
নোয়াখালীর সদর উপজেলায় লাইলি বেগম (৪৬) নামে এক নারীকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় তার ছেলে সৌরভ হোসেন (২৮) ও শাশুড়ি তফুরা বেগমকে (৭৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ভোররাতে উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গোপাই গ্রামের আলী আজম মহুরী বাড়িতে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে গ্রেপ্তার দুজনকে বিচারিক আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
নিহত লাইলি বেগম ওই বাড়ির আলমগীর হোসেনের স্ত্রী। আলমগীর হোসেন গ্রাম পুলিশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি বাড়ি থেকে প্রায় ১৫০ গজ দূরে একটি চায়ের দোকান পরিচালনা করেন এবং রাতে সেখানেই ঘুমান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৮-১০ দিন আগে বাড়ির সামনের পুকুরঘাটে পড়ে লাইলি বেগমের বাম হাত ভেঙে যায়। এতে তিনি স্বাভাবিকভাবে ঘরের কাজ করতে পারছিলেন না। কয়েক দিন ধরে পরিবারের খাবারের ব্যবস্থা পাশের ঘরে থাকা লাইলির শাশুড়ি তফুরা বেগমের ঘরে করা হচ্ছিল।
বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে লাইলি বেগম তফুরা বেগমের ঘরে গিয়ে খাবার খান। পরে নিজ কক্ষে ফিরে যান। রাত ১২টার দিকে আলমগীর হোসেনও খাবার খেয়ে চায়ের দোকানে চলে যান। এরপর লাইলি ও তার ছেলে সৌরভ নিজ নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার ভোর ৬টার দিকে সৌরভ ঘুম থেকে উঠে তার মাকে শয়নকক্ষের মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তিনি বিষয়টি তফুরা বেগমকে জানান। তফুরা ঘরে গিয়ে লাইলির নিথর দেহ দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন।
পরে সৌরভ চায়ের দোকানে গিয়ে তার বাবা আলমগীর হোসেনকে ঘুম থেকে তুলে জানান, তার মা মারা গেছেন। বাড়িতে এসে আলমগীর তার স্ত্রীর মরদেহ দেখতে পান।
পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনে, লাইলি বেগমের গলার ডান পাশে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর কাটা জখমের চিহ্ন পাওয়া যায়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
এছাড়া বাম হাতের কাঁধের সামনের অংশ ও বাম হাঁটুতে ছেলা জখমের চিহ্নও পাওয়া গেছে।
খবর পেয়ে সুধারাম থানার এসআই সুমন বণিক সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে পিবিআই, সিআইডি ও ডিবির সদস্যরা।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সুধারাম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুমন বণিক জানান, প্রথমে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল। পরে তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের ছেলে সৌরভ হোসেন ও তার দাদী তফুরা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, সৌরভ মাদকাসক্ত ও মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত।
তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অন্যদিকে, হত্যাকাণ্ডের আলামত লোপাটের চেষ্টার অভিযোগে তফুরা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ঘটনার প্রকৃত কারণ ও হত্যাকাণ্ডে কার কী ভূমিকা ছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।