Dhaka , Friday, 18 September 2026
ব্রেকিং নিউজ :
fa fa-square হাতিয়ায় ৭ মণ ওজনের শাপলাপাতা মাছ ধরে ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি fa fa-square ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশনের নোয়াখালী জেলা কমিটি অনুমোদন fa fa-square কোম্পানীগঞ্জে গভীর রাতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ fa fa-square নোয়াখালীতে অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় স্কুলশিক্ষকের মৃত্যু fa fa-square নোবিপ্রবিতে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ অনুষ্ঠিত fa fa-square কোম্পানীগঞ্জে আগুনে পুড়ে ছাই মাইক্রোবাসচালকের ঘর, নিঃস্ব পরিবার fa fa-square পরকীয়া: কী, কেন ও আইনের দৃষ্টিতে এর অবস্থান fa fa-square কবিরহাটে গভীর রাতে খুঁটি থেকে ট্রান্সফরমার চুরি, চোর ধরতে পুলিশের অভিযান fa fa-square মায়ের আঁচল ছেড়ে উচ্চশিক্ষার পথে, দূর শহরে শিক্ষার্থীদের নীরব লড়াই fa fa-square নোয়াখালী জেলা যুবলীগ সভাপতি ইমন ভট্র গ্রেপ্তার, ছিলেন প্রায় দুই বছর আত্মগোপনে,

হাতিয়ায় ৭ মণ ওজনের শাপলাপাতা মাছ ধরে ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার মেঘনা নদীতে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে বন্য প্রাণী আইনে সংরক্ষিত বিশাল আকৃতির একটি শাপলাপাতা মাছ। মাছটির ওজন প্রায় সাত মণ বা ২৮০ কেজি। বুধবার বিকেলে মাছটি হাতিয়ার ঐতিহ্যবাহী চেয়ারম্যানঘাটে আনা হলে এটি দেখতে ভিড় করেন উৎসুক জনতা। পরে মাছটি কেটে টুকরা করে প্রায় ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়।

তরুণাস্থিময় সামুদ্রিক এ মাছ বাংলাদেশ বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন, ২০১২ অনুযায়ী শিকার, সংগ্রহ, ক্রয়-বিক্রয় ও বাজারজাতকরণ নিষিদ্ধ। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, নিষিদ্ধ এই মাছটি প্রকাশ্যে বিক্রি হলেও এ সময় কোনো ধরনের বাধার মুখে পড়তে হয়নি জেলেদের।

স্থানীয় জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার ভাসানচরের কাছাকাছি মেঘনা নদীতে ‘চরঘেরা’ জাল ফেলেন একদল জেলে। বিকেলে ওই জালে বিশাল আকৃতির শাপলাপাতা মাছটি আটকা পড়ে। পরদিন বুধবার বিকেলে মাছটি বিক্রির জন্য হাতিয়ার চেয়ারম্যানঘাটে নিয়ে আসেন জেলেরা।

পরে চেয়ারম্যানঘাটের জামাল মেম্বারের মৎস্য আড়ত থেকে মাছটি কিনে নেন স্থানীয় এক মৎস্য ব্যবসায়ী। এরপর ঘাটেই মাছটি কেটে টুকরা করে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে প্রায় ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়।

চেয়ারম্যানঘাটে উপস্থিত সুবর্ণচর উপজেলার বাসিন্দা আবদুল বারী বলেন, বুধবার বিকেলে তিনি চেয়ারম্যানঘাটে ঘুরতে গিয়ে বিশাল আকৃতির শাপলাপাতা মাছটি দেখতে পান। পরে আড়তে ডাকের মাধ্যমে মাছটি ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। এরপর মাছটি কেটে টুকরা করে স্থানীয়দের কাছে বিক্রি করা হয়।

তিনি বলেন, ‘শাপলাপাতা মাছ ধরা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও বিষয়টি জেলেরা জানেন বলে মনে হয়নি।’

ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন সোসাইটির (ডব্লিউসিএস) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে শাপলাপাতা মাছের ১৬টি প্রজাতি রয়েছে। বাংলাদেশে পাওয়া ৮ থেকে ১০টি প্রজাতির মধ্যে দুটি মহাসংকটাপন্ন এবং তিনটি সংকটাপন্ন হিসেবে বিবেচিত।

পিতাম্বরী বা নাঙলা এবং ঘণ্টি শাপলাপাতা মাছকে মহাসংকটাপন্ন ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া পান্ন্যা, শিংচোয়াইন ও ঠোট্ট্যা ঘাপরি শাপলাপাতা মাছকে সংকটাপন্ন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাংলাদেশে চিত্রাহাউশ, ছোটলেজি, কালি, ফুল, বাদুড়, বাদা, থাইন ও চুনি প্রজাতির শাপলাপাতা মাছও পাওয়া যায়। এসব প্রজাতির কয়েকটির শিকার ও বিক্রি নিষিদ্ধ।

এ বিষয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা হারুন-অর-রশিদ বলেন, ‘আমাদের মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী শাপলাপাতা মাছ ধরা সরাসরি নিষিদ্ধ নয়। তবে বন্য প্রাণী ও বন আইন অনুযায়ী এটি বিপন্ন বা বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত এবং ওই আইনে এটি ধরা বা বিক্রি করা নিষিদ্ধ।’

স্থানীয় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিপন্ন সামুদ্রিক প্রাণী রক্ষায় জেলেদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিষিদ্ধ প্রজাতি ধরা ও বিক্রির ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয়

হাতিয়ায় ৭ মণ ওজনের শাপলাপাতা মাছ ধরে ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি

হাতিয়ায় ৭ মণ ওজনের শাপলাপাতা মাছ ধরে ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি

প্রকাশিত: 04:32:57 am, Friday, 18 September 2026

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার মেঘনা নদীতে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে বন্য প্রাণী আইনে সংরক্ষিত বিশাল আকৃতির একটি শাপলাপাতা মাছ। মাছটির ওজন প্রায় সাত মণ বা ২৮০ কেজি। বুধবার বিকেলে মাছটি হাতিয়ার ঐতিহ্যবাহী চেয়ারম্যানঘাটে আনা হলে এটি দেখতে ভিড় করেন উৎসুক জনতা। পরে মাছটি কেটে টুকরা করে প্রায় ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়।

তরুণাস্থিময় সামুদ্রিক এ মাছ বাংলাদেশ বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন, ২০১২ অনুযায়ী শিকার, সংগ্রহ, ক্রয়-বিক্রয় ও বাজারজাতকরণ নিষিদ্ধ। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, নিষিদ্ধ এই মাছটি প্রকাশ্যে বিক্রি হলেও এ সময় কোনো ধরনের বাধার মুখে পড়তে হয়নি জেলেদের।

স্থানীয় জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার ভাসানচরের কাছাকাছি মেঘনা নদীতে ‘চরঘেরা’ জাল ফেলেন একদল জেলে। বিকেলে ওই জালে বিশাল আকৃতির শাপলাপাতা মাছটি আটকা পড়ে। পরদিন বুধবার বিকেলে মাছটি বিক্রির জন্য হাতিয়ার চেয়ারম্যানঘাটে নিয়ে আসেন জেলেরা।

পরে চেয়ারম্যানঘাটের জামাল মেম্বারের মৎস্য আড়ত থেকে মাছটি কিনে নেন স্থানীয় এক মৎস্য ব্যবসায়ী। এরপর ঘাটেই মাছটি কেটে টুকরা করে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে প্রায় ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়।

চেয়ারম্যানঘাটে উপস্থিত সুবর্ণচর উপজেলার বাসিন্দা আবদুল বারী বলেন, বুধবার বিকেলে তিনি চেয়ারম্যানঘাটে ঘুরতে গিয়ে বিশাল আকৃতির শাপলাপাতা মাছটি দেখতে পান। পরে আড়তে ডাকের মাধ্যমে মাছটি ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। এরপর মাছটি কেটে টুকরা করে স্থানীয়দের কাছে বিক্রি করা হয়।

তিনি বলেন, ‘শাপলাপাতা মাছ ধরা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও বিষয়টি জেলেরা জানেন বলে মনে হয়নি।’

ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন সোসাইটির (ডব্লিউসিএস) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে শাপলাপাতা মাছের ১৬টি প্রজাতি রয়েছে। বাংলাদেশে পাওয়া ৮ থেকে ১০টি প্রজাতির মধ্যে দুটি মহাসংকটাপন্ন এবং তিনটি সংকটাপন্ন হিসেবে বিবেচিত।

পিতাম্বরী বা নাঙলা এবং ঘণ্টি শাপলাপাতা মাছকে মহাসংকটাপন্ন ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া পান্ন্যা, শিংচোয়াইন ও ঠোট্ট্যা ঘাপরি শাপলাপাতা মাছকে সংকটাপন্ন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাংলাদেশে চিত্রাহাউশ, ছোটলেজি, কালি, ফুল, বাদুড়, বাদা, থাইন ও চুনি প্রজাতির শাপলাপাতা মাছও পাওয়া যায়। এসব প্রজাতির কয়েকটির শিকার ও বিক্রি নিষিদ্ধ।

এ বিষয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা হারুন-অর-রশিদ বলেন, ‘আমাদের মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী শাপলাপাতা মাছ ধরা সরাসরি নিষিদ্ধ নয়। তবে বন্য প্রাণী ও বন আইন অনুযায়ী এটি বিপন্ন বা বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত এবং ওই আইনে এটি ধরা বা বিক্রি করা নিষিদ্ধ।’

স্থানীয় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিপন্ন সামুদ্রিক প্রাণী রক্ষায় জেলেদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিষিদ্ধ প্রজাতি ধরা ও বিক্রির ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন।