নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে অবৈধভাবে বালু পরিবহন ও ওভারলোডেড ট্রাক চালানোর দায়ে ৯ জন চালককে অর্থদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। জরিমানা পরিশোধ না করায় তাদের মধ্যে ৪ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার বিভিন্ন পয়েন্টে এ অভিযান পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুবাইয়া বিনতে কাশেম।

অভিযানকালে বালুবাহী ড্রাম ট্রাক ও ওভারলোডেড ট্রাক চালানোর অপরাধে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ এবং বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০ অনুযায়ী ট্রাকচালক মহিউদ্দিন, নূর হোসেন, ইসমাইল ও সাজুকে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
এছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া ট্রাক চালানোর দায়ে মাইনুদ্দীন নামের আরেক চালককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এছাড়াও এমদাদুল হক, দেলোয়ার হোসেন, রুপম ও সাকিব নামের চার ড্রাম ট্রাকচালককে একই আইনে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। তবে অর্থদণ্ড পরিশোধ না করায় তাদের মধ্যে ৪ জনকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার মুছাপুর ও চরএলাহী এলাকায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই নৌকা ও বাল্কহেডের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এর ফলে উপজেলার অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
এছাড়া খোলা ট্রাকে বালু পরিবহনের কারণে স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ ধুলাবালি, শব্দদূষণ ও যানজটে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। একই সঙ্গে নদীর তীর ভাঙনের ঝুঁকিও বাড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুবাইয়া বিনতে কাশেম বলেন, অবৈধভাবে বালু পরিবহনের কারণে একদিকে যেমন রাস্তা-ঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও বাড়ছে।
তাই অনুমোদনহীন বালু ব্যবসায়ী ও ট্রাকচালকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

