Dhaka , Wednesday, 28 October 2026
ব্রেকিং নিউজ :
fa fa-square নোয়াখালীতে কমিটি অনুমোদনের সাড়ে ৪ ঘণ্টার মধ্যে এনসিপি নেতার পদত্যাগ fa fa-square নোয়াখালীতে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত fa fa-square সুবর্ণচরে স্ত্রীর স্বজনদের বিরুদ্ধে স্বামীকে মারধরের অভিযোগ, নিরাপত্তা চেয়ে থানায় আবেদন fa fa-square হাতিয়ায় শিক্ষার্থীদের পাশে উপজেলা প্রশাসন, বিতরণ করল ৩০০ স্কুল ব্যাগ fa fa-square দাম্পত্য কলহের জেরে কোম্পানীগঞ্জ থানার গেটের সামনে দুই পক্ষের মারামারি, আটক ৫ fa fa-square নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৪০ fa fa-square সেনবাগে সবজি তুলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নারীর মৃত্যু, মেয়ে গুরুতর আহত fa fa-square হাতিয়ায় ১৫ লাখ টাকার অবৈধ পামওয়েল জব্দ fa fa-square সুবর্ণচরে পুকুরে গোসলে নেমে দুই বোনের মৃত্যু fa fa-square নোয়াখালীতে সেনাবাহিনীর পোশাকে প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি, স্বর্ণ-টাকা লুট

সুবর্ণচরে ‘মালচিং’ পদ্ধতিতে তরমুজ চাষে ফলনের বিপ্লব, দ্বিগুণ লাভের আশা।

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় আধুনিক ‘মালচিং’ পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ করে বদলে গেছে কৃষকদের চিত্র। নতুন এই প্রযুক্তির ব্যবহারে কমেছে উৎপাদন খরচ, কমেছে পোকামাকড়ের আক্রমণ, আর বেড়েছে ফলন—ফলে দ্বিগুণ লাভের আশা করছেন কৃষকেরা।

চর জুবলী ইউনিয়নের উত্তর কচ্ছপিয়া গ্রামের কৃষক আবুল হাশেম বলেন, “আগে তরমুজ চাষে লাভ হতো না।

এবার মালচিং পদ্ধতিতে চাষ করে খরচ কমেছে, ফলনও অনেক বেশি হয়েছে।”

প্রায় এক দশক ধরে তরমুজ চাষ করে আসা আবুল হাশেম জানান, গত কয়েক বছর লোকসানের মুখ দেখলেও তিনি হাল ছাড়েননি। এবার পরীক্ষামূলকভাবে মালচিং পদ্ধতি ব্যবহার করে সফলতা পেয়েছেন।

কী এই মালচিং পদ্ধতি?
মালচিং পদ্ধতিতে মাটির ওপর বিশেষ ধরনের পচনশীল পলিথিন বা মালচিং পেপার দিয়ে বেড ঢেকে দেওয়া হয়। এই পেপারের নিচের অংশ কালো এবং ওপরের অংশ রুপালি। কালো অংশ মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখে, ফলে সেচের পানির প্রয়োজন কমে যায়। আর রুপালি অংশ সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে পোকামাকড়ের আক্রমণ কমায়। পাশাপাশি আগাছা জন্মাতে পারে না।

আবুল হাশেম আরও জানান, তিনি মালচিংয়ের পাশাপাশি ফেরোমন ফাঁদ ও আঠাযুক্ত প্লাস্টিক ফাঁদ ব্যবহার করেছেন। এতে ক্ষতিকর পোকামাকড়ের আক্রমণ অনেকটাই কমেছে এবং ফলন বেড়েছে সনাতন পদ্ধতির তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।

একই এলাকার কৃষক মোজাম্মেল হক বলেন, “বছরের পর বছর সনাতন পদ্ধতিতে চাষ করেছি। এবার মালচিং পদ্ধতিতে চাষ করে লাভের মুখ দেখছি। পাশের জমিতে সনাতন পদ্ধতিতে চাষ করে অনেকেই খরচ তুলতে পারেনি, কিন্তু আমার খেতে দ্বিগুণ লাভের সম্ভাবনা।”

আরেক কৃষক আমির হোসেন জানান, পাশের খেতে ভালো ফলন দেখে তিনিও আগামী বছর মালচিং পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ করার পরিকল্পনা করছেন।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, আবুল হাশেমের প্রায় চার একর জমিজুড়ে তরমুজের খেত মালচিং পেপার দিয়ে ঢাকা। খেতজুড়ে বসানো হয়েছে ফেরোমন ও আঠাযুক্ত ফাঁদ, যা পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হারুন অর রশিদ জানান, চলতি মৌসুমে সুবর্ণচরে প্রায় ৯০০ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ২০০ হেক্টর বেশি।

কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর চাষে উৎসাহিত করতে সরকারি উদ্যোগে ৩৮টি প্রদর্শনী প্লটে মালচিং পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থার সহায়তায়ও অনেক কৃষক এ পদ্ধতিতে চাষ করে লাভবান হয়েছেন।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মালচিং পদ্ধতির প্রসার ঘটলে ভবিষ্যতে তরমুজ চাষে আরও বড় সাফল্য আসবে এবং উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষকদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয়

নোয়াখালীতে কমিটি অনুমোদনের সাড়ে ৪ ঘণ্টার মধ্যে এনসিপি নেতার পদত্যাগ

সুবর্ণচরে ‘মালচিং’ পদ্ধতিতে তরমুজ চাষে ফলনের বিপ্লব, দ্বিগুণ লাভের আশা।

প্রকাশিত: 12:42:35 pm, Friday, 3 April 2026

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় আধুনিক ‘মালচিং’ পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ করে বদলে গেছে কৃষকদের চিত্র। নতুন এই প্রযুক্তির ব্যবহারে কমেছে উৎপাদন খরচ, কমেছে পোকামাকড়ের আক্রমণ, আর বেড়েছে ফলন—ফলে দ্বিগুণ লাভের আশা করছেন কৃষকেরা।

চর জুবলী ইউনিয়নের উত্তর কচ্ছপিয়া গ্রামের কৃষক আবুল হাশেম বলেন, “আগে তরমুজ চাষে লাভ হতো না।

এবার মালচিং পদ্ধতিতে চাষ করে খরচ কমেছে, ফলনও অনেক বেশি হয়েছে।”

প্রায় এক দশক ধরে তরমুজ চাষ করে আসা আবুল হাশেম জানান, গত কয়েক বছর লোকসানের মুখ দেখলেও তিনি হাল ছাড়েননি। এবার পরীক্ষামূলকভাবে মালচিং পদ্ধতি ব্যবহার করে সফলতা পেয়েছেন।

কী এই মালচিং পদ্ধতি?
মালচিং পদ্ধতিতে মাটির ওপর বিশেষ ধরনের পচনশীল পলিথিন বা মালচিং পেপার দিয়ে বেড ঢেকে দেওয়া হয়। এই পেপারের নিচের অংশ কালো এবং ওপরের অংশ রুপালি। কালো অংশ মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখে, ফলে সেচের পানির প্রয়োজন কমে যায়। আর রুপালি অংশ সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে পোকামাকড়ের আক্রমণ কমায়। পাশাপাশি আগাছা জন্মাতে পারে না।

আবুল হাশেম আরও জানান, তিনি মালচিংয়ের পাশাপাশি ফেরোমন ফাঁদ ও আঠাযুক্ত প্লাস্টিক ফাঁদ ব্যবহার করেছেন। এতে ক্ষতিকর পোকামাকড়ের আক্রমণ অনেকটাই কমেছে এবং ফলন বেড়েছে সনাতন পদ্ধতির তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।

একই এলাকার কৃষক মোজাম্মেল হক বলেন, “বছরের পর বছর সনাতন পদ্ধতিতে চাষ করেছি। এবার মালচিং পদ্ধতিতে চাষ করে লাভের মুখ দেখছি। পাশের জমিতে সনাতন পদ্ধতিতে চাষ করে অনেকেই খরচ তুলতে পারেনি, কিন্তু আমার খেতে দ্বিগুণ লাভের সম্ভাবনা।”

আরেক কৃষক আমির হোসেন জানান, পাশের খেতে ভালো ফলন দেখে তিনিও আগামী বছর মালচিং পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ করার পরিকল্পনা করছেন।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, আবুল হাশেমের প্রায় চার একর জমিজুড়ে তরমুজের খেত মালচিং পেপার দিয়ে ঢাকা। খেতজুড়ে বসানো হয়েছে ফেরোমন ও আঠাযুক্ত ফাঁদ, যা পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হারুন অর রশিদ জানান, চলতি মৌসুমে সুবর্ণচরে প্রায় ৯০০ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ২০০ হেক্টর বেশি।

কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর চাষে উৎসাহিত করতে সরকারি উদ্যোগে ৩৮টি প্রদর্শনী প্লটে মালচিং পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থার সহায়তায়ও অনেক কৃষক এ পদ্ধতিতে চাষ করে লাভবান হয়েছেন।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মালচিং পদ্ধতির প্রসার ঘটলে ভবিষ্যতে তরমুজ চাষে আরও বড় সাফল্য আসবে এবং উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষকদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হবে।