নোয়াখালীর জেলা স্কুল মাঠে আয়োজিত ইসলামী মহাসমাবেশে ‘হিজবুত তাওহীদ’-কে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন বক্তারা।
শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের তত্ত্বাবধানে, জমইয়্যাতুল মাদারিসিল কওমিয়া নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুর এবং ইসলামবিরোধী কার্যকলাপ প্রতিরোধ কমিটির যৌথ উদ্যোগে এ মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী অভিযোগ করেন, ‘হিজবুত তাওহীদ’ সেবামূলক কার্যক্রমের আড়ালে মুসলমানদের বিভ্রান্ত করছে।
তিনি দাবি করেন, এ সংগঠনের কর্মকাণ্ড দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, স্থিতিশীলতা এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে। তাই সরকারিভাবে সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশের দুই অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন জমইয়্যাতুল মাদারিসিল কওমিয়া নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুরের সভাপতি মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান এবং হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ নোয়াখালী জেলার আমির মাওলানা নিজাম উদ্দিন।
যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন মুফতি মুঈনুদ্দিন তৈয়বপুরী ও মাওলানা মহিউদ্দিন।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন জামিয়া আহলিয়া দারুল উলুম হাটহাজারীর মহাপরিচালক আল্লামা খলিল আহমদ কুরাইশী, খতমে নবুওত সংরক্ষণ কমিটির আমির আল্লামা আব্দুল হামিদ মধুপুরী, ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরার মহাপরিচালক মুফতি আরশাদ রহমানী, জামেয়া ওবায়দিয়া নানুপুরের মুহতামিম আল্লামা সালাউদ্দিন নানুপুরী, ইসলামী মহাসমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক আল্লামা মুফতি মুস্তাকুন্নবী কাসেমী, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় মহাসচিব শায়খ সাজিদুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মো. ফয়জুল করিম, মাওলানা আজিজুল্লাহ নবাব, মাওলানা সিদ্দিক আহমদ নোমান ও মাওলানা নুরুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এছাড়া সমাবেশে নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহজাহান, নোয়াখালী জেলা পরিষদের প্রশাসক হারুনুর রশিদ আজাদ, ব্যবসায়ী নেতা মো. ইকরাম উল্লাহ ডিপটি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা সংহতি প্রকাশ করেন।
সমাবেশে বক্তারা সরকারের প্রতি কয়েকটি দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, ‘হিজবুত তাওহীদ’-কে অবিলম্বে নিষিদ্ধ ঘোষণা, তাদের প্রকাশিত বই-পুস্তক, পত্র-পত্রিকা ও ওয়েবসাইট বন্ধ করা, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সংগঠনটির ব্যাংক হিসাব জব্দ করা এবং সারাদেশে সংগঠনটির বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ।
এছাড়া ঘোষিত দাবিগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দেশব্যাপী গণস্বাক্ষর কর্মসূচি, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে স্মারকলিপি প্রদান এবং আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ‘হিজবুত তাওহীদ’-এর কার্যক্রম নিয়ে সেমিনার, মাহফিল ও মতবিনিময় সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

