Dhaka , Wednesday, 28 October 2026
ব্রেকিং নিউজ :
fa fa-square নোয়াখালীতে ডিবির অভিযানে দেড় কেজি গাঁজাসহ একজন গ্রেপ্তার fa fa-square ২৮ অক্টোবর পল্টন ট্র্যাজেডি স্মরণে কোম্পানীগঞ্জে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত, fa fa-square নোয়াখালীতে কমিটি অনুমোদনের সাড়ে ৪ ঘণ্টার মধ্যে এনসিপি নেতার পদত্যাগ fa fa-square নোয়াখালীতে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত fa fa-square সুবর্ণচরে স্ত্রীর স্বজনদের বিরুদ্ধে স্বামীকে মারধরের অভিযোগ, নিরাপত্তা চেয়ে থানায় আবেদন fa fa-square হাতিয়ায় শিক্ষার্থীদের পাশে উপজেলা প্রশাসন, বিতরণ করল ৩০০ স্কুল ব্যাগ fa fa-square দাম্পত্য কলহের জেরে কোম্পানীগঞ্জ থানার গেটের সামনে দুই পক্ষের মারামারি, আটক ৫ fa fa-square নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৪০ fa fa-square সেনবাগে সবজি তুলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নারীর মৃত্যু, মেয়ে গুরুতর আহত fa fa-square হাতিয়ায় ১৫ লাখ টাকার অবৈধ পামওয়েল জব্দ

কোম্পানীগঞ্জ বসুরহাটে নেই সরকারি কবরস্থান, বিপাকে সাধারণ মানুষ,

নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌরসভা একটি ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভা। ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই পৌরসভাটি বর্তমানে ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এবং এখানে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের বসবাস।

কিন্তু অবাক করার মতো বিষয় হলো, এত বড় জনবসতি থাকা সত্ত্বেও পুরো কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় এখনো কোনো সরকারি কবরস্থান নেই।

ফলে মৃত্যুর পর অনেক পরিবারকে প্রিয়জনের দাফনের জায়গা খুঁজতে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে।

ধর্মভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় মুসলিম জনগোষ্ঠীর হার প্রায় ৯৬ শতাংশেরও বেশি।

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এই এলাকায় একটি সরকারি কবরস্থানের অভাবকে স্থানীয়রা দীর্ঘদিনের অবহেলার ফল বলেই মনে করছেন।

এই কোম্পানীগঞ্জই জন্ম দিয়েছে দেশের অনেক খ্যাতিমান ব্যক্তিত্বকে। এখানকার সন্তান ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ছিলেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, উপরাষ্ট্রপতি এবং একাধিকবার বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী।

এছাড়া আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরও এই উপজেলারই মানুষ।

বিশিষ্ট সমাজসেবক, উদ্যোক্তা ও ব্যাংকার আবু নাসের মোহাম্মদ আবদুজ জাহেরও কোম্পানীগঞ্জের সন্তান।

তিনি ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের সাবেক চেয়ারম্যান এবং ইবনে সিনা ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের একজন।

এছাড়াও এ অঞ্চলে জন্মেছেন বহু ইসলামী চিন্তাবিদ, সমাজসেবক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। কিন্তু এত কৃতী মানুষের জন্মভূমি হওয়া সত্ত্বেও এখানে এখনো একটি সরকারি কবরস্থান গড়ে ওঠেনি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কোম্পানীগঞ্জে ধনী-গরিব সব শ্রেণির মানুষ বসবাস করলেও অনেক পরিবার রয়েছে যাদের নিজের কোনো জমি নেই। জীবিত অবস্থায় তারা যেমন কষ্টে দিন কাটান, তেমনি মৃত্যুর পরও পরিবারের সদস্যদের পড়তে হয় চরম বিপাকে।

অনেক সময় প্রিয়জনের দাফনের জন্য অন্যের কাছে অনুরোধ করতে হয় বা ব্যক্তিগত কবরস্থানে অনুমতি চাইতে হয়।

এছাড়াও জীবিকার তাগিদে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজারো মানুষ কোম্পানীগঞ্জে এসে বসবাস করেন।

তাদের অনেকেই দরিদ্র। পরিবারের কেউ মারা গেলে দাফনের জায়গা না পেয়ে অনেক সময় পৌরসভা বা উপজেলা প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়।

শেষ পর্যন্ত অনেকেই বাধ্য হয়ে ব্যক্তিগত কবরস্থানের মালিকদের কাছে অনুরোধ করে দাফনের ব্যবস্থা করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, “আমরা সব সময় শুনি আমাদের কোম্পানীগঞ্জে বড় বড় নেতা ছিলেন, এখনও আছেন।

বলা হয় বসুরহাট একটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভা। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। একটি সরকারি কবরস্থান পর্যন্ত নেই, যা সত্যিই দুঃখজনক।”

তারা আরও বলেন, “বর্তমান সরকারের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম যদি বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে উদ্যোগ নেন, তাহলে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় একটি আধুনিক ও সরকারি কবরস্থান স্থাপন করা সম্ভব।”

স্থানীয়দের আশা, মানবিক এই বিষয়টি দ্রুত বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নেবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো পরিবারকে প্রিয়জনের দাফনের জায়গা নিয়ে আর অনিশ্চয়তায় পড়তে না হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয়

নোয়াখালীতে ডিবির অভিযানে দেড় কেজি গাঁজাসহ একজন গ্রেপ্তার

কোম্পানীগঞ্জ বসুরহাটে নেই সরকারি কবরস্থান, বিপাকে সাধারণ মানুষ,

প্রকাশিত: 04:17:26 pm, Thursday, 12 March 2026

নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌরসভা একটি ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভা। ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই পৌরসভাটি বর্তমানে ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এবং এখানে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের বসবাস।

কিন্তু অবাক করার মতো বিষয় হলো, এত বড় জনবসতি থাকা সত্ত্বেও পুরো কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় এখনো কোনো সরকারি কবরস্থান নেই।

ফলে মৃত্যুর পর অনেক পরিবারকে প্রিয়জনের দাফনের জায়গা খুঁজতে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে।

ধর্মভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় মুসলিম জনগোষ্ঠীর হার প্রায় ৯৬ শতাংশেরও বেশি।

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এই এলাকায় একটি সরকারি কবরস্থানের অভাবকে স্থানীয়রা দীর্ঘদিনের অবহেলার ফল বলেই মনে করছেন।

এই কোম্পানীগঞ্জই জন্ম দিয়েছে দেশের অনেক খ্যাতিমান ব্যক্তিত্বকে। এখানকার সন্তান ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ছিলেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, উপরাষ্ট্রপতি এবং একাধিকবার বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী।

এছাড়া আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরও এই উপজেলারই মানুষ।

বিশিষ্ট সমাজসেবক, উদ্যোক্তা ও ব্যাংকার আবু নাসের মোহাম্মদ আবদুজ জাহেরও কোম্পানীগঞ্জের সন্তান।

তিনি ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের সাবেক চেয়ারম্যান এবং ইবনে সিনা ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের একজন।

এছাড়াও এ অঞ্চলে জন্মেছেন বহু ইসলামী চিন্তাবিদ, সমাজসেবক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। কিন্তু এত কৃতী মানুষের জন্মভূমি হওয়া সত্ত্বেও এখানে এখনো একটি সরকারি কবরস্থান গড়ে ওঠেনি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কোম্পানীগঞ্জে ধনী-গরিব সব শ্রেণির মানুষ বসবাস করলেও অনেক পরিবার রয়েছে যাদের নিজের কোনো জমি নেই। জীবিত অবস্থায় তারা যেমন কষ্টে দিন কাটান, তেমনি মৃত্যুর পরও পরিবারের সদস্যদের পড়তে হয় চরম বিপাকে।

অনেক সময় প্রিয়জনের দাফনের জন্য অন্যের কাছে অনুরোধ করতে হয় বা ব্যক্তিগত কবরস্থানে অনুমতি চাইতে হয়।

এছাড়াও জীবিকার তাগিদে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজারো মানুষ কোম্পানীগঞ্জে এসে বসবাস করেন।

তাদের অনেকেই দরিদ্র। পরিবারের কেউ মারা গেলে দাফনের জায়গা না পেয়ে অনেক সময় পৌরসভা বা উপজেলা প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়।

শেষ পর্যন্ত অনেকেই বাধ্য হয়ে ব্যক্তিগত কবরস্থানের মালিকদের কাছে অনুরোধ করে দাফনের ব্যবস্থা করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, “আমরা সব সময় শুনি আমাদের কোম্পানীগঞ্জে বড় বড় নেতা ছিলেন, এখনও আছেন।

বলা হয় বসুরহাট একটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভা। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। একটি সরকারি কবরস্থান পর্যন্ত নেই, যা সত্যিই দুঃখজনক।”

তারা আরও বলেন, “বর্তমান সরকারের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম যদি বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে উদ্যোগ নেন, তাহলে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় একটি আধুনিক ও সরকারি কবরস্থান স্থাপন করা সম্ভব।”

স্থানীয়দের আশা, মানবিক এই বিষয়টি দ্রুত বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নেবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো পরিবারকে প্রিয়জনের দাফনের জায়গা নিয়ে আর অনিশ্চয়তায় পড়তে না হয়।