হিমেল আহাম্মেদ | নোয়াখালীর খবর।
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের দক্ষিণাঞ্চলে নদীর তীরবর্তী এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন ও বালুবাহী ভারী ট্রাকের অবাধ চলাচলে জনজীবন ক্রমেই দুর্বিষহ হয়ে উঠছে।
সরকারি অনুমোদন ও নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করেই দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলন ও পরিবহন চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার বিভিন্ন সড়ক দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য বালুবাহী ভারী ট্রাক চলাচল করছে। অতিরিক্ত ওজন বহনের কারণে দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে সড়ক ও কালভার্ট। সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র ধুলাদূষণ।

ধুলাবালির কারণে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে শ্বাসকষ্টসহ নানা শারীরিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়ছে। শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাতায়াতে তৈরি হয়েছে চরম ভোগান্তি। একই সঙ্গে সড়কে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ছে বলে জানান এলাকাবাসী।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকার প্রতিবছর সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারে বিপুল অর্থ বরাদ্দ দিলেও ভারী বালুবাহী ট্রাকের কারণে এসব সড়ক অল্প সময়েই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অথচ এসব যানবাহন থেকে কার্যকরভাবে রাজস্ব আদায় বা ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
ফলে একদিকে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে জনগণের করের টাকায় বারবার একই সড়ক সংস্কার করতে হচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, উত্তোলিত বালুর বড় অংশ কোম্পানীগঞ্জে ব্যবহার না হয়ে দূরবর্তী এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে অন্যত্র উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হলেও এর পরিবেশগত ও সামাজিক ক্ষতির ভার বহন করতে হচ্ছে স্থানীয়দের।
পরিবেশগত ক্ষতির চিত্র উদ্বেগজনক-
পরিবেশ সংশ্লিষ্টদের মতে, অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে যে ক্ষতিগুলো দেখা দিচ্ছে তা দীর্ঘমেয়াদে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।

এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—
ভয়াবহ নদীভাঙন: বালু তোলার ফলে নদীর তীর ধসে বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

নদীর গতিপথ ও নাব্যতা পরিবর্তন: স্বাভাবিক প্রবাহ বিঘ্নিত হয়ে নদীর গভীরতা অস্বাভাবিকভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে, ফলে নদীপথ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জলজ জীববৈচিত্র্য ধ্বংস: মাছের আবাসস্থল ও প্রজনন ক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মৎস্যসম্পদ হ্রাস পাচ্ছে।
বন্যা ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বৃদ্ধি: নাব্যতা কমে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে বন্যা ও জলাবদ্ধতা বাড়তে পারে।
ভূগর্ভস্থ পানির স্তর হ্রাস:-
অতিরিক্ত বালু উত্তোলনে পানির স্তর নিচে নেমে গিয়ে শুকনা মৌসুমে পানির সংকট দেখা দিচ্ছে।
অবকাঠামোগত ঝুঁকি: –
সেতু, রাস্তাঘাট ও তীরবর্তী স্থাপনাগুলো ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
জমির উর্বরতা হ্রাস: পলিমাটি কমে গিয়ে কৃষিজমির উৎপাদনশীলতা কমে যাচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, আইন সবার জন্য সমান হলে বালু ব্যবসাও আইনের বাইরে থাকতে পারে না। তারা অবিলম্বে কঠোর নজরদারি জোরদার, অবৈধ বালু উত্তোলন ও পরিবহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান এবং ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
