Dhaka , Wednesday, 28 October 2026
ব্রেকিং নিউজ :
fa fa-square নোয়াখালীতে কমিটি অনুমোদনের সাড়ে ৪ ঘণ্টার মধ্যে এনসিপি নেতার পদত্যাগ fa fa-square নোয়াখালীতে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত fa fa-square সুবর্ণচরে স্ত্রীর স্বজনদের বিরুদ্ধে স্বামীকে মারধরের অভিযোগ, নিরাপত্তা চেয়ে থানায় আবেদন fa fa-square হাতিয়ায় শিক্ষার্থীদের পাশে উপজেলা প্রশাসন, বিতরণ করল ৩০০ স্কুল ব্যাগ fa fa-square দাম্পত্য কলহের জেরে কোম্পানীগঞ্জ থানার গেটের সামনে দুই পক্ষের মারামারি, আটক ৫ fa fa-square নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৪০ fa fa-square সেনবাগে সবজি তুলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নারীর মৃত্যু, মেয়ে গুরুতর আহত fa fa-square হাতিয়ায় ১৫ লাখ টাকার অবৈধ পামওয়েল জব্দ fa fa-square সুবর্ণচরে পুকুরে গোসলে নেমে দুই বোনের মৃত্যু fa fa-square নোয়াখালীতে সেনাবাহিনীর পোশাকে প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি, স্বর্ণ-টাকা লুট

সোনাইমুড়ীতে হেযবুত তওহীদের দুই সদস্য হত্যা: ১০ বছরেও বিচার হয়নি, মামলা প্রত্যাহারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন।

নিজস্ব প্রতিনিধি:নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে হেযবুত তওহীদের দুই সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার এক দশক পেরিয়ে গেলেও বিচার না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এই ঘটনায় দায়ের করা কয়েকটি মামলাকে রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তেরও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন তারা।

শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল ১১টায় সোনাইমুড়ী উপজেলার শহীদি জামে মসজিদ কমপ্লেক্সের হলরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ ও দাবি তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন হেযবুত তওহীদের সর্বোচ্চ নেতা ইমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম। তিনি বলেন, ২০১৬ সালের ১৪ মার্চ উপজেলার পোরকরা গ্রামে হেযবুত তওহীদের সদস্যদের বাড়িঘরে হামলা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ এবং দুই সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনা ঘটে।

তার দাবি, ওইদিন একটি উগ্রবাদী গোষ্ঠী গুজব ও অপপ্রচার ছড়িয়ে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষকে উস্কে দিয়ে সংগঠনের সদস্যদের বাড়িতে হামলা চালায়।

হামলাকারীরা নির্মাণাধীন একটি মসজিদকে গির্জা বলে প্রচার করে সেটি ভাঙচুর করে। পাশাপাশি কয়েকটি বাড়িতে লুটপাট চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

তিনি অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা সংগঠনের সদস্য রুবেল ও সোলায়মান খোকনকে প্রকাশ্যে জবাই করে হত্যা করে। হত্যার আগে তাদের ওপর নৃশংস নির্যাতন চালানো হয় এবং পরে লাশে আগুন দিয়ে আলামত নষ্টের চেষ্টা করা হয়।

ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পার হলেও এখনো পর্যন্ত মামলার কার্যকর তদন্ত বা বিচার শুরু হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, ঘটনার প্রায় দুই বছর পর পূর্ববর্তী সরকারের আমলে মামলা দায়ের করা হলেও অধিকাংশ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। এমনকি কাউকে রিমান্ডেও নেওয়া হয়নি।

ইমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম বলেন, “সম্প্রতি আমরা জানতে পেরেছি যে, সরকারের সিদ্ধান্তে কিছু মামলাকে রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রত্যাহারের তালিকায় রাখা হয়েছে। যার মধ্যে এই ঘটনার জি আর-৬১৭/১৬, জি আর-৮১২/১৬, জি আর-৬৮১/১৬ ও জি আর-৮৬৬/১৬ নম্বর মামলাগুলোও রয়েছে। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক।”

তিনি দাবি করেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ছবি, ভিডিও ও অডিওসহ বিভিন্ন প্রমাণ আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। তাই দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে নিহতদের পরিবারের সদস্যরা জানান, এক দশক ধরে তারা ন্যায়বিচারের আশায় আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। কিন্তু এখনো কোনো বিচার না হওয়ায় তারা চরম হতাশা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

এসময় ভুক্তভোগী পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্যও সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক, নিহত রুবেল ও সোলায়মান খোকনের পরিবারের সদস্য এবং ঘটনার সময় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয়

নোয়াখালীতে কমিটি অনুমোদনের সাড়ে ৪ ঘণ্টার মধ্যে এনসিপি নেতার পদত্যাগ

সোনাইমুড়ীতে হেযবুত তওহীদের দুই সদস্য হত্যা: ১০ বছরেও বিচার হয়নি, মামলা প্রত্যাহারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন।

প্রকাশিত: 12:56:08 pm, Saturday, 14 March 2026

নিজস্ব প্রতিনিধি:নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে হেযবুত তওহীদের দুই সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার এক দশক পেরিয়ে গেলেও বিচার না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এই ঘটনায় দায়ের করা কয়েকটি মামলাকে রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তেরও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন তারা।

শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল ১১টায় সোনাইমুড়ী উপজেলার শহীদি জামে মসজিদ কমপ্লেক্সের হলরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ ও দাবি তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন হেযবুত তওহীদের সর্বোচ্চ নেতা ইমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম। তিনি বলেন, ২০১৬ সালের ১৪ মার্চ উপজেলার পোরকরা গ্রামে হেযবুত তওহীদের সদস্যদের বাড়িঘরে হামলা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ এবং দুই সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনা ঘটে।

তার দাবি, ওইদিন একটি উগ্রবাদী গোষ্ঠী গুজব ও অপপ্রচার ছড়িয়ে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষকে উস্কে দিয়ে সংগঠনের সদস্যদের বাড়িতে হামলা চালায়।

হামলাকারীরা নির্মাণাধীন একটি মসজিদকে গির্জা বলে প্রচার করে সেটি ভাঙচুর করে। পাশাপাশি কয়েকটি বাড়িতে লুটপাট চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

তিনি অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা সংগঠনের সদস্য রুবেল ও সোলায়মান খোকনকে প্রকাশ্যে জবাই করে হত্যা করে। হত্যার আগে তাদের ওপর নৃশংস নির্যাতন চালানো হয় এবং পরে লাশে আগুন দিয়ে আলামত নষ্টের চেষ্টা করা হয়।

ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পার হলেও এখনো পর্যন্ত মামলার কার্যকর তদন্ত বা বিচার শুরু হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, ঘটনার প্রায় দুই বছর পর পূর্ববর্তী সরকারের আমলে মামলা দায়ের করা হলেও অধিকাংশ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। এমনকি কাউকে রিমান্ডেও নেওয়া হয়নি।

ইমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম বলেন, “সম্প্রতি আমরা জানতে পেরেছি যে, সরকারের সিদ্ধান্তে কিছু মামলাকে রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রত্যাহারের তালিকায় রাখা হয়েছে। যার মধ্যে এই ঘটনার জি আর-৬১৭/১৬, জি আর-৮১২/১৬, জি আর-৬৮১/১৬ ও জি আর-৮৬৬/১৬ নম্বর মামলাগুলোও রয়েছে। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক।”

তিনি দাবি করেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ছবি, ভিডিও ও অডিওসহ বিভিন্ন প্রমাণ আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। তাই দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে নিহতদের পরিবারের সদস্যরা জানান, এক দশক ধরে তারা ন্যায়বিচারের আশায় আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। কিন্তু এখনো কোনো বিচার না হওয়ায় তারা চরম হতাশা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

এসময় ভুক্তভোগী পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্যও সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক, নিহত রুবেল ও সোলায়মান খোকনের পরিবারের সদস্য এবং ঘটনার সময় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।