ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  1. আইন বিচার
  2. আজ দেশজুড়ে
  3. আজকের সর্বশেষ
  4. আন্তর্জাতিক
  5. কৃষি সংবাদ
  6. খাদ্য ও পুষ্টি
  7. খুলনা
  8. খেলাধুলা
  9. চট্টগ্রাম
  10. চাকরি-বাকরি
  11. ছড়া
  12. জাতীয়
  13. জাতীয়
  14. জীবনযাপন
  15. ঢাকা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সংরক্ষণ সুবিধা না থাকায় অপচয় বাড়ছে, কমছে লাভ—হাতিয়ার শুঁটকি খাত চাপে

হানিফ উদ্দিন সাকিব- হাতিয়া প্রতিনিধি:
ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬ ৯:৪৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নোয়াখালীর জেলার বিছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার বিস্তীর্ণ উপকূলে ধরা পড়ে বিপুল পরিমাণ সামুদ্রিক চেউয়া মাছ। এই মাছ থেকেই বছরে কয়েকশ কোটি টাকার শুঁটকি উৎপাদন করেন স্থানীয় জেলেরা। তবে আধুনিক সংরক্ষণাগারের অভাব, উন্নত শুকানো ও প্রক্রিয়াজাতকরণ সুবিধার সংকট এবং সরাসরি বাজারজাতের সুযোগ না থাকায় সম্ভাবনাময় এই খাত থেকে ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না তারা। ফলে চেউয়া শুঁটকি শিল্পের বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও বঞ্চিত থেকে যাচ্ছেন উপকূলের মৎস্যজীবীরা।

জানা গেছে, হাতিয়ার চরাঞ্চলে প্রায় ১০ হাজার একর জমিতে গড়ে উঠেছে শুঁটকি মহল। মূলত সামুদ্রিক চেউয়া মাছের শুঁটকি প্রক্রিয়াজাত করা হয় এসব চরে। এ কাজে প্রায় ২০ হাজার জেলে জড়িত। নদী থেকে মাছ তোলার পর রোদে শুকিয়ে শুঁটকি বানাতে সময় লাগে ৩ থেকে ৪ দিন। প্রতিদিন দেশের বিভিন্নস্থান থেকে আসা পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা জড়ো হন এসব শুঁটকি ক্রয় করতে। এসব শুঁটকি যায় ঢাকা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। তবে যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো না থাকায় লোকসানের মুখে পড়তে হয় জেলেদের।

চেউয়া মাছের প্রাচুর্যে ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলে মো:আলী করিম বলেন । মাছ বিক্রির টাকায় মাথা গোজার ঠাই নির্মাণের স্বপ্ন। সাথে রয়েছে জমি ক্রয়, স্কুল-মাদরাসা ও মসজিদ নির্মাণের স্বপ্ন। আলী করিম ৪ নং ওয়ার্ডের নামারবাজার এলাকার শফিক উল্লাহ ছেলে।

চলতি মৌসুমে নোয়াখালী জেলার বিছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়া উপজেলার বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চল ও প্রত্যন্ত এলাকাজুড়ে চেউয়া শুঁটকির ধুম পড়েছে। নদীতে ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা পড়ছে চেউয়া মাছ। এসব মাছ শুকিয়ে শুঁটকি তৈরি করে জেলেরা পাচ্ছেন নতুন আয়ের সুযোগ। ফলে দিন দিন বাড়ছে এর বাণিজ্যিক সম্ভাবনা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ বছর চেউয়া শুঁটকির সম্ভাব্য বাজারমূল্য শতকোটি টাকা ছাড়াতে পারে।

তবে সম্ভাবনার বিপরীতে রয়েছে নানা সীমাবদ্ধতা। সংরক্ষণাগারের অভাব, উন্নত পরিবহনব্যবস্থার ঘাটতি ও আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ সুবিধা না থাকায় চরাঞ্চলে উৎপাদিত অধিকাংশ চেউয়া শুঁটকি শেষ পর্যন্ত মৎস্য ও পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। ফলে জেলেরা কাঙ্ক্ষিত ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

ইলিশ ধরার সময় শেষ হলে বাংলা অগ্রহায়ণ মাস থেকে শুরু হয়ে চৈত্রের মাঝামাঝি পর্যন্ত চলে চেউয়া মাছের মৌসুম। স্থানীয়দের দাবি, দেশের মোট চাহিদার অর্ধেকেরও বেশি চেউয়া মাছ আসে এই দ্বীপ থেকে। প্রায় ১০ হাজার মানুষের শ্রমে উৎপাদিত চেউয়া শুঁটকি ঢাকা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়। এসব শুঁটকি দিয়ে তৈরি হয় মাছ ও মুরগির খাদ্য (ফিড)।

নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের জেলে আরিফ হোসেন মাঝি বলেন, গত বছর তেমন মাছ পাননি। তবে এ বছর মৌসুমের শুরুতেই ভালো মাছ ধরা পড়ছে। সারাদেশ থেকে পাইকাররা শুটকি কিনতে আসেন। মাছের দাম কম হওয়ায় আমরা শুটকি বিক্রি করে লাভবান হই।

নিঝুমদ্বীপ পাইকারি ব্যবসায়ী মো. ইব্রাহিম পার্টি বলেন, নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের প্রায় ৯০/৯৫ শতাংশ মানুষ জেলে পেশায় জড়িত। গত বছর ইলিশ কম ছিল এবং চেউয়া মাছ পাওয়া যায়নি। এখন চেউয়া শুঁটকির সিজন চলছে। শুরু থেকেই মাছের দেখা মিলছে। উৎপাদন বাড়লে জেলেরা আগের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন। তবে পরিবহন, সংরক্ষণ ও কারখানা না থাকায় জেলেরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না।

নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. কেফায়েত উল্যাহ বলেন , চেউয়া মাছ রান্না করে খেতে যেমন সুস্বাদু শুঁটকি খেতেও তেমন সুস্বাদু। গত বছর ইলিশ কম ছিল। এখন চেউয়া শুঁটকির সিজন চলছে। শুরু থেকেই মাছের দেখা মিলছে। উৎপাদন বাড়লে জেলেরা আগের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন এবং জেলেদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি ঘটবে।

নোয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ বলেন, চেউয়া মাছ নরম প্রকৃতির হওয়ায় এটি বেশিক্ষণ স্টোরেজ করা যায় না। হাতিয়া দুর্গম এলাকা হওয়ায় বেশ সমস্যা হয়। যদি পরিবহন সুবিধা নিশ্চিত করা যায় তাহলে জেলেদের ভাগ্যোন্নয়ন হবে এবং তাদের জীবনযাত্রার মানের পরিবর্তন হবে। আমাদের মৎস্য খাদ্য উৎপাদনে যে ইনিগ্রেরেন্ট বাইরের দেশ হতে আনতে হয় এতে খরচ বেশি পড়ে যায়। যদি দেশের চাহিদা দেশে মেটাতে পারি তাহলে আমরা লাভবান হব।

আমাদের সাইটে আমরা নিজস্ব সংবাদ তৈরির পাশাপাশি দেশের এবং বিশ্বের বিভিন্ন স্বনামধন্য সংবাদমাধ্যম থেকে গুরুত্বপূর্ণ খবর সংগ্রহ করে নির্ভুল সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। আমরা সবসময় তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা এবং সঠিকতা নিশ্চিত করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। তবে, যদি কোনো সংবাদ নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকে, তাহলে আমরা আপনাকে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি সংশ্লিষ্ট সংবাদ মাধ্যম বা নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করার জন্য। এই সাইটের সব ধরণের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও এবং ভিডিও কন্টেন্ট কপিরাইট আইন দ্বারা সুরক্ষিত। বিনা অনুমতিতে এই কন্টেন্ট ব্যবহারের প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং আইনত শাস্তিযোগ্য। আমরা আমাদের ব্যবহারকারীদের একটি সুরক্ষিত ও তথ্যবহুল অভিজ্ঞতা প্রদানের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের নিউজ সাইটের মাধ্যমে পাওয়া যেকোনো তথ্য ব্যবহারের আগে দয়া করে সেই তথ্যের উৎস যাচাই করতে ভুলবেন না। আপনাদের সমর্থন এবং সহযোগিতা আমাদের এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা। আমাদের সাথেই থাকুন, সর্বশেষ খবর এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য পেতে।
%d bloggers like this: