Dhaka , Thursday, 29 October 2026
ব্রেকিং নিউজ :
fa fa-square কোম্পানীগঞ্জে বছরজুড়ে মেলা, চাপে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা: অনুমতি ও রাজস্ব আদায় নিয়ে প্রশ্ন fa fa-square বসুরহাটে বাসার তালা অক্ষত, আলমারি ভেঙে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা চুরির অভিযোগ fa fa-square নোয়াখালীতে ডিবির অভিযানে দেড় কেজি গাঁজাসহ একজন গ্রেপ্তার fa fa-square ২৮ অক্টোবর পল্টন ট্র্যাজেডি স্মরণে কোম্পানীগঞ্জে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত, fa fa-square নোয়াখালীতে কমিটি অনুমোদনের সাড়ে ৪ ঘণ্টার মধ্যে এনসিপি নেতার পদত্যাগ fa fa-square নোয়াখালীতে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত fa fa-square সুবর্ণচরে স্ত্রীর স্বজনদের বিরুদ্ধে স্বামীকে মারধরের অভিযোগ, নিরাপত্তা চেয়ে থানায় আবেদন fa fa-square হাতিয়ায় শিক্ষার্থীদের পাশে উপজেলা প্রশাসন, বিতরণ করল ৩০০ স্কুল ব্যাগ fa fa-square দাম্পত্য কলহের জেরে কোম্পানীগঞ্জ থানার গেটের সামনে দুই পক্ষের মারামারি, আটক ৫ fa fa-square নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৪০

কোম্পানীগঞ্জ ইউনাইটেড হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা ও অ্যানেস্থেসিয়া চিকিৎসকের অবহেলায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ।

ছবি ড:তাপস

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাটে অবস্থিত কোম্পানীগঞ্জ ইউনাইটেড হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসকদের অবহেলার কারণে এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মৃত প্রসূতি সুলতানা মমতাজ (২৭)। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, সিজারিয়ান অপারেশনের সময় চিকিৎসাগত ত্রুটি ও অ্যানেস্থেসিয়ার অতিরিক্ত ডোজের কারণে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।

পরবর্তীতে দীর্ঘ ১২ দিন রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, সন্তান প্রসবের জন্য সুলতানা মমতাজকে কোম্পানীগঞ্জ ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সিজারিয়ান অপারেশনের সময় অ্যানেস্থেসিয়া প্রয়োগের পর তিনি স্ট্রোক করেন এবং তার হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে যায় বলে অভিযোগ স্বজনদের।

তাদের দাবি, ঘটনার পর হাসপাতালে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না।

প্রায় ৩০ মিনিট পর একজন চিকিৎসক এসে রোগীকে সিপিআর (CPR) প্রদান করেন। তবে দীর্ঘ সময় মস্তিষ্কে পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও রক্ত সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় তার মস্তিষ্কে গুরুতর ক্ষতি হয়।

পরবর্তীতে তাকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে কয়েকদিন চিকিৎসা চলার পর আর্থিক সংকটের কারণে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই দিন পর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
মৃতের মা ও বোন অভিযোগ করে বলেন, “হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের অবহেলার কারণেই আমাদের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে।

দীর্ঘদিন চিকিৎসা চালিয়ে গেলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কিংবা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে কেউ আমাদের খোঁজ নেয়নি।”

পরিবার আরও জানায়, সুলতানা মমতাজের আগের দুটি সন্তান রয়েছে। সদ্য জন্ম নেওয়া নবজাতক সন্তান জন্মের পরপরই মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

তাদের মতে, হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম, পোস্ট-অপারেটিভ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা থাকলে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের অ্যানেস্থেসিয়া চিকিৎসক ডা. তাপস পাল বলেন, “হাসপাতালে যদি পূর্ণাঙ্গ অপারেশন ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে ডাক্তার কী করবে?” অপারেশনের পর রোগীকে কতক্ষণ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, “২০ থেকে ২৫ মিনিট পর কেবিনে দেওয়া হয়েছে।”

পোস্ট-অপারেটিভ রুমে রোগীকে রাখা হয়নি কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমাদের এখানে পোস্ট-অপারেটিভ রুম নেই, এভাবেই চলে আসছে।” রোগীর মৃত্যুর দায় সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “রোগীর হায়াত না থাকলে ডাক্তারদের দোষ কী?” পরে তিনি ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

অপারেশনকারী চিকিৎসক ডা. রোশন জাহান লাকির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অপারেশন সম্পন্ন করার বিষয়টি স্বীকার করেন। হাসপাতালের অব্যবস্থাপনার কারণে রোগীর এমন পরিস্থিতি হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “অনেক হাসপাতালেই পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা না থাকায় রোগী ও চিকিৎসক উভয়কেই নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।” দায় এড়াতে পারেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “অবশ্যই না।”

হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়সাল করিম বলেন, “উপজেলার অনেক হাসপাতালই এভাবেই পরিচালিত হয়ে আসছে। রোগীর হায়াত না থাকলে শুধু হাসপাতালের দোষ বলা যায় না।” এ বিষয়ে আরও জানতে চাইলে তিনিও ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এদিকে মৃতের পরিবারের অভিযোগ, তারা আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করলে হাসপাতাল মালিকপক্ষ, তাদের আত্মীয়-স্বজন এবং স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি সমঝোতার উদ্যোগ নেন। এ সময় ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৫ লাখ টাকা প্রদান করা হয় এবং একটি অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলে দাবি করেন মৃতের মা।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয়

কোম্পানীগঞ্জে বছরজুড়ে মেলা, চাপে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা: অনুমতি ও রাজস্ব আদায় নিয়ে প্রশ্ন

কোম্পানীগঞ্জ ইউনাইটেড হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা ও অ্যানেস্থেসিয়া চিকিৎসকের অবহেলায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ।

প্রকাশিত: 01:50:50 pm, Monday, 15 June 2026
ছবি ড:তাপস

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাটে অবস্থিত কোম্পানীগঞ্জ ইউনাইটেড হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসকদের অবহেলার কারণে এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মৃত প্রসূতি সুলতানা মমতাজ (২৭)। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, সিজারিয়ান অপারেশনের সময় চিকিৎসাগত ত্রুটি ও অ্যানেস্থেসিয়ার অতিরিক্ত ডোজের কারণে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।

পরবর্তীতে দীর্ঘ ১২ দিন রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, সন্তান প্রসবের জন্য সুলতানা মমতাজকে কোম্পানীগঞ্জ ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সিজারিয়ান অপারেশনের সময় অ্যানেস্থেসিয়া প্রয়োগের পর তিনি স্ট্রোক করেন এবং তার হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে যায় বলে অভিযোগ স্বজনদের।

তাদের দাবি, ঘটনার পর হাসপাতালে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না।

প্রায় ৩০ মিনিট পর একজন চিকিৎসক এসে রোগীকে সিপিআর (CPR) প্রদান করেন। তবে দীর্ঘ সময় মস্তিষ্কে পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও রক্ত সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় তার মস্তিষ্কে গুরুতর ক্ষতি হয়।

পরবর্তীতে তাকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে কয়েকদিন চিকিৎসা চলার পর আর্থিক সংকটের কারণে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই দিন পর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
মৃতের মা ও বোন অভিযোগ করে বলেন, “হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের অবহেলার কারণেই আমাদের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে।

দীর্ঘদিন চিকিৎসা চালিয়ে গেলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কিংবা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে কেউ আমাদের খোঁজ নেয়নি।”

পরিবার আরও জানায়, সুলতানা মমতাজের আগের দুটি সন্তান রয়েছে। সদ্য জন্ম নেওয়া নবজাতক সন্তান জন্মের পরপরই মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

তাদের মতে, হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম, পোস্ট-অপারেটিভ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা থাকলে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের অ্যানেস্থেসিয়া চিকিৎসক ডা. তাপস পাল বলেন, “হাসপাতালে যদি পূর্ণাঙ্গ অপারেশন ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে ডাক্তার কী করবে?” অপারেশনের পর রোগীকে কতক্ষণ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, “২০ থেকে ২৫ মিনিট পর কেবিনে দেওয়া হয়েছে।”

পোস্ট-অপারেটিভ রুমে রোগীকে রাখা হয়নি কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমাদের এখানে পোস্ট-অপারেটিভ রুম নেই, এভাবেই চলে আসছে।” রোগীর মৃত্যুর দায় সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “রোগীর হায়াত না থাকলে ডাক্তারদের দোষ কী?” পরে তিনি ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

অপারেশনকারী চিকিৎসক ডা. রোশন জাহান লাকির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অপারেশন সম্পন্ন করার বিষয়টি স্বীকার করেন। হাসপাতালের অব্যবস্থাপনার কারণে রোগীর এমন পরিস্থিতি হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “অনেক হাসপাতালেই পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা না থাকায় রোগী ও চিকিৎসক উভয়কেই নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।” দায় এড়াতে পারেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “অবশ্যই না।”

হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়সাল করিম বলেন, “উপজেলার অনেক হাসপাতালই এভাবেই পরিচালিত হয়ে আসছে। রোগীর হায়াত না থাকলে শুধু হাসপাতালের দোষ বলা যায় না।” এ বিষয়ে আরও জানতে চাইলে তিনিও ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এদিকে মৃতের পরিবারের অভিযোগ, তারা আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করলে হাসপাতাল মালিকপক্ষ, তাদের আত্মীয়-স্বজন এবং স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি সমঝোতার উদ্যোগ নেন। এ সময় ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৫ লাখ টাকা প্রদান করা হয় এবং একটি অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলে দাবি করেন মৃতের মা।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।