Dhaka , Tuesday, 15 September 2026
ব্রেকিং নিউজ :
fa fa-square কোম্পানীগঞ্জে সালিশে শাহীন হত্যা, ১৪ বছর পর আদালতের রায়: একজনের যাবজ্জীবন fa fa-square নোয়াখালীতে নিষিদ্ধ যুবলীগের ঝটিকা মিছিল, আটক ৩ fa fa-square নোয়াখালীর হাতিয়ায় আবারও শ্রেণীকক্ষে অসুস্থ ২১ শিক্ষার্থী fa fa-square নোবিপ্রবিতে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত fa fa-square সেনবাগে মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশের গোপন অভিযোগ বক্স স্থাপন fa fa-square কোম্পানীগঞ্জে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ৬ জন আটক, অস্ত্র-সরঞ্জামসহ প্রাইভেটকার জব্দ fa fa-square বেগমগঞ্জের আবাসিক হোটেল এখন অপরাধীদের অভয়ারণ্য fa fa-square চট্টগ্রাম থেকে ৪১ দিনের শিশু চুরি, নোয়াখালীর সুবর্ণচর থেকে উদ্ধার fa fa-square সোনাইমুড়ীতে মাদকের তথ্য পেতে থানায় অভিযোগ বক্স স্থাপন fa fa-square তারেক রহমানের উদ্বোধনে দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ অভিযান, কোম্পানীগঞ্জেও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম

বেগমগঞ্জের আবাসিক হোটেল এখন অপরাধীদের অভয়ারণ্য

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী পৌর এলাকার কয়েকটি আবাসিক হোটেলকে ঘিরে বাড়ছে নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ। অসামাজিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি মাদক সেবন ও কারবার, অস্ত্র লেনদেনসহ বিভিন্ন অপরাধে এসব হোটেল ব্যবহৃত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাদের দাবি, নিয়মিত অভিযান ও গ্রেপ্তারের পরও বন্ধ হচ্ছে না এসব কর্মকাণ্ড।

স্থানীয়দের অভিযোগ, চৌমুহনী বাজারের কয়েকটি আবাসিক হোটেল দীর্ঘদিন ধরে অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এসব হোটেলে নিয়মিত নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবনের আসর বসে বলেও অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে নারী ও মাদককেন্দ্রিক একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে বলে দাবি তাদের।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে বিভিন্ন সময়ে এসব হোটেলে অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযানে অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে নারী-পুরুষকে আটক এবং অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনাও ঘটেছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযানে অনেক সময় মাঠপর্যায়ের লোকজন গ্রেপ্তার হলেও মূল হোতারা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

সাম্প্রতিক কয়েকটি অভিযান

গত ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ দুপুরে চৌমুহনী বাজারের রিলাক্স আবাসিক হোটেল ও রাজ আবাসিক হোটেলে অভিযান চালায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে ৬ জন পুরুষ ও ১২ জন নারীকে আটক করা হয়।

এর আগে ৩০ আগস্ট ২০২৬ চৌমুহনী বাজারের মিয়ামী ও স্কাইভিউ আবাসিক হোটেলে অভিযান চালায় ডিবি। সেখান থেকে অসামাজিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে ৪ নারী ও ৪ পুরুষকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গত ২৫ জুন চৌমুহনী বাজারের ডালিয়া মার্কেটের পঞ্চম তলায় অবস্থিত হোটেল রাজে অভিযান চালিয়ে ১৪ জন নারী-পুরুষকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। তাদের মধ্যে সাতজন নারী ও সাতজন পুরুষ ছিলেন।

এ ছাড়া ২ জানুয়ারি রাতে চৌমুহনী পূর্ববাজারের হোটেল রিয়াদে অভিযান চালিয়ে আগ্নেয়াস্ত্রসহ বাসু ও রাসেল নামে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও দুই রাউন্ড কার্তুজ জব্দ করা হয়।

রেজিস্ট্রার নিয়ে প্রশ্ন

স্থানীয়দের দাবি, আবাসিক হোটেলগুলোতে অবস্থানকারী বোর্ডারদের তথ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে যথাযথ নিয়ম মানা হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে আগত ব্যক্তিদের তথ্য রেজিস্টারে নথিভুক্ত করা হয় না বলেও অভিযোগ রয়েছে। ফলে অপরাধীরা সহজেই পরিচয় গোপন করে এসব হোটেলে অবস্থান করার সুযোগ পাচ্ছে।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, হোটেল মালিক, ম্যানেজার ও কর্মচারীদের একটি অংশের সহযোগিতা ছাড়া এ ধরনের কর্মকাণ্ড দীর্ঘদিন ধরে চলা সম্ভব নয়। পাশাপাশি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এসব বেআইনি কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।

নজরদারি বাড়ানোর দাবি

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দিনের পর দিন এ ধরনের কর্মকাণ্ড চলতে থাকলে চৌমুহনী বাজারের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। তারা আবাসিক হোটেলগুলোতে নিয়মিত নজরদারি, বোর্ডারদের তথ্য যাচাই এবং অভিযোগের সত্যতা পেলে হোটেল মালিক ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান বলেন, “নোয়াখালী ডিবি ও বেগমগঞ্জ মডেল থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কয়েকবার অভিযান চালিয়ে আটক করা হয়েছে। পুলিশের নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।”

বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কায়েসুর রহমান বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। এটি একটি সামাজিক ব্যাধি। চৌমুহনী বাজারের আবাসিক হোটেলগুলোর ওপর প্রশাসনের নজরদারি রয়েছে।”

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, শুধু অভিযান চালিয়ে নয়, এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত মূল ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং আবাসিক হোটেলগুলোর কার্যক্রমে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয়

কোম্পানীগঞ্জে সালিশে শাহীন হত্যা, ১৪ বছর পর আদালতের রায়: একজনের যাবজ্জীবন

বেগমগঞ্জের আবাসিক হোটেল এখন অপরাধীদের অভয়ারণ্য

প্রকাশিত: 04:15:11 am, Monday, 14 September 2026

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী পৌর এলাকার কয়েকটি আবাসিক হোটেলকে ঘিরে বাড়ছে নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ। অসামাজিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি মাদক সেবন ও কারবার, অস্ত্র লেনদেনসহ বিভিন্ন অপরাধে এসব হোটেল ব্যবহৃত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাদের দাবি, নিয়মিত অভিযান ও গ্রেপ্তারের পরও বন্ধ হচ্ছে না এসব কর্মকাণ্ড।

স্থানীয়দের অভিযোগ, চৌমুহনী বাজারের কয়েকটি আবাসিক হোটেল দীর্ঘদিন ধরে অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এসব হোটেলে নিয়মিত নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবনের আসর বসে বলেও অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে নারী ও মাদককেন্দ্রিক একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে বলে দাবি তাদের।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে বিভিন্ন সময়ে এসব হোটেলে অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযানে অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে নারী-পুরুষকে আটক এবং অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনাও ঘটেছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযানে অনেক সময় মাঠপর্যায়ের লোকজন গ্রেপ্তার হলেও মূল হোতারা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

সাম্প্রতিক কয়েকটি অভিযান

গত ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ দুপুরে চৌমুহনী বাজারের রিলাক্স আবাসিক হোটেল ও রাজ আবাসিক হোটেলে অভিযান চালায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে ৬ জন পুরুষ ও ১২ জন নারীকে আটক করা হয়।

এর আগে ৩০ আগস্ট ২০২৬ চৌমুহনী বাজারের মিয়ামী ও স্কাইভিউ আবাসিক হোটেলে অভিযান চালায় ডিবি। সেখান থেকে অসামাজিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে ৪ নারী ও ৪ পুরুষকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গত ২৫ জুন চৌমুহনী বাজারের ডালিয়া মার্কেটের পঞ্চম তলায় অবস্থিত হোটেল রাজে অভিযান চালিয়ে ১৪ জন নারী-পুরুষকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। তাদের মধ্যে সাতজন নারী ও সাতজন পুরুষ ছিলেন।

এ ছাড়া ২ জানুয়ারি রাতে চৌমুহনী পূর্ববাজারের হোটেল রিয়াদে অভিযান চালিয়ে আগ্নেয়াস্ত্রসহ বাসু ও রাসেল নামে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও দুই রাউন্ড কার্তুজ জব্দ করা হয়।

রেজিস্ট্রার নিয়ে প্রশ্ন

স্থানীয়দের দাবি, আবাসিক হোটেলগুলোতে অবস্থানকারী বোর্ডারদের তথ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে যথাযথ নিয়ম মানা হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে আগত ব্যক্তিদের তথ্য রেজিস্টারে নথিভুক্ত করা হয় না বলেও অভিযোগ রয়েছে। ফলে অপরাধীরা সহজেই পরিচয় গোপন করে এসব হোটেলে অবস্থান করার সুযোগ পাচ্ছে।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, হোটেল মালিক, ম্যানেজার ও কর্মচারীদের একটি অংশের সহযোগিতা ছাড়া এ ধরনের কর্মকাণ্ড দীর্ঘদিন ধরে চলা সম্ভব নয়। পাশাপাশি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এসব বেআইনি কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।

নজরদারি বাড়ানোর দাবি

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দিনের পর দিন এ ধরনের কর্মকাণ্ড চলতে থাকলে চৌমুহনী বাজারের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। তারা আবাসিক হোটেলগুলোতে নিয়মিত নজরদারি, বোর্ডারদের তথ্য যাচাই এবং অভিযোগের সত্যতা পেলে হোটেল মালিক ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান বলেন, “নোয়াখালী ডিবি ও বেগমগঞ্জ মডেল থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কয়েকবার অভিযান চালিয়ে আটক করা হয়েছে। পুলিশের নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।”

বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কায়েসুর রহমান বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। এটি একটি সামাজিক ব্যাধি। চৌমুহনী বাজারের আবাসিক হোটেলগুলোর ওপর প্রশাসনের নজরদারি রয়েছে।”

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, শুধু অভিযান চালিয়ে নয়, এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত মূল ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং আবাসিক হোটেলগুলোর কার্যক্রমে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।