
ইতালির রাজধানী রোমে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার একই পরিবারের তিন বাংলাদেশির মরদেহ নিজ হাতে প্রস্তুত করা কবরেই দাফন করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে মরদেহ দেশে পৌঁছানোর পর পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জানাজা শেষে সন্ধ্যায় নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়।
নিহতরা হলেন, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কামাল উদ্দিন বাবুল, তার স্ত্রী এবং পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে আরোয়া ইসলাম আরিশা। একই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে প্রাণে বেঁচে আছেন তাদের একমাত্র ছেলে অয়ন।
মানবিক বিবেচনায় বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতায় বিশেষ পাসপোর্ট নিয়ে মরদেহের সঙ্গে দেশে ফেরেন অয়ন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তিনি জানাজা ও দাফনে অংশ নেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার ইতালির স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রোমের ক্যাসালোত্তি এলাকার পিয়াজ্জা ওর্মেয়ায় নিহত তিনজনের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বৃহস্পতিবার তাদের মরদেহ বাংলাদেশের উদ্দেশে পাঠানো হয়। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মরদেহগুলো দেশে পৌঁছায়।
এর আগে গত ২৬ জুন রাতে ইতালির রোমের পার্শ্ববর্তী ক্যাসালোত্তি এলাকার ভিয়া মন্তিলিওর একটি অ্যাপার্টমেন্টে ছুরিকাঘাতে নিহত হন কামাল উদ্দিন বাবুল, তার স্ত্রী ও মেয়ে। প্রতিবেশীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের ছেলে অয়নকেও উদ্ধার করে স্থানীয় জেমেলি পলিক্লিনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের কারণ উদ্ঘাটনে ইতালির পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
পরিবারের স্বজনেরা জানান, এর আগে ২০২৫ সালের ২ জুলাই চরকাঁকড়া ইউনিয়নে তাদের বাড়ির সামনে ‘লাল বাহিনী’ নামের একটি কথিত ডাকাত দলের রেখে যাওয়া একটি উড়ো চিঠি পাওয়া যায়। এতে পরিবারের কাছে টাকা ও স্বর্ণালংকার দাবি করা হয়েছিল। দাবি পূরণ না করলে ছেলে-নাতিকে হত্যাসহ পরিবারের নারী সদস্যদের ওপর নির্যাতনের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন স্বজনেরা।
পরে নিরাপত্তাঝুঁকির কথা জানিয়ে নিহতের বাবা সিরাজুল ইসলাম কোম্পানীগঞ্জ থানায় ও স্থানীয় সেনা ক্যাম্পে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
নিহত কামাল উদ্দিন বাবুলের বাবা সিরাজুল ইসলাম বলেন, “আমার ছেলে দেশে ছুটিতে এসে কবরস্থানে মাটি ভরাট করেছিল। শেষ পর্যন্ত সেই কবরেই তাকে স্ত্রী-সন্তানসহ দাফন করা হলো।”