Dhaka , Wednesday, 28 October 2026
ব্রেকিং নিউজ :
fa fa-square ২৮ অক্টোবর পল্টন ট্র্যাজেডি স্মরণে কোম্পানীগঞ্জে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত, fa fa-square নোয়াখালীতে কমিটি অনুমোদনের সাড়ে ৪ ঘণ্টার মধ্যে এনসিপি নেতার পদত্যাগ fa fa-square নোয়াখালীতে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত fa fa-square সুবর্ণচরে স্ত্রীর স্বজনদের বিরুদ্ধে স্বামীকে মারধরের অভিযোগ, নিরাপত্তা চেয়ে থানায় আবেদন fa fa-square হাতিয়ায় শিক্ষার্থীদের পাশে উপজেলা প্রশাসন, বিতরণ করল ৩০০ স্কুল ব্যাগ fa fa-square দাম্পত্য কলহের জেরে কোম্পানীগঞ্জ থানার গেটের সামনে দুই পক্ষের মারামারি, আটক ৫ fa fa-square নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৪০ fa fa-square সেনবাগে সবজি তুলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নারীর মৃত্যু, মেয়ে গুরুতর আহত fa fa-square হাতিয়ায় ১৫ লাখ টাকার অবৈধ পামওয়েল জব্দ fa fa-square সুবর্ণচরে পুকুরে গোসলে নেমে দুই বোনের মৃত্যু

তাবলীগে গিয়ে বন্ধুর হাতে ৬৮ লাখ টাকার প্র’তা’রণা:

 

বউয়ের গহনা বিক্রি করে দেনা পরিশোধ করছেন নোয়াখালীর মজনু আহমেদ

স্টাফ রিপোর্টার:

নোয়াখালীর খবর-
ঢাকার পল্টন এলাকার পরিচিত ট্রাভেল এজেন্সি “নুর আরসোয়ালা”র মালিক নোয়াখালীর মজনু আহমেদের জীবনে সম্প্রতি ঘটে গেছে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। তাবলীগ জামাতে ১২০ দিনের জন্য বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগে তাঁর ব্যবসার অংশীদাররাই কোটি টাকার প্রতারণা করে উধাও হয়ে গেছেন।

ব্যবসায়ী মজনু আহমেদ জানান, ২০২৪ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে তাঁর পরিচয় হয় চট্টগ্রামের আশরাফুল হক রানা (৩৫) ও মনিরুজ্জামান (৪২) নামে দুই ব্যক্তির সঙ্গে। সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতায় তাঁদেরকে তিনি তাঁর প্রতিষ্ঠানের অংশীদার করেন। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, নুর তাবলিগে যাওয়ার আগে ব্যবসার দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার সুযোগে ওই দু’জন ক্রোয়েশিয়া ও সার্বিয়া ভিসা প্রসেসিংয়ের নাম করে মোট ৪৫ জন গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ৬৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়ে যান।

তাবলিগফেরত মজনু অফিসে ফিরে দেখেন—গ্রাহকদের অভিযোগ, বিল ও কাগজপত্রে গরমিল এবং অংশীদারদের অনুপস্থিতি। পরে যোগাযোগ করলে আশরাফুল ও মনিরুজ্জামান আংশিক টাকা পরিশোধ করলেও এখনো প্রায় ৪৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা বাকি রয়েছে। টাকা চাইলে তাঁরা ফোন বন্ধ রাখেন, বাড়িতেও পাওয়া যায় না।

অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও আইনি নোটিশ দেওয়া হলেও অভিযুক্তরা দাবি করছে, তারা ব্যবসার কোনো অংশীদারই ছিল না।

তবুও মজনু হাল ছাড়েননি। তিনি বলেন,
“আমি নিঃস্ব নই—আমি দায়িত্ববান। গ্রাহকের এক টাকাও আমার কাছে বাকি থাকবে না। এখন পর্যন্ত স্ত্রীর গহনা ও ব্যক্তিগত সম্পদ বিক্রি করে এবং ধারদেনা করে ২১ লাখ টাকার বেশি পরিশোধ করেছি। ইনশাআল্লাহ ব্যবসার আয় থেকে বাকি টাকাও ফেরত দেব।”

 

প্রতিষ্ঠানের অন্য অংশীদার আতায়ে রাব্বি বলেন,

“মনিরুজ্জামান ও আশরাফুল আমাদের স্বপ্ন ভেঙেছে। আমরা চাই তাদের দ্রুত বিচার হোক।”

 

সিলেটের অংশীদার রায়হান আহমেদ পাবেল যোগ করেন,

“ওরা শুধু একজন মানুষকে নয়, পুরো প্রতিষ্ঠানের সুনামকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। আইনি ব্যবস্থা হওয়া জরুরি।”

 

ভুক্তভোগীদের মধ্যে রয়েছেন—বিল্লাল হোসেন অনিক, আলাউদ্দিন রকি, সাখাওয়াত হোসেন, অপু রায়হান, আপরোজা মায়া, আবিদা সুলতানা, চৌধুরী আল নাহিয়ান, পারভেজ মিয়া, আব্দুর রাকিব, রাশেদসহ অনেকে।
তাঁরা জানান, “আমরা নুর ভাইয়ের প্রতিষ্ঠানে বিশ্বাস করে টাকা দিয়েছিলাম। এখন উনি ব্যক্তিগত সম্পদ বিক্রি করে আমাদের টাকা ফেরত দিচ্ছেন। আমরা চাই প্রতারকদের দ্রুত শাস্তি হোক।”

অভিযোগ অনুযায়ী, আশরাফুল হক রানার বাড়ি চট্টগ্রাম জেলার রাঙুনিয়া থানার দক্ষিণ খিলমোগল গ্রামে, আরব তালুকদার বাড়ি। তবে তাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

মজনু আহমেদ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন,

“আশরাফুল হক একটি প্রতারণা চক্রের সদস্য, যারা সারা দেশে এভাবে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে টার্গেট করছে।”

 

উল্লেখ্য, মামলা ও তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান থাকায় এই প্রতিবেদনটি ভুক্তভোগী, গ্রাহকের কাগজপত্র এবং উন্মুক্ত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। আইনি প্রমাণ ও তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নির্ধারিত হবে বলে জানানো হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয়

২৮ অক্টোবর পল্টন ট্র্যাজেডি স্মরণে কোম্পানীগঞ্জে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত,

তাবলীগে গিয়ে বন্ধুর হাতে ৬৮ লাখ টাকার প্র’তা’রণা:

প্রকাশিত: 01:35:10 pm, Saturday, 1 November 2025

 

বউয়ের গহনা বিক্রি করে দেনা পরিশোধ করছেন নোয়াখালীর মজনু আহমেদ

স্টাফ রিপোর্টার:

নোয়াখালীর খবর-
ঢাকার পল্টন এলাকার পরিচিত ট্রাভেল এজেন্সি “নুর আরসোয়ালা”র মালিক নোয়াখালীর মজনু আহমেদের জীবনে সম্প্রতি ঘটে গেছে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। তাবলীগ জামাতে ১২০ দিনের জন্য বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগে তাঁর ব্যবসার অংশীদাররাই কোটি টাকার প্রতারণা করে উধাও হয়ে গেছেন।

ব্যবসায়ী মজনু আহমেদ জানান, ২০২৪ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে তাঁর পরিচয় হয় চট্টগ্রামের আশরাফুল হক রানা (৩৫) ও মনিরুজ্জামান (৪২) নামে দুই ব্যক্তির সঙ্গে। সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতায় তাঁদেরকে তিনি তাঁর প্রতিষ্ঠানের অংশীদার করেন। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, নুর তাবলিগে যাওয়ার আগে ব্যবসার দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার সুযোগে ওই দু’জন ক্রোয়েশিয়া ও সার্বিয়া ভিসা প্রসেসিংয়ের নাম করে মোট ৪৫ জন গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ৬৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়ে যান।

তাবলিগফেরত মজনু অফিসে ফিরে দেখেন—গ্রাহকদের অভিযোগ, বিল ও কাগজপত্রে গরমিল এবং অংশীদারদের অনুপস্থিতি। পরে যোগাযোগ করলে আশরাফুল ও মনিরুজ্জামান আংশিক টাকা পরিশোধ করলেও এখনো প্রায় ৪৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা বাকি রয়েছে। টাকা চাইলে তাঁরা ফোন বন্ধ রাখেন, বাড়িতেও পাওয়া যায় না।

অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও আইনি নোটিশ দেওয়া হলেও অভিযুক্তরা দাবি করছে, তারা ব্যবসার কোনো অংশীদারই ছিল না।

তবুও মজনু হাল ছাড়েননি। তিনি বলেন,
“আমি নিঃস্ব নই—আমি দায়িত্ববান। গ্রাহকের এক টাকাও আমার কাছে বাকি থাকবে না। এখন পর্যন্ত স্ত্রীর গহনা ও ব্যক্তিগত সম্পদ বিক্রি করে এবং ধারদেনা করে ২১ লাখ টাকার বেশি পরিশোধ করেছি। ইনশাআল্লাহ ব্যবসার আয় থেকে বাকি টাকাও ফেরত দেব।”

 

প্রতিষ্ঠানের অন্য অংশীদার আতায়ে রাব্বি বলেন,

“মনিরুজ্জামান ও আশরাফুল আমাদের স্বপ্ন ভেঙেছে। আমরা চাই তাদের দ্রুত বিচার হোক।”

 

সিলেটের অংশীদার রায়হান আহমেদ পাবেল যোগ করেন,

“ওরা শুধু একজন মানুষকে নয়, পুরো প্রতিষ্ঠানের সুনামকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। আইনি ব্যবস্থা হওয়া জরুরি।”

 

ভুক্তভোগীদের মধ্যে রয়েছেন—বিল্লাল হোসেন অনিক, আলাউদ্দিন রকি, সাখাওয়াত হোসেন, অপু রায়হান, আপরোজা মায়া, আবিদা সুলতানা, চৌধুরী আল নাহিয়ান, পারভেজ মিয়া, আব্দুর রাকিব, রাশেদসহ অনেকে।
তাঁরা জানান, “আমরা নুর ভাইয়ের প্রতিষ্ঠানে বিশ্বাস করে টাকা দিয়েছিলাম। এখন উনি ব্যক্তিগত সম্পদ বিক্রি করে আমাদের টাকা ফেরত দিচ্ছেন। আমরা চাই প্রতারকদের দ্রুত শাস্তি হোক।”

অভিযোগ অনুযায়ী, আশরাফুল হক রানার বাড়ি চট্টগ্রাম জেলার রাঙুনিয়া থানার দক্ষিণ খিলমোগল গ্রামে, আরব তালুকদার বাড়ি। তবে তাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

মজনু আহমেদ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন,

“আশরাফুল হক একটি প্রতারণা চক্রের সদস্য, যারা সারা দেশে এভাবে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে টার্গেট করছে।”

 

উল্লেখ্য, মামলা ও তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান থাকায় এই প্রতিবেদনটি ভুক্তভোগী, গ্রাহকের কাগজপত্র এবং উন্মুক্ত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। আইনি প্রমাণ ও তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নির্ধারিত হবে বলে জানানো হয়েছে।