নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার ইসলাম চর সংলগ্ন নদীতে অবৈধভাবে ঘের নির্মাণ করে মাছ শিকারের অভিযোগে ১৭ জনকে আটক করেছে নলচিরা নৌ-পুলিশ ও বনবিভাগের যৌথ অভিযান দল।
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে ইসলাম চর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে আটক ব্যক্তিদের নলচিরা নৌ-ঘাটে আনা হয় এবং বুধবার (৬ আগস্ট) তাদের হাতিয়া থানায় সোপর্দ করা হয়।
অভিযান পরিচালনাকারী সূত্র জানায়, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১৭ জন প্রাপ্তবয়স্ক।
তারা নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের চর তরবালি এবং কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চর এলাহী ইউনিয়নের বাসিন্দা। এছাড়া পাঁচজন অপ্রাপ্তবয়স্ককে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
নৌ-পুলিশ ও নলচিরা বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বহিরাগত কিছু মৎস্যজীবী ইসলাম চর এলাকায় সংরক্ষিত বনের কেওড়া ও গেওয়া গাছ কেটে নদীতে অবৈধ ঘের তৈরি করে মাছ শিকার করছিলেন।
এসব ঘেরের কারণে বাল্কহেড, কার্গোসহ বিভিন্ন নৌযানের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছিল এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছিল। একই সঙ্গে নদীতে বালি ও পলি জমে নাব্যতা হ্রাস এবং স্থানীয় জেলেদের স্বাভাবিকভাবে মাছ ধরায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছিল।
নলচিরা রেঞ্জের বিট কর্মকর্তা বাবুল হক বলেন, “বহিরাগতরা সংরক্ষিত বনের কেওড়া ও গেওয়া গাছ কেটে নদীতে অবৈধ ঘের তৈরি করে মাছ শিকার করছিল। তাই তাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।”
নলচিরা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আশীষ চন্দ্র সাহা জানান, নদীতে অবৈধ ঘের নির্মাণের কারণে নৌযান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টির অভিযোগে তাদের আটক করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “অবৈধ চর ঘেরা জাল ও মৎস্য আইনের ৫(১) ধারায় মামলা দায়ের করে আটক ব্যক্তিদের হাতিয়া থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।”

