নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের শেষ সীমানা ও ফেনীর সোনাগাজী থানা এলাকার ছোট ধলি ব্রিজ সংলগ্ন স্থানে হুমায়ন কবির (৫৮) নামে এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন নিহতের ছেলে মিজানুর রহমান।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২ নভেম্বর সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ছোটধলী বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। লোহার রড, ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা দিয়ে হামলা চালিয়ে হুমায়ন কবিরকে গুরুতর আহত করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহতের ছেলে মিজানুর রহমানের অভিযোগ, তাঁর বাবা এলাকার কয়েকজনের অন্যায় কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে ঘটনার দিন মুছাপুরের জিন্না মাঝির বাড়ির নূর আমিন ওরফে নূর আলম (৩০), শুকুর (২২) এবং তাঁদের বাবা মো. ইলিয়াছ (৫৫) আরও ২-৩ জনকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর বাবার ওপর হামলা চালান।
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা লোহার রড, ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা দিয়ে হুমায়ন কবিরকে মারধর করেন। এতে তাঁর মাথা ও মুখে গুরুতর জখম হয়। একপর্যায়ে তাঁকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয়। এ সময় তাঁর শার্টের পকেটে থাকা মহিষ বিক্রির বায়নার ১৫ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় হুমায়ন কবিরকে উদ্ধার করে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় নেওয়া হয়। পরে উত্তরার বাংলাদেশ ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
মিজানুর রহমানের অভিযোগ, হামলাকারীরা মামলা করলে তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে, ঘটনার খবর পেয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান ও গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনে জানা যায়, ঘটনাস্থলটি কোম্পানীগঞ্জ থানার আওতাধীন নয়, বরং ফেনীর সোনাগাজী থানার আওতাধীন।
এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান নিহতের পরিবারকে সোনাগাজী থানায় যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় আনতে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
তবে এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বক্তব্য এবং সোনাগাজী থানা পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পর প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।


হিমেল আহাম্মেদ 














