ধুলোবালিতে অতিষ্ঠ জনজীবন, নির্বিকার প্রশাসন।
হিমেল আহাম্মেদ-নোয়াখালীর খবর.
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা-র চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি কাটার মহোৎসব চলছে।
আইন-কানুনের তোয়াক্কা না করে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দিন-রাত আবাদি জমির টপ সয়েল কেটে নিচ্ছে। এতে একদিকে কমছে কৃষিজমি, অন্যদিকে ভারী ড্রাম ট্রাক ও ট্রাক্টরের বেপরোয়া চলাচলে গ্রামীণ সড়কগুলো ভেঙে পড়ছে। ধুলোবালিতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার চরপার্বতী, চর এলাহী, চর ফকিরা, মুছাপুর ও সিরাজপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ মাঠে এস্কেভেটর দিয়ে গভীর করে মাটি কাটা হচ্ছে।
এসব মাটি স্থানীয় ইটভাটা ও নিচু জমি ভরাটের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। অনেক স্থানে ১০ থেকে ১৫ ফুট গভীর পর্যন্ত মাটি তোলায় পাশের জমিগুলো ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, প্রভাবশালী চক্রের চাপে অনেকেই জমি রক্ষায় অসহায়। এক কৃষক বলেন, “যেভাবে মাটি কাটা হচ্ছে, কয়েক বছরের মধ্যেই এখানে চাষাবাদ বন্ধ হয়ে যাবে। ট্রাক্টরের ধুলোয় রাস্তার পাশের গাছপালাও শুকিয়ে যাচ্ছে।”
মাটি পরিবহনে ব্যবহৃত কয়েকশ ’ ট্রাক্টর ও ড্রাম ট্রাকের অতিরিক্ত চাপ ও বেপরোয়া গতির কারণে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

কোথাও কোথাও সড়ক দেবে গেছে, কোথাও তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। এতে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন।
এ ছাড়া সারাদিন ধুলোবালির কারণে শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগব্যাধি বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
কৃষি ও পরিবেশের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি
কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, জমির ওপরের উর্বর স্তর বা টপ সয়েল একবার কেটে ফেললে সেই জমির স্বাভাবিক উর্বরতা ফিরে পেতে অন্তত ১০ থেকে ১২ বছর সময় লাগে। এভাবে নির্বিচারে মাটি কাটা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে খাদ্য উৎপাদনে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে।
এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদুর রহমান বলেন, “অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। এটি বন্ধে আমাদের অবস্থান কঠোর। কেউ সুনির্দিষ্ট তথ্য দিলে দ্রুত অভিযান চালানো হবে। জনস্বার্থে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।”
তবে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, শুধু সাময়িক জরিমানা নয়, মাটি কাটা সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা না নিলে ফসলি জমি রক্ষা করা সম্ভব হবে না।
বিজ্ঞাপন
