নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার কিসমত করিমপুর এলাকার রাবেয়া হাসপাতালের পাশের একটি আবাসিক ভবনে অভিযান চালিয়ে পর্নোগ্রাফিক ভিডিও তৈরির অভিযোগে স্বামী-স্ত্রী, তাদের দুই ছেলে এবং আরও একজনসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় বিভিন্ন জেলা থেকে চাকরির প্রলোভনে এনে আটকে রাখা চার তরুণীকে উদ্ধার করা হয়।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেলে গ্রেপ্তার আসামিদের নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. সালাউদ্দিন বিপ্লব, তার স্ত্রী পারভিন আক্তার, দুই ছেলে ফাহাদ হাসান ও আরাফাত ইয়াসিন ফাহিম এবং আব্দুর রহিম। তাদের বাড়ি কুমিল্লার হোমনা উপজেলায় হলেও দীর্ঘদিন ধরে নোয়াখালীতে ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া তরুণীদের একজন গোপনে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে সাহায্য চান। সেই তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ভিডিও ধারণের ক্যামেরা, ছয়টি মোবাইল ফোন, একটি চাবুক, একটি ছুরি, একটি কাঁচি এবং নগদ ১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা জব্দ করা হয়।
উদ্ধার হওয়া এক তরুণী বেগমগঞ্জ মডেল থানায় ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, এক বান্ধবীর মাধ্যমে সালাউদ্দিন বিপ্লবের সঙ্গে পরিচয়ের পর পার্লারে চাকরির আশ্বাসে গত ২ আগস্ট তিনি চৌমুহনীতে আসেন। পরে তাকে একটি বাসায় নিয়ে আটকে রাখা হয়, মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং জোরপূর্বক যৌন কাজে বাধ্য করার পাশাপাশি পর্নোগ্রাফিক ভিডিও ধারণ করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ধারণ করা ভিডিওগুলো একটি অনলাইন অ্যাপের মাধ্যমে সম্প্রচার করে অর্থ উপার্জন করা হতো। একই বাসায় আরও কয়েকজন তরুণীকে দীর্ঘদিন ধরে আটকে রাখা হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। প্রতিবাদ করলে তাদের শারীরিক নির্যাতন করা হতো বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
বেগমগঞ্জ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হাবীবুর রহমান বলেন, গ্রেপ্তারদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। উদ্ধার হওয়া তরুণীদের আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

