নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে সৃষ্ট আগুন নেভাতে গিয়ে দগ্ধ হওয়া মো. সোহাগ (৪৩) মারা গেছেন। ঢাকার বার্ন ইউনিটে সাত দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার (১০ অক্টোবর) ভোরে তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত সোহাগ উপজেলার নদনা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব কালুয়াই গ্রামের সুলতান চকিদার বাড়ির মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফার ছেলে। তিনি তিন ছেলে ও এক মেয়ের জনক ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সোহাগের দূরসম্পর্কের চাচাতো ভাই সালাউদ্দিনের বসতঘরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে আগুন লাগে। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে বাড়ির ছয়টি ঘর পুড়ে যায়।
আগুন লাগার খবর পেয়ে অন্যদের সঙ্গে সোহাগও আগুন নেভাতে এগিয়ে যান। একপর্যায়ে সালাউদ্দিনের ঘর থেকে গ্যাস সিলিন্ডার বের করার সময় তিনি দগ্ধ হন। এতে তাঁর শরীরের প্রায় ৭০ শতাংশ পুড়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকার বার্ন ইউনিট হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাত দিন পর তাঁর মৃত্যু হয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আজগর হোসেন সহেল বলেন, সোহাগ বেকার ছিলেন এবং খুব অসহায় অবস্থায় জীবনযাপন করতেন। তাঁর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সোনাইমুড়ী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ডিউটি অফিসার ফায়ার ফাইটার নোমান হোসেন জানান, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ওই দিন ছয়টি ঘর পুড়ে যায়। আগুন লাগার পর সোহাগও অন্যদের সঙ্গে তা নেভানোর কাজে অংশ নেন। একপর্যায়ে ঘর থেকে গ্যাস সিলিন্ডার বের করতে গিয়ে তিনি দগ্ধ হন।
সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোহাগের মৃত্যুর খবর তাঁর স্বজনেরা পুলিশকে জানিয়েছেন। তাঁরা ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ নেওয়ার আবেদন করেছেন। এ বিষয়ে থানা থেকে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেশীর ঘরে লাগা আগুন নেভাতে গিয়ে সোহাগের এমন মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের আবহ বিরাজ করছে।


সোনাইমুড়ি উপজেলা প্রতিনিধি- 





















