Dhaka , Wednesday, 28 October 2026
ব্রেকিং নিউজ :
fa fa-square নোয়াখালীতে ডিবির অভিযানে দেড় কেজি গাঁজাসহ একজন গ্রেপ্তার fa fa-square ২৮ অক্টোবর পল্টন ট্র্যাজেডি স্মরণে কোম্পানীগঞ্জে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত, fa fa-square নোয়াখালীতে কমিটি অনুমোদনের সাড়ে ৪ ঘণ্টার মধ্যে এনসিপি নেতার পদত্যাগ fa fa-square নোয়াখালীতে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত fa fa-square সুবর্ণচরে স্ত্রীর স্বজনদের বিরুদ্ধে স্বামীকে মারধরের অভিযোগ, নিরাপত্তা চেয়ে থানায় আবেদন fa fa-square হাতিয়ায় শিক্ষার্থীদের পাশে উপজেলা প্রশাসন, বিতরণ করল ৩০০ স্কুল ব্যাগ fa fa-square দাম্পত্য কলহের জেরে কোম্পানীগঞ্জ থানার গেটের সামনে দুই পক্ষের মারামারি, আটক ৫ fa fa-square নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৪০ fa fa-square সেনবাগে সবজি তুলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নারীর মৃত্যু, মেয়ে গুরুতর আহত fa fa-square হাতিয়ায় ১৫ লাখ টাকার অবৈধ পামওয়েল জব্দ

মশার উপদ্রবে নাকাল বসুরহাট পৌরসভা, স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পৌরবাসী

হিমেল আহাম্মেদ-নোয়াখালীর খবর-

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌরসভায় মশার উপদ্রব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সন্ধ্যা নামলেই বাসা-বাড়ি, সড়ক, বাজার ও চায়ের দোকানসহ প্রায় সর্বত্র মশার দাপট বেড়ে যায়।

এতে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন পৌরবাসী।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মশার উপদ্রব এখন পৌরবাসীর নিত্যদিনের দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। কয়েল, অ্যারোসল, বৈদ্যুতিক ব্যাট কিংবা মশারি ব্যবহার করেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত স্বস্তি। বরং অতিরিক্ত কয়েল ও অ্যারোসল ব্যবহারে শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগের ঝুঁকিসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যাও বাড়ছে বলে জানান তারা।

জানা গেছে, অপরিচ্ছন্ন ড্রেন-নালা, খাল এবং বিভিন্ন নির্মাণস্থলে জমে থাকা বদ্ধ পানি মশার প্রধান প্রজননস্থলে পরিণত হয়েছে। অপর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং স্থবির পানিতে মশার লার্ভা জন্ম নেওয়ায় ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।

পৌরসভার ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী মোট বাজেট ধরা হয়েছে ১৩৩ কোটি ২৯ লাখ ৬৭ হাজার ৮৮৩ টাকা। এর মধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা খাতে বরাদ্দ রয়েছে ২ কোটি ৭০ লাখ ৮০ হাজার ২৮০ টাকা।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, কাগজে-কলমে বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে তার দৃশ্যমান কার্যক্রম খুব একটা চোখে পড়ে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দকৃত অর্থের মধ্যে অন্তত কিছু অংশ মশা নিধনের কাজে ব্যয় হওয়ার কথা।

কিন্তু বাস্তবে নিয়মিত ফগিং বা লার্ভা নিধন কার্যক্রম দেখা যায় না। অনেক সময় কাগজে-কলমে দরপত্র, সরঞ্জাম ক্রয় বা কার্যক্রম দেখানো হলেও মাঠপর্যায়ে তার প্রতিফলন নেই বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

পৌর এলাকার বাসিন্দারা জানান, বসুরহাট পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডেই নিয়মিত ফগিং কার্যক্রম কিংবা ড্রেন-নালা পরিষ্কারের কাজ খুব একটা দেখা যায় না। ফলে দিন দিন পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে।

এদিকে মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে পৌরসভার কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় জনমনে নানা প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, পৌরসভা বছরে একবার মাইকিং করে পৌরকর পরিশোধের আহ্বান জানালেও জনদুর্ভোগ কমাতে তেমন কার্যকর উদ্যোগ খুব কমই দেখা যায়।

পৌরবাসীর দাবি, নিয়মিত ফগিং কার্যক্রম চালু করা, পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং ড্রেনেজ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন ছাড়া এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। তাই দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

আইনগতভাবে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। বাংলাদেশের Local Government (Paurashava) Act, 2009 অনুযায়ী পৌরসভা একটি নির্বাচিত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, যার প্রধান দায়িত্ব নাগরিকদের মৌলিক সেবা নিশ্চিত করা।

এই আইনের বিভিন্ন ধারায় পৌরসভার দায়িত্ব হিসেবে জনস্বাস্থ্য রক্ষা, পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং মশা-মাছিসহ রোগবাহক পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। একই সঙ্গে নাগরিক সেবার মান বজায় রাখা এবং বাজেটের অর্থ যথাযথ খাতে ব্যয়ের ক্ষেত্রেও পৌর কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহির আওতায় থাকার কথা বলা হয়েছে।

এ কারণে স্থানীয়দের মতে, মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণ, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে পৌর কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বসুরহাট পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হালিম উল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। পরে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে কিছুটা ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “প্রতিদিনই কাজ হচ্ছে, শুধু সাংবাদিকরা নাকি সেগুলো দেখেন না।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয়

নোয়াখালীতে ডিবির অভিযানে দেড় কেজি গাঁজাসহ একজন গ্রেপ্তার

মশার উপদ্রবে নাকাল বসুরহাট পৌরসভা, স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পৌরবাসী

প্রকাশিত: 10:02:13 am, Monday, 9 March 2026

হিমেল আহাম্মেদ-নোয়াখালীর খবর-

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌরসভায় মশার উপদ্রব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সন্ধ্যা নামলেই বাসা-বাড়ি, সড়ক, বাজার ও চায়ের দোকানসহ প্রায় সর্বত্র মশার দাপট বেড়ে যায়।

এতে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন পৌরবাসী।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মশার উপদ্রব এখন পৌরবাসীর নিত্যদিনের দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। কয়েল, অ্যারোসল, বৈদ্যুতিক ব্যাট কিংবা মশারি ব্যবহার করেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত স্বস্তি। বরং অতিরিক্ত কয়েল ও অ্যারোসল ব্যবহারে শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগের ঝুঁকিসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যাও বাড়ছে বলে জানান তারা।

জানা গেছে, অপরিচ্ছন্ন ড্রেন-নালা, খাল এবং বিভিন্ন নির্মাণস্থলে জমে থাকা বদ্ধ পানি মশার প্রধান প্রজননস্থলে পরিণত হয়েছে। অপর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং স্থবির পানিতে মশার লার্ভা জন্ম নেওয়ায় ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।

পৌরসভার ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী মোট বাজেট ধরা হয়েছে ১৩৩ কোটি ২৯ লাখ ৬৭ হাজার ৮৮৩ টাকা। এর মধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা খাতে বরাদ্দ রয়েছে ২ কোটি ৭০ লাখ ৮০ হাজার ২৮০ টাকা।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, কাগজে-কলমে বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে তার দৃশ্যমান কার্যক্রম খুব একটা চোখে পড়ে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দকৃত অর্থের মধ্যে অন্তত কিছু অংশ মশা নিধনের কাজে ব্যয় হওয়ার কথা।

কিন্তু বাস্তবে নিয়মিত ফগিং বা লার্ভা নিধন কার্যক্রম দেখা যায় না। অনেক সময় কাগজে-কলমে দরপত্র, সরঞ্জাম ক্রয় বা কার্যক্রম দেখানো হলেও মাঠপর্যায়ে তার প্রতিফলন নেই বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

পৌর এলাকার বাসিন্দারা জানান, বসুরহাট পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডেই নিয়মিত ফগিং কার্যক্রম কিংবা ড্রেন-নালা পরিষ্কারের কাজ খুব একটা দেখা যায় না। ফলে দিন দিন পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে।

এদিকে মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে পৌরসভার কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় জনমনে নানা প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, পৌরসভা বছরে একবার মাইকিং করে পৌরকর পরিশোধের আহ্বান জানালেও জনদুর্ভোগ কমাতে তেমন কার্যকর উদ্যোগ খুব কমই দেখা যায়।

পৌরবাসীর দাবি, নিয়মিত ফগিং কার্যক্রম চালু করা, পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং ড্রেনেজ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন ছাড়া এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। তাই দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

আইনগতভাবে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। বাংলাদেশের Local Government (Paurashava) Act, 2009 অনুযায়ী পৌরসভা একটি নির্বাচিত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, যার প্রধান দায়িত্ব নাগরিকদের মৌলিক সেবা নিশ্চিত করা।

এই আইনের বিভিন্ন ধারায় পৌরসভার দায়িত্ব হিসেবে জনস্বাস্থ্য রক্ষা, পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং মশা-মাছিসহ রোগবাহক পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। একই সঙ্গে নাগরিক সেবার মান বজায় রাখা এবং বাজেটের অর্থ যথাযথ খাতে ব্যয়ের ক্ষেত্রেও পৌর কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহির আওতায় থাকার কথা বলা হয়েছে।

এ কারণে স্থানীয়দের মতে, মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণ, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে পৌর কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বসুরহাট পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হালিম উল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। পরে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে কিছুটা ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “প্রতিদিনই কাজ হচ্ছে, শুধু সাংবাদিকরা নাকি সেগুলো দেখেন না।”