নোয়াখালীর সুবর্ণচরে স্ত্রীর তিন স্বজনের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ করেছেন সিরাজ (৫০) নামের এক ব্যক্তি। এ ঘটনায় নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনগত সহায়তা চেয়ে চরজব্বর থানায় লিখিত আবেদন করেছেন তিনি।
সিরাজের লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩০ বছর আগে ফারজানা (৪৫) নামের এক নারীর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে পাঁচ ছেলে সন্তান রয়েছে। পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের মধ্যে বিরোধ চলছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে সিরাজের নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ওই দিন তাঁর স্ত্রীর আত্মীয় বাবুল (৪০), খলিল (৩৫) ও গোলাম মাওলা (৪২) তাঁদের বাড়িতে আসেন। এ সময় স্ত্রী অতিথিদের জন্য সিগারেট আনতে বললে তিনি বাড়ি থেকে বের হন। প্রায় ৩০ মিনিট পর ফিরে এসে স্ত্রীর কক্ষে ওই তিন আত্মীয়কে দেখতে পান বলে অভিযোগ করেন সিরাজ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে তাঁদের সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাঁকে কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে মারধর করা হয় বলে অভিযোগে দাবি করেন তিনি। এ সময় কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অভিযুক্ত বাবুল ৮ নম্বর মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সদস্যসচিব এবং মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন বিএনপির নেতা সেলিম চেয়ারম্যানের খালাতো ভাই। অন্যদিকে, খলিল তাঁর মামাতো ভাই বলে উল্লেখ করেছেন অভিযোগকারী।
সিরাজের দাবি, ঘটনার পর থেকে তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন রয়েছেন। এ অবস্থায় তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অভিযোগটি তদন্ত করা এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এ ঘটনায় স্ত্রী ফারজানা এবং তাঁর আত্মীয় বাবুল, খলিল ও গোলাম মাওলার বিরুদ্ধে চরজব্বর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সিরাজ। অভিযোগের একটি অনুলিপি সংবাদকর্মীর কাছে রয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে চরজব্বর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শরিফুল ইসলাম জানান, অভিযোগটি পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তের জন্য ছনখোলা পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) সাদ্দাম হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।


সুবর্নচর প্রতিনিধি 





















