Dhaka , Thursday, 29 October 2026
ব্রেকিং নিউজ :
fa fa-square বসুরহাটে বাসার তালা অক্ষত, আলমারি ভেঙে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা চুরির অভিযোগ fa fa-square নোয়াখালীতে ডিবির অভিযানে দেড় কেজি গাঁজাসহ একজন গ্রেপ্তার fa fa-square ২৮ অক্টোবর পল্টন ট্র্যাজেডি স্মরণে কোম্পানীগঞ্জে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত, fa fa-square নোয়াখালীতে কমিটি অনুমোদনের সাড়ে ৪ ঘণ্টার মধ্যে এনসিপি নেতার পদত্যাগ fa fa-square নোয়াখালীতে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত fa fa-square সুবর্ণচরে স্ত্রীর স্বজনদের বিরুদ্ধে স্বামীকে মারধরের অভিযোগ, নিরাপত্তা চেয়ে থানায় আবেদন fa fa-square হাতিয়ায় শিক্ষার্থীদের পাশে উপজেলা প্রশাসন, বিতরণ করল ৩০০ স্কুল ব্যাগ fa fa-square দাম্পত্য কলহের জেরে কোম্পানীগঞ্জ থানার গেটের সামনে দুই পক্ষের মারামারি, আটক ৫ fa fa-square নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৪০ fa fa-square সেনবাগে সবজি তুলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নারীর মৃত্যু, মেয়ে গুরুতর আহত

নোয়াখালী জেলা কারাগার ঝুঁকির মুখে: অর্ধশত বছরে সংস্কারহীন ভবনে আতঙ্কে বন্দি-কারারক্ষী

দীর্ঘদিনের অবহেলা ও সংস্কারের অভাবে নোয়াখালী জেলা কারাগারের এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণভবনগুলো অবস্থায় পৌঁছেছে। জরাজীর্ণ স্থাপনায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন বন্দি ও কারা সদস্যরা।

ইতোমধ্যে কারাগারের সব ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

১৯৬৭ সালে নির্মিত এই জেলা কারাগারে বন্দি ও কারা সদস্যদের জন্য মোট ১০টি ভবন তৈরি করা হয়েছিল।

কিন্তু অর্ধশত বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও বড় ধরনের কোনো সংস্কার কাজ না হওয়ায় ভবনগুলো এখন ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

কারাগারের বিভিন্ন ভবনের দেয়ালে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে, ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে নিয়মিত।

কিছু ভবন আংশিকভাবে দেবে গেছে, যেকোনো সময় ধসে পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে ‘বজরা’ নামে একটি ভবন কয়েক ফুট মাটির নিচে দেবে যাওয়ায় আতঙ্ক আরও বেড়েছে।

কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, সামান্য বৃষ্টিতেই দেয়াল নরম হয়ে যায় এবং পানি ঢুকে পড়ে কারাগারের ভেতরে।

ড্রেনেজ ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে বিকল থাকায় জলাবদ্ধতা এখন নিত্যদিনের সমস্যা। এতে বন্দি ও কারারক্ষীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। এছাড়া কোয়ার্টারগুলোও ভেঙে পড়ার উপক্রম।

সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে ভবনগুলোর ক্ষতি আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে প্রতিদিনই আতঙ্কের মধ্যে দায়িত্ব পালন করছেন কারারক্ষী এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বন্দিরা।

নোয়াখালী জেলা কারাগারের জেল সুপার আব্দুল বারেক জানান, ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার কথা জানিয়ে গত এক বছরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অন্তত ৪০ থেকে ৪২টি চিঠি পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, “চিঠি দেওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং কিছু কার্যক্রম শুরু হয়েছে।”

এদিকে, ২০১৭ সালেই গণপূর্ত বিভাগ কারাগারের অভ্যন্তরের সব স্থাপনাকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে। নতুন কারাগার নির্মাণের জন্য প্রায় ৪০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব আকারে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফ উদ্দিন বলেন, “পুরো কারাগার পুনর্নির্মাণ প্রয়োজন। প্রকল্পটি এখনো ড্রয়িং পর্যায়ে রয়েছে। অনুমোদনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।”

উল্লেখ্য, ৫০০ বন্দির ধারণক্ষমতার এই কারাগারে বর্তমানে প্রায় দেড় হাজার কয়েদি-হাজতি রাখা হচ্ছে। এছাড়া এখানে কর্মরত রয়েছেন ২০২ জন কারা কর্মকর্তা ও কর্মচারী। অতিরিক্ত বন্দির চাপ এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয়

বসুরহাটে বাসার তালা অক্ষত, আলমারি ভেঙে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা চুরির অভিযোগ

নোয়াখালী জেলা কারাগার ঝুঁকির মুখে: অর্ধশত বছরে সংস্কারহীন ভবনে আতঙ্কে বন্দি-কারারক্ষী

প্রকাশিত: 07:33:21 am, Sunday, 29 March 2026

দীর্ঘদিনের অবহেলা ও সংস্কারের অভাবে নোয়াখালী জেলা কারাগারের এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণভবনগুলো অবস্থায় পৌঁছেছে। জরাজীর্ণ স্থাপনায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন বন্দি ও কারা সদস্যরা।

ইতোমধ্যে কারাগারের সব ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

১৯৬৭ সালে নির্মিত এই জেলা কারাগারে বন্দি ও কারা সদস্যদের জন্য মোট ১০টি ভবন তৈরি করা হয়েছিল।

কিন্তু অর্ধশত বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও বড় ধরনের কোনো সংস্কার কাজ না হওয়ায় ভবনগুলো এখন ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

কারাগারের বিভিন্ন ভবনের দেয়ালে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে, ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে নিয়মিত।

কিছু ভবন আংশিকভাবে দেবে গেছে, যেকোনো সময় ধসে পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে ‘বজরা’ নামে একটি ভবন কয়েক ফুট মাটির নিচে দেবে যাওয়ায় আতঙ্ক আরও বেড়েছে।

কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, সামান্য বৃষ্টিতেই দেয়াল নরম হয়ে যায় এবং পানি ঢুকে পড়ে কারাগারের ভেতরে।

ড্রেনেজ ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে বিকল থাকায় জলাবদ্ধতা এখন নিত্যদিনের সমস্যা। এতে বন্দি ও কারারক্ষীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। এছাড়া কোয়ার্টারগুলোও ভেঙে পড়ার উপক্রম।

সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে ভবনগুলোর ক্ষতি আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে প্রতিদিনই আতঙ্কের মধ্যে দায়িত্ব পালন করছেন কারারক্ষী এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বন্দিরা।

নোয়াখালী জেলা কারাগারের জেল সুপার আব্দুল বারেক জানান, ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার কথা জানিয়ে গত এক বছরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অন্তত ৪০ থেকে ৪২টি চিঠি পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, “চিঠি দেওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং কিছু কার্যক্রম শুরু হয়েছে।”

এদিকে, ২০১৭ সালেই গণপূর্ত বিভাগ কারাগারের অভ্যন্তরের সব স্থাপনাকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে। নতুন কারাগার নির্মাণের জন্য প্রায় ৪০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব আকারে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফ উদ্দিন বলেন, “পুরো কারাগার পুনর্নির্মাণ প্রয়োজন। প্রকল্পটি এখনো ড্রয়িং পর্যায়ে রয়েছে। অনুমোদনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।”

উল্লেখ্য, ৫০০ বন্দির ধারণক্ষমতার এই কারাগারে বর্তমানে প্রায় দেড় হাজার কয়েদি-হাজতি রাখা হচ্ছে। এছাড়া এখানে কর্মরত রয়েছেন ২০২ জন কারা কর্মকর্তা ও কর্মচারী। অতিরিক্ত বন্দির চাপ এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।