নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে আলোচিত গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে দশম শ্রেণির ছাত্রী সুরাইয়া (১৬)-কে অপহরণের চেষ্টার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্তসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, সাইদুল ইসলাম নিলয়, পিতা: দেলোয়ার হোসেন মাসুদ, মাতা: মাইনূর সুলতানা, রামদি ১ নম্বর ওয়ার্ড, বসুরহাট পৌরসভা এবং আহনাফ হোসেন মাহিন (১৯), পিতা: আবুল কাশেম, মাতা: মনোয়ারা বেগম, রামপুর ২ নম্বর ওয়ার্ড, কোম্পানীগঞ্জ, নোয়াখালী।
ভুক্তভোগী সুরাইয়ার পরিবারের বরাতে জানা যায়, গত ২৯ জুলাই রাত আনুমানিক ১টার দিকে সুরাইয়া পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার জেঠাতো ভাইয়ের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে যাচ্ছিল। এ সময় সিরাজপুর এলাকার নবীর দোকান সংলগ্ন সড়কে তাদের বহনকারী মাইক্রোবাসের গতিরোধ করে একটি হাইস মাইক্রোবাস ও কয়েকটি মোটরসাইকেলে আসা ৮ থেকে ১০ জন যুবক।
পরে তারা সুরাইয়াকে অপহরণের চেষ্টা চালায়।
এ সময় মাইক্রোবাসে থাকা যাত্রীদের চিৎকার এবং চালকের উপস্থিত বুদ্ধির কারণে অপহরণের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। খবর পেয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেয়।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত প্রধান অভিযুক্ত নিলয় দীর্ঘদিন ধরে সুরাইয়াকে স্কুলে যাতায়াতের পথে উত্ত্যক্ত করতেন।
এর আগেও তিনি একবার অপহরণের চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় নিলয়কে প্রধান আসামি করে কোম্পানীগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, শনিবার (১আগস্ট) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে স্থানীয় কয়েকজন যুবকের সহযোগিতায় বসুরহাট বাইপাস সড়ক এলাকা থেকে সাইদুল ইসলাম নিলয় ও আহনাফ হোসেন মাহিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কোম্পানীগঞ্জ থানার কর্মকর্তা নুরুল হাকিম বলেন, “গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হবে।
মামলার অন্যান্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

