নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর বাজার এলাকায় পুরোনো একটি ভবনে লিফট স্থাপনের কাজ নিয়ে নিরাপত্তা ও অনুমোদন সংক্রান্ত প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌরসভা ও প্রচলিত ইমারত নির্মাণবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ না করেই ভবনটিতে লিফট স্থাপনের কাজ করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পুবালী ব্যাংক হিসেবে ব্যবহৃত ভবনটিতে লিফট স্থাপনের কাজ চলছে। ভবনটির মালিক হিসেবে মোতালেব কন্ট্রাক্টর-এর নাম উল্লেখ করেছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ রয়েছে, পুরোনো ভবনটির মূল কাঠামো ও ভিত্তির সক্ষমতা যথাযথভাবে যাচাই না করে সাধারণ ব্রিক ফাউন্ডেশনের ওপর লিফট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে ভবনটির কাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আশপাশের ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা। কেউ কেউ বিষয়টিকে ব্যঙ্গ করে ‘লিফট নয়, চলন্ত কফিন’ বলেও মন্তব্য করেছেন।
তবে ভবনটির কাঠামোগত সক্ষমতা, লিফটের নকশা, ফাউন্ডেশনের ধরন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন রয়েছে কি না, তা সরেজমিন কারিগরি পরীক্ষা ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
আইনে কী বলা আছে?
বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (BNBC) ২০২০ অনুযায়ী, কোডের আওতাভুক্ত কোনো ভবন নির্মাণ, সম্প্রসারণ, পরিবর্তন, সংস্কার বা কাঠামোগত পরিবর্তনের কাজ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া করা যাবে না।
এ ছাড়া ইমারত নির্মাণ আইন, ১৯৫২ অনুযায়ী অনুমোদন ছাড়া কোনো ভবন নির্মাণ, পুনর্নির্মাণ কিংবা ভবনে সংযোজন বা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিতে পারে। আইনের ৩বি ধারায় অনুমোদন ছাড়া বা অনুমোদনের শর্ত ভঙ্গ করে নির্মাণ/পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কারণ দর্শানোর নোটিশ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।
আইনের ১২ ধারায় আইন বা বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোডের বিধান লঙ্ঘনের জন্য সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, অন্যূন ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। আদালতের নির্দেশে বেআইনি নির্মাণ বা নির্মাণের অংশবিশেষ অপসারণের ব্যবস্থাও হতে পারে।
এদিকে বিদ্যমান ভবনে কাঠামোগত পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ভবনের ভিত্তি ও কাঠামোর সক্ষমতা যাচাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি বিধিমালায় বিদ্যমান ভবনের ক্ষেত্রে ফাউন্ডেশন ও কাঠামোগত নকশা সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী প্রকৌশলীর মাধ্যমে পরীক্ষা ও প্রত্যয়নের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।
পৌর কর্তৃপক্ষের বক্তব্য-
বিষয়টি নিয়ে বসুরহাট পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি জানান, “বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। আপনার মাধ্যমে জানতে পেরেছি। আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নেব।”
স্থানীয়দের দাবি, বাজারের প্রাণকেন্দ্রে জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের কাজ হলে ভবনটির নকশা, অনুমোদন, কাঠামোগত সক্ষমতা এবং লিফট স্থাপনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
তাদের প্রশ্ন, পুরোনো ভবনে লিফট স্থাপনের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়া হয়েছে কি না এবং ভবনটির ভিত্তি ও কাঠামো লিফটের অতিরিক্ত ভার বহনে সক্ষম কি না—তা কি যথাযথভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে?
এ বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষের দ্রুত সরেজমিন পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় কারিগরি যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


নিজস্ব প্রতিবেদক 



















