নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে বছরজুড়ে বিভিন্ন স্থানে মেলা ও অস্থায়ী বাজার পরিচালনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বসুরহাট, চৌধুরীহাট, বাংলাবাজার ও বসুরহাট বাইপাস এলাকায় এসব আয়োজনের অনুমোদন, সরকারি রাজস্ব আদায় এবং প্রশাসনিক তদারকি নিয়ে স্বচ্ছতা দাবি করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এসব আয়োজন চলায় নিয়মিত ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন সময়ে এসব এলাকায় মেলা ও অস্থায়ী বাজার বসতে দেখা যায়। এসব আয়োজনের প্রয়োজনীয় অনুমতি রয়েছে কি না, নির্ধারিত ফি ও কর পরিশোধ করা হচ্ছে কি না এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মেলা পরিচালনা করতে প্রশাষনিক অনুমোদন এর জটিলতার কারনে কিছু মেলার আয়োজন ‘চায়না বাজার’, ‘ঢাকাইয়া বাজার’ কিংবা অন্য নামে পরিচালিত হচ্ছে। বসুরহাট হাসপাতাল সড়কের মেট্রো টাওয়ারে পরিচালিত ‘চায়না বাজার’ নিয়েও অনুমোদন, নিবন্ধন ও রাজস্ব পরিশোধের বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন কেউ কেউ।
ব্যবসার ধরন ও অবস্থান অনুযায়ী ট্রেড লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় অনুমতি নিতে হতে পারে। এ ছাড়া দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ২৬৮ ধারায় জনউপদ্রব এবং ২৮৩ ধারায় জনসাধারণের চলাচলের পথে বিপদ বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির বিষয়ে বিধান রয়েছে।
স্থানীয় স্থায়ী ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দোকানভাড়া, কর্মচারীদের বেতন, পণ্য কেনার খরচ ও ঋণের বোঝা সামলে তাঁদের ব্যবসা পরিচালনা করতে হয়। অন্যদিকে দীর্ঘ সময় ধরে মেলা ও অস্থায়ী বাজার চলায় ক্রেতা কমে যাচ্ছে এবং বিক্রি ও মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে দাবি তাঁদের।
ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর ভূমিকা এবং প্রশাসনিক তদারকি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন, বসুরহাট পৌর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো মেলা ও অস্থায়ী বাজারের অনুমোদনপত্র, কার্যক্রমের মেয়াদ, প্রযোজ্য কর-ফি পরিশোধ এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে যাচাই করবে।
অনুমোদন বা রাজস্ব-সংক্রান্ত অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং সব বাণিজ্যিক আয়োজনের ক্ষেত্রে সমানভাবে বিধিমালা প্রয়োগের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


হিমেল আহাম্মেদ 




















