Dhaka , Friday, 30 October 2026
ব্রেকিং নিউজ :
fa fa-square কোম্পানীগঞ্জে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান: ৩০ কেজি মাছ ও অবৈধ জাল উদ্ধার, ৫ জেলের জরিমানা fa fa-square সোনাইমুড়ীতে দেশীয় বন্দুক এবং অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামসহ কারিগর গ্রেপ্তার fa fa-square নোয়াখালীতে ফ্ল্যাটবাড়ি দখল ও হামলার অভিযোগ সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে fa fa-square প্রতারণা করে ৪৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে, রাঙ্গুনিয়ার যুবক আশরাফুলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি- fa fa-square কোম্পানীগঞ্জে বছরজুড়ে মেলা, চাপে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা: অনুমতি ও রাজস্ব আদায় নিয়ে প্রশ্ন fa fa-square বসুরহাটে বাসার তালা অক্ষত, আলমারি ভেঙে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা চুরির অভিযোগ fa fa-square নোয়াখালীতে ডিবির অভিযানে দেড় কেজি গাঁজাসহ একজন গ্রেপ্তার fa fa-square ২৮ অক্টোবর পল্টন ট্র্যাজেডি স্মরণে কোম্পানীগঞ্জে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত, fa fa-square নোয়াখালীতে কমিটি অনুমোদনের সাড়ে ৪ ঘণ্টার মধ্যে এনসিপি নেতার পদত্যাগ fa fa-square নোয়াখালীতে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

প্রতারণা করে ৪৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে, রাঙ্গুনিয়ার যুবক আশরাফুলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি-

ইউরোপের ভিসা প্রসেসিংয়ের জন্য ৪৫ লাখ টাকা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার আশরাফুল হক (৩৬) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির তথ্য জানিয়েছেন অভিযোগকারী নুর আরসোয়ালা (৩২)।

তিনি নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সিরাজপুর এলাকার বাসিন্দা এবং ঢাকার পল্টনে অবস্থিত ‘ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ড্রিম ট্রাভেলস অ্যান্ড কনসালটেন্সি’ প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান।

অভিযোগকারীর দাবি, ব্যবসায়িক অংশীদার হিসেবে ইউরোপের ভিসা প্রসেসিংয়ের দায়িত্ব দিয়ে আশরাফুল হকের কাছে ৪৫ লাখ টাকা রাখা হয়েছিল। তবে নির্ধারিত কাজ সম্পন্ন না করে তিনি যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এ ঘটনায় প্রথমে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ এবং পরে আদালতের শরণাপন্ন হন নুর আরসোয়ালা।

থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আশরাফুল হক সংশ্লিষ্ট ট্রাভেল এজেন্সির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। ইউরোপের ভিসা প্রসেসিংয়ের জন্য ২০২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি তাঁর কাছে ৪৫ লাখ টাকা রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন নুর আরসোয়ালা।

অভিযোগে বলা হয়, আশরাফুল হক নিজের বাড়িতে যাওয়ার পর কয়েক দিন যোগাযোগ থাকলেও ২০২৫ সালের ২৪ আগস্টের পর থেকে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। পরে ভিসা প্রসেসিংয়ের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে কাজ সম্পন্ন না হওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন বলে দাবি করেন অভিযোগকারী।

নুর আরসোয়ালার অভিযোগ, যোগাযোগ করতে না পেরে ২০২৫ সালের ৫ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে তিনি প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার হোসনাবাদ ইউনিয়নের দক্ষিণ খিলমোগল এলাকায় আশরাফুল হকের বাড়িতে যান। সেখানে পাওনা টাকা চাইলে তাঁকে ও তাঁর সঙ্গীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

নুর আরসোয়ালা জানান, ইউরোপে যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে একাধিক গ্রাহক তাঁর ওপর আস্থা রেখে অর্থ দিয়েছিলেন। কিন্তু অর্থ ফেরত না পাওয়ার ঘটনায় তিনি আর্থিকভাবে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েন এবং গ্রাহকদের কাছে নিজের প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও সংকটে পড়েন।

তিনি বলেন, “গ্রাহকেরা আমার ওপর বিশ্বাস রেখে তাঁদের স্বপ্ন পূরণের জন্য ৪৫ লাখ টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু আমার ব্যবসায়িক অংশীদারের বিরুদ্ধে ওঠা প্রতারণার অভিযোগের কারণে আমি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি এবং গ্রাহকদের আস্থার সংকটে পড়েছি। তাঁদের টাকা ফেরত দিতে স্ত্রীর গহনা ও ব্যক্তিগত সম্পদ বিক্রি করে অর্থ পরিশোধের চেষ্টা করেছি।”

তিনি আরও জানান, পাওনা অর্থ আদায় এবং ঘটনার প্রতিকার চেয়ে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।

নুর আরসোয়ালার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযোগটি আদালত আমলে নেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালিত হয়। পরবর্তী সময়ে ঢাকা মহানগরের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক ২০২৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর আশরাফুল হকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন বলে তিনি দাবি করেন।

তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২১ সেপ্টেম্বর পরোয়ানাটি কার্যকর করার জন্য রাঙ্গুনিয়া থানায় পাঠানো হয়।

নুর আরসোয়ালা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, গ্রাহকদের পাওনা অর্থ ফেরত এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয়

কোম্পানীগঞ্জে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান: ৩০ কেজি মাছ ও অবৈধ জাল উদ্ধার, ৫ জেলের জরিমানা

প্রতারণা করে ৪৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে, রাঙ্গুনিয়ার যুবক আশরাফুলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি-

প্রকাশিত: 06:17:16 pm, Thursday, 29 October 2026

ইউরোপের ভিসা প্রসেসিংয়ের জন্য ৪৫ লাখ টাকা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার আশরাফুল হক (৩৬) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির তথ্য জানিয়েছেন অভিযোগকারী নুর আরসোয়ালা (৩২)।

তিনি নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সিরাজপুর এলাকার বাসিন্দা এবং ঢাকার পল্টনে অবস্থিত ‘ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ড্রিম ট্রাভেলস অ্যান্ড কনসালটেন্সি’ প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান।

অভিযোগকারীর দাবি, ব্যবসায়িক অংশীদার হিসেবে ইউরোপের ভিসা প্রসেসিংয়ের দায়িত্ব দিয়ে আশরাফুল হকের কাছে ৪৫ লাখ টাকা রাখা হয়েছিল। তবে নির্ধারিত কাজ সম্পন্ন না করে তিনি যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এ ঘটনায় প্রথমে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ এবং পরে আদালতের শরণাপন্ন হন নুর আরসোয়ালা।

থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আশরাফুল হক সংশ্লিষ্ট ট্রাভেল এজেন্সির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। ইউরোপের ভিসা প্রসেসিংয়ের জন্য ২০২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি তাঁর কাছে ৪৫ লাখ টাকা রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন নুর আরসোয়ালা।

অভিযোগে বলা হয়, আশরাফুল হক নিজের বাড়িতে যাওয়ার পর কয়েক দিন যোগাযোগ থাকলেও ২০২৫ সালের ২৪ আগস্টের পর থেকে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। পরে ভিসা প্রসেসিংয়ের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে কাজ সম্পন্ন না হওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন বলে দাবি করেন অভিযোগকারী।

নুর আরসোয়ালার অভিযোগ, যোগাযোগ করতে না পেরে ২০২৫ সালের ৫ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে তিনি প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার হোসনাবাদ ইউনিয়নের দক্ষিণ খিলমোগল এলাকায় আশরাফুল হকের বাড়িতে যান। সেখানে পাওনা টাকা চাইলে তাঁকে ও তাঁর সঙ্গীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

নুর আরসোয়ালা জানান, ইউরোপে যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে একাধিক গ্রাহক তাঁর ওপর আস্থা রেখে অর্থ দিয়েছিলেন। কিন্তু অর্থ ফেরত না পাওয়ার ঘটনায় তিনি আর্থিকভাবে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েন এবং গ্রাহকদের কাছে নিজের প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও সংকটে পড়েন।

তিনি বলেন, “গ্রাহকেরা আমার ওপর বিশ্বাস রেখে তাঁদের স্বপ্ন পূরণের জন্য ৪৫ লাখ টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু আমার ব্যবসায়িক অংশীদারের বিরুদ্ধে ওঠা প্রতারণার অভিযোগের কারণে আমি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি এবং গ্রাহকদের আস্থার সংকটে পড়েছি। তাঁদের টাকা ফেরত দিতে স্ত্রীর গহনা ও ব্যক্তিগত সম্পদ বিক্রি করে অর্থ পরিশোধের চেষ্টা করেছি।”

তিনি আরও জানান, পাওনা অর্থ আদায় এবং ঘটনার প্রতিকার চেয়ে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।

নুর আরসোয়ালার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযোগটি আদালত আমলে নেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালিত হয়। পরবর্তী সময়ে ঢাকা মহানগরের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক ২০২৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর আশরাফুল হকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন বলে তিনি দাবি করেন।

তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২১ সেপ্টেম্বর পরোয়ানাটি কার্যকর করার জন্য রাঙ্গুনিয়া থানায় পাঠানো হয়।

নুর আরসোয়ালা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, গ্রাহকদের পাওনা অর্থ ফেরত এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।