Dhaka , Sunday, 11 October 2026
ব্রেকিং নিউজ :
fa fa-square নোয়াখালীতে কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী ‘কাচারি ঘর’ fa fa-square নোয়াখালীতে প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ, মামলা প্রক্রিয়াধীন fa fa-square সোনাইমুড়ীতে প্রতিবেশীর ঘর বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারালেন সোহাগ fa fa-square কোম্পানীগঞ্জ থানা আকস্মিক পরিদর্শন করলেন নোয়াখালীর পুলিশ সুপার। fa fa-square কোম্পানীগঞ্জে মাদক, কিশোর গ্যাং ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে চরকাঁকড়া ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল fa fa-square কবিরহাটে ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ, সমাজকর্মীর বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি fa fa-square সেনবাগে এসিডজাতীয় রাসায়নিক পান করে যুবকের মৃত্যু fa fa-square সেনবাগে ইঁদুর মারার বৈদ্যুতিক ফাঁদে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কৃষকের মৃত্যু fa fa-square নোয়াখালী টাইমস’র বার্তা সম্পাদক হলেন আবদুল আজিজ সায়েম fa fa-square বিশ্ব শিক্ষক দিবসে সমাবেশে যোগ দিতে কোম্পানীগঞ্জের শিক্ষকদের ঢাকা যাত্রা

সোনাইমুড়ীতে প্রতিবেশীর ঘর বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারালেন সোহাগ

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে সৃষ্ট আগুন নেভাতে গিয়ে দগ্ধ হওয়া মো. সোহাগ (৪৩) মারা গেছেন। ঢাকার বার্ন ইউনিটে সাত দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার (১০ অক্টোবর) ভোরে তাঁর মৃত্যু হয়।

নিহত সোহাগ উপজেলার নদনা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব কালুয়াই গ্রামের সুলতান চকিদার বাড়ির মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফার ছেলে। তিনি তিন ছেলে ও এক মেয়ের জনক ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সোহাগের দূরসম্পর্কের চাচাতো ভাই সালাউদ্দিনের বসতঘরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে আগুন লাগে। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে বাড়ির ছয়টি ঘর পুড়ে যায়।

আগুন লাগার খবর পেয়ে অন্যদের সঙ্গে সোহাগও আগুন নেভাতে এগিয়ে যান। একপর্যায়ে সালাউদ্দিনের ঘর থেকে গ্যাস সিলিন্ডার বের করার সময় তিনি দগ্ধ হন। এতে তাঁর শরীরের প্রায় ৭০ শতাংশ পুড়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকার বার্ন ইউনিট হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাত দিন পর তাঁর মৃত্যু হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আজগর হোসেন সহেল বলেন, সোহাগ বেকার ছিলেন এবং খুব অসহায় অবস্থায় জীবনযাপন করতেন। তাঁর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সোনাইমুড়ী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ডিউটি অফিসার ফায়ার ফাইটার নোমান হোসেন জানান, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ওই দিন ছয়টি ঘর পুড়ে যায়। আগুন লাগার পর সোহাগও অন্যদের সঙ্গে তা নেভানোর কাজে অংশ নেন। একপর্যায়ে ঘর থেকে গ্যাস সিলিন্ডার বের করতে গিয়ে তিনি দগ্ধ হন।

সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোহাগের মৃত্যুর খবর তাঁর স্বজনেরা পুলিশকে জানিয়েছেন। তাঁরা ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ নেওয়ার আবেদন করেছেন। এ বিষয়ে থানা থেকে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেশীর ঘরে লাগা আগুন নেভাতে গিয়ে সোহাগের এমন মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের আবহ বিরাজ করছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয়

নোয়াখালীতে কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী ‘কাচারি ঘর’

সোনাইমুড়ীতে প্রতিবেশীর ঘর বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারালেন সোহাগ

প্রকাশিত: 06:50:58 pm, Saturday, 10 October 2026

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে সৃষ্ট আগুন নেভাতে গিয়ে দগ্ধ হওয়া মো. সোহাগ (৪৩) মারা গেছেন। ঢাকার বার্ন ইউনিটে সাত দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার (১০ অক্টোবর) ভোরে তাঁর মৃত্যু হয়।

নিহত সোহাগ উপজেলার নদনা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব কালুয়াই গ্রামের সুলতান চকিদার বাড়ির মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফার ছেলে। তিনি তিন ছেলে ও এক মেয়ের জনক ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সোহাগের দূরসম্পর্কের চাচাতো ভাই সালাউদ্দিনের বসতঘরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে আগুন লাগে। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে বাড়ির ছয়টি ঘর পুড়ে যায়।

আগুন লাগার খবর পেয়ে অন্যদের সঙ্গে সোহাগও আগুন নেভাতে এগিয়ে যান। একপর্যায়ে সালাউদ্দিনের ঘর থেকে গ্যাস সিলিন্ডার বের করার সময় তিনি দগ্ধ হন। এতে তাঁর শরীরের প্রায় ৭০ শতাংশ পুড়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকার বার্ন ইউনিট হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাত দিন পর তাঁর মৃত্যু হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আজগর হোসেন সহেল বলেন, সোহাগ বেকার ছিলেন এবং খুব অসহায় অবস্থায় জীবনযাপন করতেন। তাঁর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সোনাইমুড়ী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ডিউটি অফিসার ফায়ার ফাইটার নোমান হোসেন জানান, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ওই দিন ছয়টি ঘর পুড়ে যায়। আগুন লাগার পর সোহাগও অন্যদের সঙ্গে তা নেভানোর কাজে অংশ নেন। একপর্যায়ে ঘর থেকে গ্যাস সিলিন্ডার বের করতে গিয়ে তিনি দগ্ধ হন।

সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোহাগের মৃত্যুর খবর তাঁর স্বজনেরা পুলিশকে জানিয়েছেন। তাঁরা ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ নেওয়ার আবেদন করেছেন। এ বিষয়ে থানা থেকে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেশীর ঘরে লাগা আগুন নেভাতে গিয়ে সোহাগের এমন মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের আবহ বিরাজ করছে।