news/28795

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয়

বিআরটিএর অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর নোয়াখালীজুড়ে আলোচনা, তদন্তের আশ্বাস দুদকের

বিআরটিএর অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর নোয়াখালীজুড়ে আলোচনা, তদন্তের আশ্বাস দুদকের

প্রকাশিত: 06:10:49 am, Thursday, 5 November 2026

নোয়াখালীতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কার্যালয়ে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য, সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি এবং সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর জেলাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযোগ খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

গত ৩ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে দৈনিক অগ্রযাত্রা পত্রিকায় ‘নোয়াখালীর বিআরটিএ ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষায় ঘুষ দিলেই পাস’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর একাধিক ভুক্তভোগী প্রতিবেদকের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁদের হয়রানি ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

লাইসেন্স পরীক্ষায় চুক্তি না করলে অকৃতকার্য হওয়ার অভিযোগ-

সোনাইমুড়ী উপজেলার কৌশল্যারবাগ গ্রামের শামসুল আলম অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ২৫ মার্চ তিনি নোয়াখালী বিআরটিএ কার্যালয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষায় অংশ নিতে যান। এ সময় কার্যালয়ের প্রথম ফটকে দায়িত্বরত এক ব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন, তিনি কারও সঙ্গে চুক্তি করে এসেছেন কি না।

শামসুল আলম জানান, তিনি চুক্তি করেননি বলে জানালে তাঁকে বলা হয়, নির্দিষ্ট দালালের সঙ্গে চুক্তি না করলে পরীক্ষায় পাস করা সম্ভব হবে না। তাঁর লার্নার রোল নম্বর ১২৭। পরে তিনি চুক্তি না করায় পরীক্ষায় অকৃতকার্য হন বলে অভিযোগ করেন।

একই উপজেলার ছনগাঁও গ্রামের তানজিদ হাসান অভিযোগ করেন, নোয়াখালী বিআরটিএ কার্যালয়ে ঘুষ ছাড়া কোনো কাজ হয় না। পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে সরকারি ফির অতিরিক্ত ১৩ থেকে ১৫ হাজার টাকা দিতে হয়।

তাঁর অভিযোগ, পরীক্ষা কেন্দ্রে মোটরসাইকেল চালানোর প্রশিক্ষণের জন্য প্রশিক্ষককে ১০০ টাকা এবং প্রাইভেট কারের জন্য ৩০০ টাকা দিতে হয়। এ ছাড়া পরীক্ষায় পাস করতে নির্দিষ্ট দালালদের সঙ্গে চুক্তি করতে হয়। চুক্তি না করলে পরীক্ষায় অকৃতকার্য করা হয়।

ফিটনেস সনদেও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ-

সোনাইমুড়ী উপজেলার শিমুলিয়া গ্রামের মাহফুজুর রহমান ভূঁইয়া জানান, তাঁর দুটি ট্রাক রয়েছে। ট্রাক দুটির ফিটনেস সনদ নিতে সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত তিন হাজার টাকা করে দিতে হয়। বাড়তি টাকা না দিলে বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নোয়াখালী বিআরটিএ কার্যালয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স, যানবাহনের ফিটনেস সনদ, লাইসেন্স নবায়ন, নতুন লাইসেন্স পরীক্ষা ও যানবাহনের মালিকানা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়। এমনকি পরীক্ষায় অকৃতকার্য ব্যক্তিদের টাকার বিনিময়ে পাস করিয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

দুদকের অভিযানেও অনিয়মের তথ্য পাওয়ার দাবি

অভিযোগ রয়েছে, নোয়াখালী বিআরটিএ কার্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে দালালচক্রের মাধ্যমে এসব অনিয়ম চলে আসছে। ২০২৫ সালের ৭ মে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এনফোর্সমেন্ট টিম নোয়াখালী বিআরটিএ কার্যালয়ে অভিযান চালায়। ওই অভিযানে অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, দূরদূরান্ত থেকে আসা ড্রাইভিং লাইসেন্সপ্রত্যাশীরা দালালদের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। কার্যালয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে দালালদের যোগসাজশ রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন সেবাপ্রার্থীরা।

অভিযোগ অনুযায়ী, সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মাহবুব রাব্বানী, মোটরযান পরিদর্শক মোশারফ হোসেন ও জিয়াউর রহমানের সঙ্গে দালালদের সখ্য রয়েছে। তাঁদের মাধ্যমে অবৈধ অর্থ লেনদেন হয়ে থাকে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়াই গাড়ির রেজিস্ট্রেশন দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ির রেজিস্ট্রেশন দেওয়ার বিধান না থাকলেও উৎকোচের বিনিময়ে লার্নার কার্ডধারীদের নিয়মিত রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

কার্যালয়ের আশপাশে দালালদের তৎপরতা

সরেজমিনে দেখা যায়, বিআরটিএ কার্যালয়ের হেল্প ডেস্কের আশপাশে ২০ থেকে ২৫ জন দালাল অবস্থান করছেন। এ ছাড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের ফটোকপির দোকানগুলোর আশপাশেও বেশ কয়েকজনকে দেখা যায়।

সেবাপ্রার্থীরা ফাইল নিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে দালালচক্রের সদস্যরা তাঁদের ফাইল হাতে নিয়ে নেন। নতুন কেউ এলে তাঁকে ডেকে বিআরটিএ কার্যালয়ের গলির মধ্যে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রথম দিনেই শিক্ষানবিশ (লার্নার) করার জন্য ফটোকপির দোকানে নিয়ে যান দালালরা।

একজন সেবাপ্রার্থীর সঙ্গে তিন থেকে চারজন দালাল দরদাম করেন। চুক্তি হলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের কয়েকটি ফটোকপির দোকানে নিয়ে আবেদন করানো হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগ খতিয়ে দেখার আশ্বাস দুদকের-

নোয়াখালী দুর্নীতি দমন কমিশনের উপপরিচালক ফারুক আহমেদ বলেন, বিআরটিএর অনিয়ম নিয়ে প্রকাশিত সংবাদটি তিনি দেখেছেন। এ বিষয়ে কয়েকবার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে নোয়াখালী বিআরটিএ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মাহবুব রাব্বানীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান বলে জানা গেছে। একপর্যায়ে গড়িমসি করেন। কার্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দালালদের তথ্য ও পরীক্ষার্থীদের ঠিকানা জানতে চাইলে তিনি তা দেননি।

অন্যদিকে বিআরটিএ সদর দপ্তরের চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমানের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

নোয়াখালী বিআরটিএ কার্যালয়ে সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

সুত্র-https://www.agrajatrapratidin.com/country/news/28795