নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর পরীক্ষার উত্তরপত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। উত্তরপত্রে প্রশ্নের সঠিক উত্তর না দিয়ে ভুল বানানে বিভিন্ন বাক্য লেখার পাশাপাশি শিক্ষককে “বাবা” সম্বোধন করে নম্বর দেওয়ার আবেদন জানানো হয়।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে এবং স্থানীয় শিক্ষাব্যবস্থার মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
জানা যায়, বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক নিজের ফেসবুক আইডিতে উত্তরপত্রটির ছবি প্রকাশ করে ক্যাপশনে লেখেন, “আমার স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীর অবস্থা দেখুন।” এরপরই পোস্টটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
ভাইরাল হওয়া উত্তরপত্রে দেখা যায়, নির্ধারিত প্রশ্নের যথাযথ উত্তর দেওয়ার পরিবর্তে শিক্ষার্থী অসংলগ্ন ও ভুল বানানে বিভিন্ন বাক্য লিখেছে। এক পর্যায়ে নম্বর পাওয়ার আশায় শিক্ষককে “বাবা” সম্বোধন করে নম্বর দেওয়ার অনুরোধও জানায়।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ শিক্ষার্থীর ভাষাগত ও মৌলিক শিক্ষার দুর্বলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। আবার কেউ মন্তব্য করেছেন, এটি কোনো একক শিক্ষার্থীর সমস্যা নয়, বরং শিক্ষার সামগ্রিক মান ও শেখার ঘাটতির একটি প্রতিফলন।
হাতিয়া উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি আ.ন.ম. হাসান বলেন, “একটি উত্তরপত্র দেখে পুরো শিক্ষাব্যবস্থার মূল্যায়ন করা ঠিক হবে না। তবে এমন ঘটনা অবশ্যই উদ্বেগের। শিক্ষার্থীদের মৌলিক দক্ষতা বাড়াতে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষা প্রশাসনকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”
উত্তরপত্রটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা শিক্ষক বলেন, “শিক্ষার বর্তমান বাস্তবতা তুলে ধরার উদ্দেশ্যেই উত্তরপত্রটি শেয়ার করেছি। কাউকে হেয় করা আমার উদ্দেশ্য ছিল না। শিক্ষার্থীদের শেখার ঘাটতি দূর করতে সবার সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।”
এদিকে স্থানীয় শিক্ষাবিদ ও সচেতন মহলের মতে, একটি উত্তরপত্রকে কেন্দ্র করে পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকে বিচার করা সমীচীন নয়। তবে ঘটনাটি শিক্ষার্থীদের মৌলিক পড়া-লেখার দক্ষতা, পাঠদানের মান এবং মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করেছে। তাদের মতে, শিক্ষার্থীদের মৌলিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়, অভিভাবক এবং শিক্ষা প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।
