নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট বাজারে অবস্থিত এস বি কমিউনিকেশন নামের একটি পরিবেশক প্রতিষ্ঠানের ক্যাশ ভল্ট থেকে প্রায় ৬০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল হাকীম।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, বসুরহাট বাজারের (বিকাশ অনলাইন ব্যাংকিং এর পরিবেশক) এস বি কমিউনিকেশন প্রতিষ্ঠানে ক্যাশিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন অমিত সাহা (৩৩)।
তিনি ২০২৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠানটিতে যোগদান করেন। সম্প্রতি তার আচরণ ও কর্মস্থলে উপস্থিতি নিয়ে সহকর্মীদের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়।
গত রোববার (১৪ জুন) সকাল ১০টার দিকে অমিত সাহা কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
পরে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে একজন কর্মকর্তাকে তার বাসায় পাঠানো হলে তিনি দ্রুত অফিসে আসবেন বলে জানান। কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও তিনি কর্মস্থলে ফেরেননি।
পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা পুনরায় তার বাসায় গিয়ে দেখতে পান বাসাটি তালাবদ্ধ এবং তিনি সেখানে নেই। এতে সন্দেহ হলে তারা প্রতিষ্ঠানের ক্যাশ ভল্ট ও হিসাবপত্র যাচাই করেন। এ সময় ভল্টে প্রায় ৬০ লাখ টাকার ঘাটতি ধরা পড়ে।
অভিযোগে বলা হয়, ক্যাশিয়ার অমিত সাহা তিনটি পৃথক ক্যাশ চালানের মাধ্যমে যথাক্রমে ২০ লাখ টাকা, ২১ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা তিন কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তরের তথ্য নথিভুক্ত করেন। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ওই অর্থ গ্রহণের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। ঘটনার পর থেকেই অমিত সাহা পলাতক রয়েছেন।
এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের মালিক ইমন সাহা ছয়জনকে আসামি করে কোম্পানীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার ভিত্তিতে একই দিন রাত ১০টার দিকে উপজেলার বসুরহাট বাজারের কলেজ গেট এলাকা থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, কবিরহাট উপজেলার নূরসোনাপুর গ্রামের আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে সাইফুল ইসলাম (২৯), একই উপজেলার কালুয়া দিঘিরপাড় এলাকার শরিফ উল্যার ছেলে ইমাম হোসেন (২৪) এবং কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের আনোয়ার আহমেদের ছেলে নজরুল ইসলাম (২১)।
সোমবার তাদের নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ইমন সাহা অভিযোগ করে বলেন, পরিকল্পিতভাবে প্রতারণার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের ক্যাশ ভল্ট থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। তিনি আত্মসাৎ হওয়া অর্থ দ্রুত উদ্ধার এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মো. নুরুল হাকীম বলেন, “ঘটনার পর দায়ের করা মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।”
