Dhaka , Wednesday, 28 October 2026
ব্রেকিং নিউজ :
fa fa-square হাতিয়ায় শিক্ষার্থীদের পাশে উপজেলা প্রশাসন, বিতরণ করল ৩০০ স্কুল ব্যাগ fa fa-square দাম্পত্য কলহের জেরে কোম্পানীগঞ্জ থানার গেটের সামনে দুই পক্ষের মারামারি, আটক ৫ fa fa-square নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৪০ fa fa-square সেনবাগে সবজি তুলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নারীর মৃত্যু, মেয়ে গুরুতর আহত fa fa-square হাতিয়ায় ১৫ লাখ টাকার অবৈধ পামওয়েল জব্দ fa fa-square সুবর্ণচরে পুকুরে গোসলে নেমে দুই বোনের মৃত্যু fa fa-square নোয়াখালীতে সেনাবাহিনীর পোশাকে প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি, স্বর্ণ-টাকা লুট fa fa-square নোয়াখালীতে সেনাবাহিনীর পোশাকে প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি, স্বর্ণ-টাকা লুট fa fa-square নোয়াখালীর কবিরহাটে দুই শতাধিক পাখিসহ আটক ২, অবমুক্ত শতাধিক fa fa-square সেনবাগে নিজ ঘর থেকে মুদি দোকানির অর্ধগলিত ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

রাজধানীতে সরবরাহ বাড়াতে নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুর ও ফেনীতে গ্যাস কমানো, টানা ৫-৬ দিন ধরে চরম সংকটে জনজীবন

রাজধানীতে গ্যাসের সরবরাহ বৃদ্ধি করায় নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ফেনীতে গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে টানা পাঁচ থেকে ছয় দিন ধরে তীব্র গ্যাস সংকটে ভুগছেন তিন জেলার বাসিন্দারা। অধিকাংশ বাসাবাড়িতে চুলা জ্বলছে না। একই সঙ্গে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতেও পর্যাপ্ত গ্যাস না থাকায় রান্না, যানবাহন চলাচলসহ দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় চরম ভোগান্তি তৈরি হয়েছে।

বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরে প্রতিদিন প্রায় ২৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা থাকলেও উৎপাদন কমে যাওয়ায় বর্তমানে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ১৩ থেকে ১৪ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে প্রয়োজনের অর্ধেকেরও কম গ্যাস পাওয়ায় সংকট আরও তীব্র হয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, আগামী সাত থেকে আট দিনের মধ্যেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতির সম্ভাবনা নেই।

ফেনী শহরের বাদশা মিয়া সড়কের বাসিন্দা ও প্রবীণ শিক্ষক নুরুল আমিন বলেন, কয়েক দিন ধরে গ্যাসের চাপ না থাকায় বাসায় রান্না করা যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে খাবার কিনে খেতে হচ্ছে।

একই ধরনের দুর্ভোগের কথা জানান পুরাতন রেজিস্ট্রি অফিস এলাকার হাজী হাবিবুর রহমান লেনের বাসিন্দা দিলরুবা আক্তার। তিনি বলেন, সারাদিন গ্যাস থাকে না বললেই চলে। মাঝেমধ্যে যে সামান্য গ্যাস আসে, তা দিয়ে রান্না করা সম্ভব হয় না।

বাখরাবাদ গ্যাসের কর্মকর্তারা জানান, শহরের প্রধান সরবরাহ লাইনে কিছুটা গ্যাস থাকলেও ভেতরের এলাকার লাইনে গ্যাসের চাপ প্রায় নেই। ফলে গ্রাহকদের অসংখ্য অভিযোগের মুখোমুখি হতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।

গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতেও। মঙ্গলবার রাতে ফেনীর মহিপাল এলাকায় কয়েক কিলোমিটারজুড়ে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক চালক গ্যাস পাননি।

লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অটোরিকশাচালক মো. মামুন বলেন, “সব স্টেশনেই একই অবস্থা। গ্যাস না পাওয়ায় অনেক চালক গাড়ি চালানো বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন।”

ফেনী স্টার লাইন সিএনজি স্টেশনের ব্যবস্থাপক বিপুল শর্মা জানান, গ্যাসের চাপ এতটাই কম যে অনেক চালক লাইনে দাঁড় করিয়ে রাখা গাড়িতেই রাত কাটাচ্ছেন।

বাখরাবাদ গ্যাসের উপমহাব্যবস্থাপক আখতারুজ্জামান বলেন, “চাহিদার প্রায় অর্ধেক গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। তাই তিন জেলার চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। আগামী সাত থেকে আট দিনেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম।”

বাখরাবাদ গ্যাসের মহাব্যবস্থাপক জাহিদ রেজা বলেন, “একদিকে গ্যাস উৎপাদন কমেছে, অন্যদিকে রাজধানীতে সংকট দেখা দেওয়ায় সেখানে সরবরাহ বাড়াতে হয়েছে। এ কারণে ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরে গ্যাসের সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে পরিস্থিতির দ্রুত উন্নয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।”

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয়

হাতিয়ায় শিক্ষার্থীদের পাশে উপজেলা প্রশাসন, বিতরণ করল ৩০০ স্কুল ব্যাগ

রাজধানীতে সরবরাহ বাড়াতে নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুর ও ফেনীতে গ্যাস কমানো, টানা ৫-৬ দিন ধরে চরম সংকটে জনজীবন

প্রকাশিত: 04:41:02 am, Thursday, 6 August 2026

রাজধানীতে গ্যাসের সরবরাহ বৃদ্ধি করায় নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ফেনীতে গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে টানা পাঁচ থেকে ছয় দিন ধরে তীব্র গ্যাস সংকটে ভুগছেন তিন জেলার বাসিন্দারা। অধিকাংশ বাসাবাড়িতে চুলা জ্বলছে না। একই সঙ্গে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতেও পর্যাপ্ত গ্যাস না থাকায় রান্না, যানবাহন চলাচলসহ দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় চরম ভোগান্তি তৈরি হয়েছে।

বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরে প্রতিদিন প্রায় ২৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা থাকলেও উৎপাদন কমে যাওয়ায় বর্তমানে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ১৩ থেকে ১৪ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে প্রয়োজনের অর্ধেকেরও কম গ্যাস পাওয়ায় সংকট আরও তীব্র হয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, আগামী সাত থেকে আট দিনের মধ্যেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতির সম্ভাবনা নেই।

ফেনী শহরের বাদশা মিয়া সড়কের বাসিন্দা ও প্রবীণ শিক্ষক নুরুল আমিন বলেন, কয়েক দিন ধরে গ্যাসের চাপ না থাকায় বাসায় রান্না করা যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে খাবার কিনে খেতে হচ্ছে।

একই ধরনের দুর্ভোগের কথা জানান পুরাতন রেজিস্ট্রি অফিস এলাকার হাজী হাবিবুর রহমান লেনের বাসিন্দা দিলরুবা আক্তার। তিনি বলেন, সারাদিন গ্যাস থাকে না বললেই চলে। মাঝেমধ্যে যে সামান্য গ্যাস আসে, তা দিয়ে রান্না করা সম্ভব হয় না।

বাখরাবাদ গ্যাসের কর্মকর্তারা জানান, শহরের প্রধান সরবরাহ লাইনে কিছুটা গ্যাস থাকলেও ভেতরের এলাকার লাইনে গ্যাসের চাপ প্রায় নেই। ফলে গ্রাহকদের অসংখ্য অভিযোগের মুখোমুখি হতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।

গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতেও। মঙ্গলবার রাতে ফেনীর মহিপাল এলাকায় কয়েক কিলোমিটারজুড়ে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক চালক গ্যাস পাননি।

লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অটোরিকশাচালক মো. মামুন বলেন, “সব স্টেশনেই একই অবস্থা। গ্যাস না পাওয়ায় অনেক চালক গাড়ি চালানো বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন।”

ফেনী স্টার লাইন সিএনজি স্টেশনের ব্যবস্থাপক বিপুল শর্মা জানান, গ্যাসের চাপ এতটাই কম যে অনেক চালক লাইনে দাঁড় করিয়ে রাখা গাড়িতেই রাত কাটাচ্ছেন।

বাখরাবাদ গ্যাসের উপমহাব্যবস্থাপক আখতারুজ্জামান বলেন, “চাহিদার প্রায় অর্ধেক গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। তাই তিন জেলার চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। আগামী সাত থেকে আট দিনেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম।”

বাখরাবাদ গ্যাসের মহাব্যবস্থাপক জাহিদ রেজা বলেন, “একদিকে গ্যাস উৎপাদন কমেছে, অন্যদিকে রাজধানীতে সংকট দেখা দেওয়ায় সেখানে সরবরাহ বাড়াতে হয়েছে। এ কারণে ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরে গ্যাসের সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে পরিস্থিতির দ্রুত উন্নয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।”