নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার পূর্ব চরবাটা ইউনিয়নের সেলিম বাজার ও কালাদুর এলাকায় মেঘনা নদীর ভাঙনরোধে চলমান জিও ব্যাগ ডাম্পিং প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে নদীর তীরে আয়োজিত মানববন্ধনে কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন। তারা অভিযোগ করেন, বরাদ্দ অনুমোদনের পরও দীর্ঘদিন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়নি। পরে যথাযথ নকশা অনুসরণ না করেই জিও ব্যাগ ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হলে এলাকাবাসী প্রতিবাদ জানায়।
মানববন্ধন থেকে দ্রুত প্রকল্পের কাজ শুরু, অনিয়মের তদন্ত এবং ভাঙনরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে পানিসম্পদমন্ত্রী, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শাহজাহানের হস্তক্ষেপ কামনা করেন স্থানীয়রা।
বক্তারা জানান, গত ১৭ মে পানিসম্পদমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য এলাকা পরিদর্শন করে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের আশ্বাস দেন। কিন্তু কাজ বাস্তবায়নে বিলম্ব হওয়ায় মেঘনার তীব্র ভাঙনে সেলিম বাজারের দক্ষিণাংশসহ বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে। ইতোমধ্যে বহু বসতভিটা, কৃষিজমি, গাছপালা ও স্থানীয় অবকাঠামো নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিশ্রুতির পরও কাজ শুরু হতে দেরি হওয়ায় প্রায় দেড় থেকে দুই কিলোমিটার এলাকা নতুন করে নদীগর্ভে চলে গেছে। এতে হাজার হাজার একর ফসলি জমি, বসতবাড়ি এবং সেলিম বাজার মারাত্মক ভাঙনঝুঁকিতে রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব চরবাটা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সেলিম বাজার ও সৈয়দপুর এলাকায় ৪০০ মিটার করে মোট ৮০০ মিটার নদীতীরে জিও ব্যাগ ফেলার কাজের কার্যাদেশ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোস্তফা অ্যান্ড সন্স। প্রতিষ্ঠানটির মালিক জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি শহীদুল ইসলাম কিরণ। তবে তার লাইসেন্স ব্যবহার করে জেলা বিএনপির অন্য দুই নেতার পক্ষে মো. ফরহাদ কাজ পরিচালনা করছেন বলে সূত্রের দাবি।
সূত্র আরও জানায়, কার্যাদেশ দেওয়া হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে প্রকল্পের নকশা সরবরাহ করা হয়নি। এর মধ্যেই পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত না করে নিজেদের উদ্যোগে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ার পর কাজ বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেয় পাউবো। পরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী পুনরায় কাজ শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মো. ফরহাদ বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের আগ্রহের কারণেই তারা কাজ শুরু করেছিলেন। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা কাজের মৌখিক নির্দেশনা দিলেও মূল নকশা তাদের দেওয়া হয়নি। বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় আপাতত কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রকল্প এলাকায় পল্টুন এনে নিয়ম অনুযায়ী পুনরায় কাজ শুরু করা হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম রেফাত জামিল বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন প্রকল্পের নকশা ছাড়াই নিজেদের মতো করে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করেছিলেন। স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর কাজ বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই প্রকল্পের নকশা অনুসরণ করে নতুন করে কাজ শুরু হবে বলে তিনি জানান।

