নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার আলাইয়ারপুর ইউনিয়নের ভবভদ্রী গ্রামের সোনা মিয়া ব্যাপারী বাড়িতে ওমানপ্রবাসী যুবদল নেতা আবদুল খালেকের বসতঘরে গভীর রাতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে ঘরবাড়ি ও মূল্যবান মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ঘটনার পর পরিবারটি খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
রোববার (৭ জুন) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, পারিবারিক কাজে আবদুল খালেকের পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়ের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এ সুযোগে শুক্রবার (৬ জুন) গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা বসতঘরের চারপাশে দাহ্য পদার্থ ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। মুহূর্তেই আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘরটি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়।
আগুনে রান্নাঘরের হাড়ি-পাতিল, ফ্রিজ, খাটসহ প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী পুড়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘরের ভেতর থেকে কিছুই উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এক রাতেই তাদের সবকিছু শেষ হয়ে গেছে।
খবর পেয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানা পুলিশসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
প্রবাসী আবদুল খালেকের স্বজনরা অভিযোগ করে বলেন, পরিকল্পিতভাবে এই অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও ঘটনার নিন্দা জানিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
আলাইয়ারপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, “ঘটনাস্থলে এসে দেখেছি প্রবাসীর পরিবারটির সবকিছু ধ্বংস হয়ে গেছে। আমরা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক।”
১নং ওয়ার্ডের সদস্য কামরুল হাসান কমল বলেন, “আবদুল খালেকের স্ত্রী ও তিন সন্তান রয়েছে। তারা এখন প্রায় নিঃস্ব। তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই। বিচারের পাশাপাশি পরিবারটির পুনর্বাসনে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।”
আলাইয়ারপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুর হোসেন মানিক বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে বিএনপি থাকবে। ইতোমধ্যে দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পরিবারটিকে সহযোগিতার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে নোয়াখালী জেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা বোরহান উদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি দলীয় ও ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বেগমগঞ্জ সার্কেল) ইমরান খান বলেন, “খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে অগ্নিসংযোগের রহস্য উদঘাটন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
