Dhaka , Wednesday, 28 October 2026
ব্রেকিং নিউজ :
fa fa-square নোয়াখালীতে ডিবির অভিযানে দেড় কেজি গাঁজাসহ একজন গ্রেপ্তার fa fa-square ২৮ অক্টোবর পল্টন ট্র্যাজেডি স্মরণে কোম্পানীগঞ্জে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত, fa fa-square নোয়াখালীতে কমিটি অনুমোদনের সাড়ে ৪ ঘণ্টার মধ্যে এনসিপি নেতার পদত্যাগ fa fa-square নোয়াখালীতে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত fa fa-square সুবর্ণচরে স্ত্রীর স্বজনদের বিরুদ্ধে স্বামীকে মারধরের অভিযোগ, নিরাপত্তা চেয়ে থানায় আবেদন fa fa-square হাতিয়ায় শিক্ষার্থীদের পাশে উপজেলা প্রশাসন, বিতরণ করল ৩০০ স্কুল ব্যাগ fa fa-square দাম্পত্য কলহের জেরে কোম্পানীগঞ্জ থানার গেটের সামনে দুই পক্ষের মারামারি, আটক ৫ fa fa-square নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৪০ fa fa-square সেনবাগে সবজি তুলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নারীর মৃত্যু, মেয়ে গুরুতর আহত fa fa-square হাতিয়ায় ১৫ লাখ টাকার অবৈধ পামওয়েল জব্দ

৫ বছরেও চালু হয়নি বসুরহাট পৌরসভায় ওয়াসা, ঝুঁকিতে কোটি টাকার প্রকল্প

হিমেল আহাম্মেদ-নোয়াখালীর খবর

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার প্রথম শ্রেণির পৌরসভা বসুরহাটে কোটি টাকার ওয়াসা প্রকল্প উদ্বোধনের আগেই অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

প্রায় ৪০ হাজার মানুষের দীর্ঘদিনের পানির দাবির প্রেক্ষিতে পাঁচ বছর আগে অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পটির কাজ প্রায় শেষ হলেও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পানি সরবরাহ শুরু হয়নি।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ৫০ জন গ্রাহককে সংযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ উঠেছে, নিয়ম অনুযায়ী একজন গ্রাহক একটি সংযোগ পাওয়ার কথা থাকলেও অর্থের বিনিময়ে অসাধু উপায়ে একাধিক সংযোগ নেওয়া হয়েছে। একই ভবনে ৮ থেকে ১০টি পর্যন্ত সংযোগ থাকার ঘটনাও দেখা গেছে।


এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইঞ্জিনিয়ার ইয়াসিন বলেন, “আইন অনুযায়ী একজন গ্রাহক একটির বেশি সংযোগ নিতে পারেন না। অতিরিক্ত চাহিদা থাকলে আবেদন সাপেক্ষে বড় পাইপলাইন দেওয়া যায়। একাধিক সংযোগ দেওয়া বৈধ নয়।”
প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পাঁচ বছর পার হলেও এখনো পানি সরবরাহ শুরু না হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, “এখন পর্যন্ত আমরা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝে পাইনি। এ বিষয়ে এর বেশি কিছু জানি না।”

সরেজমিনে দেখা গেছে, পানির রিজার্ভ ট্যাংক ও পাইপলাইনে মানহীন বা পুরোনো লোহার পাইপ ব্যবহার করা হয়েছে।

অনেক স্থানে পাইপে মরিচা ধরা স্পষ্ট। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় ১ হাজার ৫০টি পরিবারের সংযোগ লাইন অকেজো হয়ে পড়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।


স্থানীয়দের প্রশ্ন, উদ্বোধনের আগেই যদি অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনায় প্রকল্পটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে এর দায় কে নেবে?


পৌর এলাকার বাসিন্দারা জানান, বছরের পর বছর অপেক্ষার পরও তারা কাঙ্ক্ষিত পানি পাচ্ছেন না। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ফখরুল সাহেবের প্রতি আস্থা রেখে তারা দ্রুত তদন্ত ও প্রকল্প চালুর দাবি জানিয়েছেন।
এখন পৌরবাসীর একটাই প্রশ্ন—কোটি টাকার এই প্রকল্প আদৌ আলোর মুখ দেখবে, নাকি উদ্বোধনের আগেই ধ্বংসের মুখে পড়বে?

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয়

নোয়াখালীতে ডিবির অভিযানে দেড় কেজি গাঁজাসহ একজন গ্রেপ্তার

৫ বছরেও চালু হয়নি বসুরহাট পৌরসভায় ওয়াসা, ঝুঁকিতে কোটি টাকার প্রকল্প

প্রকাশিত: 02:40:41 pm, Friday, 27 February 2026

হিমেল আহাম্মেদ-নোয়াখালীর খবর

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার প্রথম শ্রেণির পৌরসভা বসুরহাটে কোটি টাকার ওয়াসা প্রকল্প উদ্বোধনের আগেই অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

প্রায় ৪০ হাজার মানুষের দীর্ঘদিনের পানির দাবির প্রেক্ষিতে পাঁচ বছর আগে অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পটির কাজ প্রায় শেষ হলেও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পানি সরবরাহ শুরু হয়নি।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ৫০ জন গ্রাহককে সংযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ উঠেছে, নিয়ম অনুযায়ী একজন গ্রাহক একটি সংযোগ পাওয়ার কথা থাকলেও অর্থের বিনিময়ে অসাধু উপায়ে একাধিক সংযোগ নেওয়া হয়েছে। একই ভবনে ৮ থেকে ১০টি পর্যন্ত সংযোগ থাকার ঘটনাও দেখা গেছে।


এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইঞ্জিনিয়ার ইয়াসিন বলেন, “আইন অনুযায়ী একজন গ্রাহক একটির বেশি সংযোগ নিতে পারেন না। অতিরিক্ত চাহিদা থাকলে আবেদন সাপেক্ষে বড় পাইপলাইন দেওয়া যায়। একাধিক সংযোগ দেওয়া বৈধ নয়।”
প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পাঁচ বছর পার হলেও এখনো পানি সরবরাহ শুরু না হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, “এখন পর্যন্ত আমরা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝে পাইনি। এ বিষয়ে এর বেশি কিছু জানি না।”

সরেজমিনে দেখা গেছে, পানির রিজার্ভ ট্যাংক ও পাইপলাইনে মানহীন বা পুরোনো লোহার পাইপ ব্যবহার করা হয়েছে।

অনেক স্থানে পাইপে মরিচা ধরা স্পষ্ট। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় ১ হাজার ৫০টি পরিবারের সংযোগ লাইন অকেজো হয়ে পড়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।


স্থানীয়দের প্রশ্ন, উদ্বোধনের আগেই যদি অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনায় প্রকল্পটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে এর দায় কে নেবে?


পৌর এলাকার বাসিন্দারা জানান, বছরের পর বছর অপেক্ষার পরও তারা কাঙ্ক্ষিত পানি পাচ্ছেন না। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ফখরুল সাহেবের প্রতি আস্থা রেখে তারা দ্রুত তদন্ত ও প্রকল্প চালুর দাবি জানিয়েছেন।
এখন পৌরবাসীর একটাই প্রশ্ন—কোটি টাকার এই প্রকল্প আদৌ আলোর মুখ দেখবে, নাকি উদ্বোধনের আগেই ধ্বংসের মুখে পড়বে?