Dhaka , Wednesday, 28 October 2026
ব্রেকিং নিউজ :
fa fa-square নোয়াখালীতে কমিটি অনুমোদনের সাড়ে ৪ ঘণ্টার মধ্যে এনসিপি নেতার পদত্যাগ fa fa-square নোয়াখালীতে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত fa fa-square সুবর্ণচরে স্ত্রীর স্বজনদের বিরুদ্ধে স্বামীকে মারধরের অভিযোগ, নিরাপত্তা চেয়ে থানায় আবেদন fa fa-square হাতিয়ায় শিক্ষার্থীদের পাশে উপজেলা প্রশাসন, বিতরণ করল ৩০০ স্কুল ব্যাগ fa fa-square দাম্পত্য কলহের জেরে কোম্পানীগঞ্জ থানার গেটের সামনে দুই পক্ষের মারামারি, আটক ৫ fa fa-square নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৪০ fa fa-square সেনবাগে সবজি তুলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নারীর মৃত্যু, মেয়ে গুরুতর আহত fa fa-square হাতিয়ায় ১৫ লাখ টাকার অবৈধ পামওয়েল জব্দ fa fa-square সুবর্ণচরে পুকুরে গোসলে নেমে দুই বোনের মৃত্যু fa fa-square নোয়াখালীতে সেনাবাহিনীর পোশাকে প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি, স্বর্ণ-টাকা লুট

নোয়াখালীতে ৮৭৫ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৬১টি ঝুঁকিপূর্ণ, উদ্বেগে ভোটাররা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে নোয়াখালী জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের মোট ৮৭৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৬১টিকে ঝুঁকিপূর্ণ (অতি গুরুত্বপূর্ণ) হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। এসব কেন্দ্রে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘোষণা সত্ত্বেও সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগ কাটেনি।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, জেলার সব ভোটকেন্দ্রই সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাড়তি পুলিশ, বিজিবি, সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে। জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ভোটারদের ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই বলে আশ্বস্ত করলেও বিশেষ করে নারী ভোটারদের মধ্যে কেন্দ্রে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভীতি ও সহিংসতার আশঙ্কা রয়ে গেছে।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, নোয়াখালী জেলায় মোট ভোটকেন্দ্র ৮৭৫টি। এর মধ্যে ৬১৪টি সাধারণ এবং ২৬১টি অতি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
নোয়াখালী-১ আসনে ১৪১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৮৮টি সাধারণ এবং ৫৩টি অতি গুরুত্বপূর্ণ।
নোয়াখালী-২ আসনে ১১১টি কেন্দ্রের মধ্যে ৭৩টি সাধারণ ও ৩৮টি অতি গুরুত্বপূর্ণ।
নোয়াখালী-৩ আসনে মোট ১৬৬টি কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ১০৬টি সাধারণ এবং ৬০টি অতি গুরুত্বপূর্ণ, যা ছয়টি আসনের মধ্যে সর্বাধিক।
নোয়াখালী-৪ আসনে ১৯৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৫৬টি সাধারণ এবং ৪২টি অতি গুরুত্বপূর্ণ।
নোয়াখালী-৫ আসনে ১৫৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ১০৪টি সাধারণ ও ৫১টি অতি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে।
অন্যদিকে, দ্বীপ উপজেলা হাতিয়া নিয়ে গঠিত নোয়াখালী-৬ আসনে মোট ১০৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ৮৭টি সাধারণ এবং মাত্র ১৭টি অতি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে, যা সর্বনিম্ন।
একাধিক ভোটারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ছয়টি আসনে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন ও স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ৪৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রচারণা জোরদার হলেও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোকে ঘিরে ভোটার, প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। অনেকেই ভোটের দিন ও আগের দিন সহিংসতার আশঙ্কা করছেন।
সংসদীয় আসনের একাধিক প্রার্থী অভিযোগ করে গণমাধ্যমকে বলেন, একটি দলের নেতাকর্মীরা ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করছে। নারীদের হেনস্তার ঘটনাও ঘটছে। পাশাপাশি উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে সাধারণ ভোটারদের ভয় দেখানো হচ্ছে। এসব বন্ধে নিরপেক্ষ ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
নোয়াখালী-৬ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেন, হাতিয়ায় পতিত সরকারের লোকজন একটি নির্দিষ্ট প্রতীকের পক্ষে কাজ করছে এবং ভোটারদের ভয় দেখানো হচ্ছে। এমনকি কেন্দ্রে এজেন্ট থাকতে পারবে না বলেও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
একই আসনের বিএনপির প্রার্থী মাহবুবুর রহমান শামীম বলেন, তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে এবং এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা রয়েছে। ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, তা প্রশাসনকে নিশ্চিত করতে হবে।
নির্বাচন নিরাপত্তায় নোয়াখালীতে অন্যান্য বাহিনীর পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করছে ফেনী ৪ বিজিবি ব্যাটালিয়ন। ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোশারফ জানান, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন ও ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করাই বিজিবির প্রধান লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে ১৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। টহল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স সক্রিয় থাকবে এবং সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে চেকপোস্ট ও তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
নোয়াখালীর পুলিশ সুপার টি. এম. মোশাররফ হোসেন বলেন, হাতিয়ায় নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডসহ পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি জেলার অন্যান্য পাঁচটি আসনে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‍্যাব ও আনসার মোতায়েন থাকবে। শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, ৮৭৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৬১টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তা মোকাবিলায় প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয়

নোয়াখালীতে কমিটি অনুমোদনের সাড়ে ৪ ঘণ্টার মধ্যে এনসিপি নেতার পদত্যাগ

নোয়াখালীতে ৮৭৫ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৬১টি ঝুঁকিপূর্ণ, উদ্বেগে ভোটাররা

প্রকাশিত: 08:45:49 am, Sunday, 8 February 2026

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে নোয়াখালী জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের মোট ৮৭৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৬১টিকে ঝুঁকিপূর্ণ (অতি গুরুত্বপূর্ণ) হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। এসব কেন্দ্রে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘোষণা সত্ত্বেও সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগ কাটেনি।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, জেলার সব ভোটকেন্দ্রই সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাড়তি পুলিশ, বিজিবি, সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে। জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ভোটারদের ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই বলে আশ্বস্ত করলেও বিশেষ করে নারী ভোটারদের মধ্যে কেন্দ্রে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভীতি ও সহিংসতার আশঙ্কা রয়ে গেছে।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, নোয়াখালী জেলায় মোট ভোটকেন্দ্র ৮৭৫টি। এর মধ্যে ৬১৪টি সাধারণ এবং ২৬১টি অতি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
নোয়াখালী-১ আসনে ১৪১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৮৮টি সাধারণ এবং ৫৩টি অতি গুরুত্বপূর্ণ।
নোয়াখালী-২ আসনে ১১১টি কেন্দ্রের মধ্যে ৭৩টি সাধারণ ও ৩৮টি অতি গুরুত্বপূর্ণ।
নোয়াখালী-৩ আসনে মোট ১৬৬টি কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ১০৬টি সাধারণ এবং ৬০টি অতি গুরুত্বপূর্ণ, যা ছয়টি আসনের মধ্যে সর্বাধিক।
নোয়াখালী-৪ আসনে ১৯৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৫৬টি সাধারণ এবং ৪২টি অতি গুরুত্বপূর্ণ।
নোয়াখালী-৫ আসনে ১৫৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ১০৪টি সাধারণ ও ৫১টি অতি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে।
অন্যদিকে, দ্বীপ উপজেলা হাতিয়া নিয়ে গঠিত নোয়াখালী-৬ আসনে মোট ১০৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ৮৭টি সাধারণ এবং মাত্র ১৭টি অতি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে, যা সর্বনিম্ন।
একাধিক ভোটারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ছয়টি আসনে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন ও স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ৪৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রচারণা জোরদার হলেও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোকে ঘিরে ভোটার, প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। অনেকেই ভোটের দিন ও আগের দিন সহিংসতার আশঙ্কা করছেন।
সংসদীয় আসনের একাধিক প্রার্থী অভিযোগ করে গণমাধ্যমকে বলেন, একটি দলের নেতাকর্মীরা ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করছে। নারীদের হেনস্তার ঘটনাও ঘটছে। পাশাপাশি উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে সাধারণ ভোটারদের ভয় দেখানো হচ্ছে। এসব বন্ধে নিরপেক্ষ ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
নোয়াখালী-৬ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেন, হাতিয়ায় পতিত সরকারের লোকজন একটি নির্দিষ্ট প্রতীকের পক্ষে কাজ করছে এবং ভোটারদের ভয় দেখানো হচ্ছে। এমনকি কেন্দ্রে এজেন্ট থাকতে পারবে না বলেও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
একই আসনের বিএনপির প্রার্থী মাহবুবুর রহমান শামীম বলেন, তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে এবং এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা রয়েছে। ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, তা প্রশাসনকে নিশ্চিত করতে হবে।
নির্বাচন নিরাপত্তায় নোয়াখালীতে অন্যান্য বাহিনীর পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করছে ফেনী ৪ বিজিবি ব্যাটালিয়ন। ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোশারফ জানান, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন ও ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করাই বিজিবির প্রধান লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে ১৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। টহল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স সক্রিয় থাকবে এবং সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে চেকপোস্ট ও তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
নোয়াখালীর পুলিশ সুপার টি. এম. মোশাররফ হোসেন বলেন, হাতিয়ায় নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডসহ পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি জেলার অন্যান্য পাঁচটি আসনে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‍্যাব ও আনসার মোতায়েন থাকবে। শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, ৮৭৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৬১টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তা মোকাবিলায় প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।